Facebook Pixel

মো: শামসুদ্দীন বীর প্রতীক। বয়স প্রায় সত্তরের কাছাকাছি। ১৯৭১ সালে আসামের ইন্দিরানগরে ট্রেনিং নিয়ে ৪ নং সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন। তারানাদের স্কুলের বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি তার বক্তৃতার সময়ে ধরা গলায় বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শোনার পরদিনই সিদ্ধান্ত নেয় “দেশকে মুক্ত করতে হবে।” ক. বাংলাদেশ সরকার কত সালে “জাতীয় শিশু নীতি”-২০১১ প্রণয়ন করেছেন? খ. মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রদের ভূমিকা ছিল ব্যাপক ব্যাখ্যা করো। গ. শামসুদ্দীন সাহেবের মত “মুক্তিযোদ্ধাদের” উক্ত ভাষণটি কিভাবে উদ্বুদ্ধ করেছিল? ব্যাখ্যা করো। ঘ. “উক্ত ভাষণটিই ছিল স্বাধীনতার ঘোষণা”-বক্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. বাংলাদেশ সরকার ২০১১ সালে জাতীয় শিশুনীতি ২০১১' প্রণয়ন করেছেন। খ. মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রদের ভূমিকা ছিল ব্যাপক। মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ছাত্ররা ছিল সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ছাত্ররাই অগ্রণী ভূমিকা পারন করে। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের পাশাপাশি স্কুলপড়ুয়া কিশোররাও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। তারা যুদ্ধের প্রশিক্ষণের জন্য সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ছাত্ররা মাত্র তিন সপ্তাহের প্রশিক্ষণ আর হালকা অস্ত্র নিয়ে অসীম সাহস, মনোবল আর দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে শত্রুদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে মুক্তিযুদ্ধে গৌরবময় ভূমিকা রাখে। গ. উক্ত ভাষণে তথা '৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের শাসন, শোষণ ও নির্যাতনের ইতিহাস তুলে ধরে শামসুদ্দীন সাহেবের মতো মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্বুদ্ধ করেছিলেন । বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রমনার রেসকোর্স ময়দানে যে জ্বালাময়ী ভাষণ দিয়েছিলেন তা-ই ‘ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ' নামে পরিচিত। এ ভাষণে বঙ্গবন্ধু পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ- বঞ্চনার ইতিহাস, নির্বাচনে জয়ের পর বাঙালির সাথে প্রতারণা ও বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসের পটভূমি তুলে ধরেন। এ ভাষণ বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশমাতৃকার স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। উদ্দীপকের শামসুদ্দীন সাহেব এ বিষয়টিই উল্লেখ করেছেন। বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণ এক স্মরণীয় দলিল। এর ভাষা, বাক্য ও শব্দচয়ন একাধারে রাজনীতিবিদ, ভাষাবিদ, কূটনীতিকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে অভিভূত করে। ৭ মার্চের ভাষণে বাঙালি মুক্তিযুদ্ধের নির্দেশনা পায়। এ ভাষণে বঙ্গবন্ধু প্রতিরোধ, সংগ্রাম, যুদ্ধের কৌশল ও শত্রু মোকাবিলার উপায় সম্পর্কেও দিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন। এর ফলে সাত কোটি নিরস্ত্র বাঙালি যোদ্ধায় পরিণত হয় এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত লড়াইয়ে জয়ী হয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনে। ঘ. উদ্দীপকের ভাষণ তথা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরোক্ষ ঘোষণা— উক্তিটি যথার্থ। ইতিহাসে যেসব ঐতিহাসিক ভাষণের নজির আছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ সেগুলোর অন্যতম। এ ভাষণের মাধ্যমে তিনি পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এ ভাষণের ভাব ও ভাষা, বাক্য ও শব্দচয়ন থেকে পূর্ববাংলার মানুষ বুঝে নেয় বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা করেছেন। এই ভাষণে তিনি কার্যত বাংলাদেশের স্বাধীনতার ডাক দেন এবং সাধারণ জনগণকে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের দুঃশাসন, শোষণ ও বঞ্চনার ইতিহাস এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জয়ের পরও ক্ষমতা হস্তান্তরে প্রতারণার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। এ ভাষণে অনিয়ম ও বঞ্চনার বেড়াজাল ছিন্ন করতে তিনি বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রেরণা এবং নির্দেশ দেন। উদ্দীপকে উল্লিখিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এ ঐতিহাসিক ভাষণ থেকে বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রেরণা এবং মুক্তিযুদ্ধের নির্দেশনা পায়। এ ভাষণের মাধ্যমে তিনি বাঙালির মনের মধ্যে স্বাধীনতার স্পৃহা জাগিয়ে তোলেন। এ ভাষণে তিনি প্রতিরোধ সংগ্রাম, যুদ্ধের কলা-কৌশল এবং শত্রু মোকাবিলার উপায় সম্পর্কেও দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। মূলত বঙ্গবন্ধুর এ জ্বালাময়ী ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়েই সাত কোটি নিরীহ বাঙালি রাতারাতি যোদ্ধায় পরিণত হয় এবং পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হতে থাকে। এ ভাষণ বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। উপরোক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ জনগণকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল এবং স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছিল। কার্যত তার ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণই স্বাধীনতার ঘোষণা ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

