ক.
যেসব পদ কোনো বিষয় বা বস্তুর নাম না বুঝিয়ে স্বতন্ত্রভাবে তাদের গুণ নির্দেশ করে তাকে গুণবাচক পদ বলে। যেমন- মনুষ্যত্ব, সাদাত্ব, সততা ইত্যাদি গুণবাচক পদ; কারণ এদের প্রত্যেকটি একেকটি গুণের নাম।
খ.
পদ ও শব্দের মধ্যে বিভিন্ন দিক দিয়ে পার্থক্য রয়েছে। এদের মধ্যে দুটি পার্থক্য হলো-
১. শব্দ গঠিত হয় বর্ণ বা বর্ণের সমষ্টি দ্বারা। অপরপক্ষে, পদ গঠিত হয় শব্দ বা শব্দসমষ্টি দ্বারা।
২. কোনো একটি শব্দ বিভিন্ন রকম অর্থ বহন করতে পারে। অপরপক্ষে, পদ সবসময় একটি নির্দিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে।
গ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত বক্তব্যে পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থ নির্দেশিত হয়েছে।
কোনো একটি পদের দুটি দিক থাকে। একটি হলো পদের সংখ্যা বা পরিমাণগত দিক এবং অন্যটি হলো পদের গুণগত দিক। পদের সংখ্যাগত দিককে বলা হয় ব্যক্ত্যর্থ। অর্থাৎ কোনো একটি পদ একই অর্থে যে বস্তু বা বস্তুসমূহের ওপর প্রযোজ্য হয় তাকে ওই পদের ব্যক্ত্যর্থ বলে। তাই ব্যক্ত্যর্থ হলো একটি পদের ব্যাপ্তি বা বিস্তৃতির দিক। যেমন- 'মানুষ' পদের ব্যাপ্তি হলো অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যতের সব মানুষ। তাই মানুষ পদের ব্যক্ত্যর্থ হলো সকল মানুষ। আর পদের গুণগত দিককে বলা হয় জাত্যর্থ। অর্থাৎ কোনো একটি পদ যে আবশ্যিক বা সাধারণ গুণাবলি প্রকাশ করে তাকে ওই পদের জাত্যর্থ বলে। তাই জাত্যর্থ হলো কোনো পদের অপরিহার্য ও সাধারণ গুণাবলি। যেমন- 'মানুষ' পদের অপরিহার্য বা আবশ্যিক গুণাবলি হলো- জীববৃত্তি + বুদ্ধিবৃত্তি। তাই মানুষ পদের জাত্যর্থ হলো 'জীববৃত্তি' ও 'বুদ্ধিবৃত্তি'। উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ শিক্ষক তার বক্তব্যে কোনো জাতি সম্পর্কে জানতে যেমন তার সংখ্যার দিক জানার প্রয়োজন, তেমনি সে জাতি বা শ্রেণির সাধারণ বা আবশ্যিক গুণের দিকটিও জানা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছেন। এখানে তিনি পদের সংখ্যাগত ও গুণগত এই দুটি দিকের উল্লেখ করেছেন। আর পদের সংখ্যাগত ও গুণগত দিক দ্বারা ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থকে বোঝায়। সুতরাং শাহানাজ ম্যাডাম বক্তব্যের মাধ্যমে পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থ নির্দেশিত হয়েছে।
ঘ.
উদ্দীপকের বিষয়টি পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের হ্রাসবৃদ্ধির সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটেছে।
ব্যক্ত্যর্থ হলো কোনো একটি পদের সংখ্যা বা পরিমাণগত দিক। আর জাত্যর্থ হলো পদের গুণগত দিক। এদের বিপরীত সম্পর্কের চারটি নিয়মসহ ব্যাখ্যা করা হলো-
১. কোনো পদের ব্যক্ত্যর্থ বাড়লে জাত্যর্থ কমে: যদি কোনো পদের ব্যক্ত্যর্থ অর্থাৎ পরিমাণগত দিক বাড়ানো হয় তবে অনিবার্যভাবে জাত্যর্থ কমে যায়। যেমন- 'মানুষ' পদটির ব্যক্ত্যর্থ হলো 'সকল মানুষ' এবং জাত্যর্থ হলো 'জীববৃত্তি' ও 'বুদ্ধিবৃত্তি'। এখন পদটির ব্যক্ত্যর্থ বাড়ানোর জন্য এর সাথে অন্যান্য জীব যোগ করলে ব্যক্ত্যর্থ হবে 'সকল জীব'। অর্থাৎ পরিমাণগত দিক থেকে পদটির ব্যাপ্তি বেড়ে যাবে। কিন্তু এতে করে জাত্যর্থ জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি থেকে বুদ্ধিবৃত্তি বাদ পড়ে যাবে এবং নতুন জাত্যর্থ হবে শুধু জীববৃত্তি।
২. কোনো পদের ব্যক্ত্যর্থ কমলে জাত্যর্থ বাড়ে: যদি কোনো পদের ব্যক্ত্যর্থ কমানো হয় তাহলে উক্ত পদের জাত্যর্থ নিশ্চিতভাবে বেড়ে যায়। 'মানুষ' পদ থেকে 'শিক্ষিত মানুষ' আলাদা করে নিলে ব্যক্ত্যর্থ কমে যায় এবং জাত্যর্থ বেড়ে যায়। কারণ 'মানুষ' পদের ব্যক্ত্যর্থ 'সকল মানুষ' থেকে 'সকল অশিক্ষিত মানুষ' বাদ দিলে পাওয়া যায় 'শিক্ষিত মানুষ'। আর 'মানুষ' পদের জাত্যর্থ জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তির সাথে নতুন জাত্যর্থ শিক্ষা যুক্ত হয়।
৩. কোনো পদের জাত্যর্থ বাড়লে ব্যক্ত্যর্থ কমে: কোনো পদের জাত্যর্থ যদি বেড়ে যায় তাহলে ওই পদের ব্যক্ত্যর্থ কমে যায়। যেমন- 'মানুষ' পদের জাত্যর্থ জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তির সাথে যদি জাত্যর্থ বাড়ানোর জন্য 'সততা' নামক গুণটি যোগ করা হয় তাহলে মোট জাত্যর্থ বৃদ্ধি পায়। তবে এর ফলে সকল মানুষ থেকে 'অসৎ মানুষ' বিয়োগ হয়ে যাবে এবং বাকি থাকবে 'সৎ মানুষ' এবং মোট ব্যক্ত্যর্থ কমে যাবে।
৪. কোনো পদের জাত্যর্থ কমলে ব্যক্ত্যর্থ বাড়ে: যদি কোনো পদের জাত্যর্থ কমে যায় তাহলে ওই পদের ব্যক্ত্যর্থ বেড়ে যায়। যেমন-শিক্ষিত মানুষ পদটির জাত্যর্থ হলো জীববৃত্তি, বুদ্ধিবৃত্তি ও শিক্ষা। এখন যদি এখান থেকে শিক্ষা গুণটি বাদ দিয়ে জাত্যর্থ কমানো হয় তাহলে ব্যক্ত্যর্থ 'শিক্ষিত মানুষ'-এর সাথে অশিক্ষিত মানুষ যুক্ত হয়ে নতুন ব্যক্ত্যর্থ হবে 'সকল মানুষ'।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের মধ্যে আবশ্যিক সম্পর্ক বিদ্যমান। তবে এ সম্পর্ক বিপরীতমুখী। অর্থাৎ এদের একটির হ্রাস বা বৃদ্ধিতে অন্যটির বৃদ্ধি বা হ্রাস ঘটে।