ক.
যে অমাধ্যম অবরোহ অনুমানে আশ্রয়বাক্যের অর্থ অপরিবর্তিত রেখে গুণের পরিবর্তন করে এবং বিধেয় হিসেবে গ্রহণ করে সিদ্ধান্তে অনুমিত হয় তাকে প্রতিবর্তন বলে।
খ.
সহানুমানে দুটি আশ্রয়বাক্য নঞর্থক হলে তার থেকে কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া সম্ভব নয়।
একটি নঞর্থক যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের মধ্যকার সম্পর্ককে অস্বীকার করা হয়। একটি সহানুমানের দুটি আশ্রয়বাক্যই যদি নঞর্থক হয় তাহলে বুঝতে হবে যে, প্রধান এবং অপ্রধান তাদের কোনোটির সাথেই মধ্যপদের কোনো সম্পর্ক নেই। কাজেই মধ্যস্থতার অভাবে প্রধান পদ ও অপ্রধান পদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক স্থাপন সম্ভব হয় না।
গ.
যুক্তি-১ এর মাধ্যমে অমাধ্যম অনুমানের প্রকারভেদ প্রতিবর্তন নির্দেশিত হয়েছে।
যুক্তি-১ এ বর্ণিত, 'কিছু মানুষ নয় যুক্তিবাদী' এই আশ্রয়বাক্য থেকে 'কিছু মানুষ হয় অযুক্তিবাদী' এই সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এখানে আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের অর্থ অপরিবর্তিত রয়েছে কিন্তু গুণের পরিবর্তন হয়েছে। আর আশ্রয়বাক্যের বিধেয় পদের বিরুদ্ধ পদ সিদ্ধান্তে বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। তাই যুক্তি-১ এর মাধ্যমে অমাধ্যম অনুমানের প্রকারভেদ প্রতিবর্তন নির্দেশিত হয়েছে। কেননা যে অমাধ্যম অবরোহ অনুমানে আশ্রয়বাক্যের অর্থ অপরিবর্তিত রেখে আশ্রয়বাক্যের গুণের পরিবর্তন করে এবং আশ্রয়বাক্যের বিধেয় পদের বিরুদ্ধ পদকে বিধেয় হিসেবে ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত অনুমিত হয় তাকে প্রতিবর্তন বলে।
প্রতিবর্তনের চারটি নিয়ম রয়েছে। যথা- ১. আশ্রয়বাক্যের উদ্দেশ্য পদ সিদ্ধান্তে উদ্দেশ্য পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ২. আশ্রয়বাক্যের বিধেয় পদের বিরুদ্ধ পদ সিদ্ধান্তে বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ৩. আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের গুণ ভিন্ন হয় এবং ৪. আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের পরিমাণ অভিন্ন থাকবে। অর্থাৎ, আশ্রয়বাক্য সার্বিক হলে সিদ্ধান্তও সার্বিক হবে এবং আশ্রয়বাক্য বিশেষ হলে সিদ্ধান্তও বিশেষ হবে।
ঘ.
উদ্দীপকের যুক্তি-২ এর আবর্তনটি বৈধ নয়। কেননা এখানে আবর্তনের নিয়ম লঙ্ঘন করে 'O' যুক্তিবাক্যের আবর্তন, করা হয়েছে।
যে অমাধ্যম অবরোহ অনুমানে আশ্রয়বাক্যের গুণের পরিবর্তন না করে আশ্রয়বাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদের ন্যায়সংগতভাবে, স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত অনুমিত হয় তাকে আবর্তন বলে। আবর্তনের ক্ষেত্রে আশ্রয়বাক্যের উদ্দেশ্য পদ সিদ্ধান্তে বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আর আশ্রয়বাক্যের বিধেয় পদ সিদ্ধান্তে উদ্দেশ্য পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের গুণ একই হয়। আর আশ্রয়বাক্যের কোনো অব্যাপ্য পদ সিদ্ধান্তে গিয়ে ব্যাপ্য হতে পারে না।
উদ্দীপকের যুক্তি-২ এ 'কিছু মানুষ নয় যুক্তিবাদী' এই আশ্রয়বাক্য থেকে 'কিছু যুক্তিবাদী নয় মানুষ'- এই সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এখানে আশ্রয়বাক্যের অব্যাপ্য উদ্দেশ্য পদ সিদ্ধান্তে বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং ব্যাপ্য হয়েছে। অথচ আবর্তনের নিয়ম অনুযায়ী আশ্রয়বাক্যের কোনো অব্যাপ্য পদ সিদ্ধান্তে গিয়ে ব্যাপ্য হতে পারে না। তাই যুক্তি-২ এ আবর্তনের নিয়ম লঙ্ঘিত হয়েছে।
যেহেতু যুক্তি-২ এ আবর্তনের নিয়ম লঙ্ঘন করে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে, তাই যুক্তি-২ এ উপস্থাপিত যুক্তিটি যথার্থ নয়।