ক.
যুক্তিবিদ্যার জনক হলেন গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল।
খ.
মানুষের চিন্তা-ভাবনা ভাষার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এজন্য যুক্তিবিদ্যাকে ভাষায় প্রকাশিত চিন্তা সম্পৰ্কীয় বিজ্ঞান বলা হয়।
যুক্তিবিদ্যা যথার্থ ভাষার ব্যবহার দ্বারা সঠিক জ্ঞান অর্জনের পথ নির্দেশ করে। এ কারণে যুক্তিবিদ্যাকে ভাষায় প্রকাশিত চিন্তার বিজ্ঞান বলা হয়। চিন্তার মাধ্যমেই আমরা জ্ঞান অর্জন করি। আর সঠিক জ্ঞান পেতে হলে চিন্তার মধ্যে ভাষার সঠিক ব্যবহার প্রয়োজন। তাই যথার্থই বলা যায়, যুক্তিবিদ্যা ভাষায় প্রকাশিত চিন্তা সম্পর্কীয় বিজ্ঞান ।
গ.
উদ্দীপকে যুক্তিবিদ্যা সম্পর্কে আরাব ও মৃদুল বিতর্কে পাঠ্যপুস্তকের যুক্তিবিদ্যার স্বরূপের বিষয় প্রতিফলিত হয়েছে।
যুক্তিবিদ্যা সঠিক যুক্তিপদ্ধতির নিয়মাবলি প্রণয়ন করে এবং তাদের সাহায্যে যুক্তির বৈধতা যাচাই করে । অর্থাৎ, যেসব নিয়ম ও সূত্র অনুসরণ করে চিন্তা- পদ্ধতি ও তার সহায়ক প্রক্রিয়াগুলোকে নিয়োগ করে প্রকৃত সত্যকে আবিষ্কার করা যায়, সেসব নিয়ম-কানুন সম্বন্ধে সুশৃঙ্খল জ্ঞানকে বলা হয় যুক্তিবিদ্যা। যুক্তিবিদ্যা একটি বিজ্ঞান। কেননা, যুক্তিবিদ্যা যথার্থ যুক্তি পদ্ধতির নিয়ম-কানুন প্রণয়ন করে এবং সেগুলো সম্বন্ধে জ্ঞান দান করে। আবার, যুক্তিবিদ্যা একটি কলাবিদ্যা। কারণ, যুক্তিবিদ্যা যুক্তি পদ্ধতির যেসব নিয়ম-কানুন প্রণয়ন করে সেগুলোকে আমাদের বাস্তব চিন্তা ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার কলাকৌশল শিক্ষা দেয়। তাই যুক্তিবিদ্যার স্বরূপ অনুযায়ী যুক্তিবিদ্যা একাধারে একটি বিজ্ঞান ও একটি কলাবিদ্যা ।
উদ্দীপকের আরাব বলে, “যুক্তিবিদ্যা প্রকৃত পক্ষেই কলাবিদ্যা” । মৃদুল এর বিরোধিতা করে বলে, “যুক্তিবিদ্যা হলো একটি বিজ্ঞান”। তাদের এরূপ আলোচনায় যুক্তিবিদ্যার স্বরূপ তথা বিজ্ঞান ও কলা হিসেবে যুক্তিবিদ্যার পরিপূর্ণ প্রকাশ ঘটেছে।
ঘ.
উদ্দীপকে উল্লেখিত মিমির মন্তব্যটি হলো 'যুক্তিবিদ্যা একটি আদি কলা ও সেরা বিজ্ঞান'। পাঠ্যবইয়ের আলোকে তার এ মন্তব্যটি যথার্থ।
যুক্তিবিদ্যা হলো একইসাথে বিজ্ঞান ও কলা। প্রকৃতির কোনো বিভাগ সম্বন্ধে সুনির্দিষ্ট জ্ঞানকে বিজ্ঞান বলে। বিজ্ঞান সাধারণত নিয়মাবলির তত্ত্বগত জ্ঞান দান করে। যেমন- পদার্থবিজ্ঞান। আর কলাবিদ্যা এ তত্ত্বগত জ্ঞান বাস্তবক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে শেখায়। অর্থাৎ বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য সাধনের জন্য আমাদের বৈজ্ঞানিক জ্ঞানকে বাস্তবক্ষেত্রে প্রয়োগ করার প্রয়োজনীয় নিয়মাবলি শিক্ষা দেয়। যেমন- নৌবিদ্যা শেখায় কীভাবে নৌযান পরিচালনা করতে হবে । শৈল্য চিকিৎসাবিদ্যা শেখায় কীভাবে অস্ত্রোপচার করতে হবে ।
যুক্তিবিদ্যাও বিজ্ঞান হিসেবে বৈধ যুক্তি থেকে অবৈধ যুক্তির পার্থক্য নির্দেশ করার জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়মনীতি প্রণয়ন করে এবং কলা হিসেবে তা বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগের শিক্ষা দেয়। যেমনটি উদ্দীপকের মিমির মন্তব্যে যুক্তিবিদ্যার স্বরূপ তথা বিজ্ঞান ও কলা হিসেবে যুক্তিবিদ্যার পরিপূর্ণ প্রকাশ ঘটেছে।
আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকের মিমির বক্তব্য দ্বারা যুক্তিবিদ্যার বিজ্ঞান ও কলা উভয়ই নির্দেশ করে যুক্তিবিদ্যার স্বরূপ বা বৈশিষ্ট্যের পরিপূর্ণ প্রকাশ করা হয়েছে।