মো: শামসুদ্দীন বীর প্রতীক। বয়স প্রায় সত্তরের কাছাকাছি। ১৯৭১ সালে আসামের ইন্দিরানগরে ট্রেনিং নিয়ে ৪ নং সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন। তারানাদের স্কুলের বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি তার বক্তৃতার সময়ে ধরা গলায় বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শোনার পরদিনই সিদ্ধান্ত নেয় “দেশকে মুক্ত করতে হবে।”

ক.

বাংলাদেশ সরকার কত সালে “জাতীয় শিশু নীতি”-২০১১ প্রণয়ন করেছেন?

খ.

মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রদের ভূমিকা ছিল ব্যাপক ব্যাখ্যা করো।

গ.

শামসুদ্দীন সাহেবের মত “মুক্তিযোদ্ধাদের” উক্ত ভাষণটি কিভাবে উদ্বুদ্ধ করেছিল? ব্যাখ্যা করো।

ঘ.

“উক্ত ভাষণটিই ছিল স্বাধীনতার ঘোষণা”-বক্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A অঞ্চলের শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচার, নির্যাতনের প্রেক্ষিতে তাদেরকে নির্বাচনে পরাজিত করার লক্ষ্যে কয়েকটি রাজনৈতিক দল জোটভুক্ত ...

'A' রাষ্ট্রের স্বাধীনতার প্রায় দুই যুগ পরে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত নির্বাচনে রাষ্ট্রের একাংশের একটি রাজনৈতিক দ...

P নামক ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রের একটি নির্বাচনে শাসক দলের ব্যাপক ভরাডুবি হয়। নির্বাচনে বিরোধী দলগুলো জোটবদ্ধ হয়ে অংশগ্রহণ কর...

"Six Point demand was the Demand for the Survival of the Bangalis." -উক্তিটি কার?

'The Politics of Development the case study of Pakistan' গ্রন্থটি কে রচনা করেন?

'X' উপনিবেশিক শক্তির হাত থেকে সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত একটি রাষ্ট্র। এ রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মাতৃভাষাকে...

'X' নামক রাষ্ট্রে স্বাধীনতা লাভের প্রায় দুই যুগ পর একটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনের মাধ্যমে শাসকগোষ্ঠীর শা...

'X' রাষ্ট্রের একটি অঞ্চল স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকেই আশা করছিল তাদের অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নতি সাধন হবে। কিন্তু তারা শাসকশ্...

'Z' নামক রাষ্ট্রটি ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে স্বাধীনতা লাভ করে। ওই রাষ্ট্রে বহু ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী বসবাস করে। স্বাধীনত...

'A' একটি অন্যদের কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে একটি নির্বাচনী জোট গঠিত হয়। জোট বিপুলভাবে হেরে যায় এবং ক্ষমতাসীন দলের চর...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।