ক.
রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করেন।
খ.
যে চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামাজিক আচার ব্যবহার ও কর্মকান্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তার সমষ্টিকে সামাজিক মূল্যবোধ বলে।
সামাজিক মূল্যবোধ সামাজিক উন্নয়নের ভিত্তি বা মানদন্ড। স্টুয়ার্ট সি. ডড, এর মতে, 'সামাজিক মূল্যবোধ হলো সে সব রীতিনীতির সমষ্টি যা ব্যক্তি সমাজের নিকট হতে আশা করে এবং সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে।' সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সামাজিক শিষ্টাচার, সততা, সত্যবাদিতা, ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা, সহনশীলতা, শৃঙ্খলাবোধ, শ্রমের মর্যাদা, দানশীলতা, আতিথেয়তা, জনসেবা, আত্মত্যাগ প্রভৃতি মানবিক সুকুমার বৃত্তি বা গুণাবলির সমষ্টি। সামাজিক মূল্যবোধের মাপকাঠিতে মানুষের কাজের ভালোমন্দ বিচার করা হয় এবং মানুষের আচরণকে পরিমাপ ও নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
গ.
মি. হিরণের দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সমস্যাই প্রকট হয়ে উঠেছে।
যে কোনো রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা প্রত্যয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য এর উন্নয়ন অপরিহার্য। রাষ্ট্রে আইন- শৃঙ্খলা বজায় না থাকলে সমাজ ও ব্যক্তির নিরাপত্তার অভাব দেখা দেয়
এবং সামাজিক অগ্রগতি ব্যাহত হয়। আবার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে রাষ্ট্রে অরাজক অবস্থার সৃষ্টি হয়। উদ্দীপকের 'A' রাষ্ট্রেও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়। উদ্দীপকে লক্ষ করা যায় যে, মি. হিরণের দেশের জনগণ রাষ্ট্রের আইন- কানুন মেনে চলে না, সরকারি আদেশ নির্দেশ অমান্য করে যে যার ইচ্ছামতো জীবনযাপন করে। ফলে রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে ওঠে। মি. হিরণের দেশে মূলত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি প্রকট আকার ধারণ করেছে। কোনো রাষ্ট্রে যখন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে তখন রাষ্ট্রের জনগণ স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠে। রাষ্ট্রের আইন-কানুনের প্রতি তাদের কোনো শ্রদ্ধা থাকে না। তারা সব সময় নিজেদের হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য অরাজকতা সৃষ্টি করে। সকলেই অসহিষ্ণু হয়ে ওঠে। ক্ষমতাশীলরা প্রভাব ঘটিয়ে সাধারণ জনগণের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তোলে। আইন ও বিচার ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ে। সমাজে, অন্যায়, অবিচার, খুন, রাহাজানি, দুর্নীতিসহ সকল প্রকার অনৈতিক কাজের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়। আর উদ্দীপকেও এরূপ পরিস্থিতির চিত্রই প্রকাশিত হয়েছে।
ঘ.
মি. হিরণের দেশের সমস্যা সমাধানে আইনের শাসন বাস্তবায়ন করা জরুরি। কেননা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অপরিহার্য শর্ত হলো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।
আইনের শাসনের অর্থ-আইনানুযায়ী শাসন করা এবং ন্যায় বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। প্রতিটা রাষ্ট্রই কিছু নিয়ম-কানুনের দ্বারা পরিচালিত হয়। রাষ্ট্র কর্তৃক বলবৎযোগ্য এসব নিয়মকেই আইন হিসেবে গণ্য করা যায়। একটি রাষ্ট্রে আইন থাকাই মূল কথা নয়, সেখানে আইনের শাসন থাকতে হবে। রাষ্ট্রে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য।
উদ্দীপকের মি. হিরণের রাষ্ট্রের জনগণ আইন-কানুন মেনে চলে না, সরকারি আদেশ নির্দেশ অমান্য করে যে যার ইচ্ছামতো জীবন-যাপন করে। এতে করে রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। হিরণের দেশের এ সমস্যা সমাধানের জন্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। রাষ্ট্রের স্বাধীনতা, অধিকার, ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ রক্ষাকবচ হলো আইনের শাসন। আইনের শাসন কথাটি শুধু মুখে মুখে স্বীকার বা সংবিধানে সন্নিবেশিত করলেই হবে না, বরং এর বাস্তব প্রয়োগও ঘটাতে হবে। আইনের শাসনের বাস্তবায়ন ছাড়া সুসভ্য সামাজিক জীবন কল্পনা করা যায় না। এর মাধ্যমে সমাজজীবনের সম্ভাব্য সকল প্রকার অন্যায়, অবিচার, অত্যাচার, নির্যাতন, নিপীড়ন প্রভৃতি প্রতিহত করা সম্ভব। প্রতিটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের বিচার বিভাগ যদি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দুষ্টের দমন এবং শিষ্টের পালন করতে পারে তাহলে রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে সমুন্নত রেখে স্থিতিশীল শাসন কায়েম এবং জনজীবনে সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। উদ্দীপকের রাষ্ট্রেও এ ব্যবস্থার বাস্তবায়নের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির
উন্নতি বিধান করা যাবে। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, মি. হিরণের রাষ্ট্রের সমস্যা- সমাধানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অন্যথায় তার রাষ্ট্রের সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কেননা আইন না থাকলে যেমন অনাচার সৃষ্টি হয় তেমনি আইন না মানলে সমাজ ও রাষ্ট্রে অরাজকতা সৃষ্টি হয়।
তাই হিরণের রাষ্ট্রের অবস্থার উন্নতিকল্পে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য।