ক.
মূল্যবোধ হলো এমন একটি মানদণ্ড যা ভালো-মন্দ নির্ধারণের মাধ্যমে মানুষের আচরণকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।
খ.
সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক জীবনে শান্তি-শৃঙ্খলা ও কল্যাণ বজায় রাখার জন্য মানুষ আইন মান্য করে থাকে।
আইন মান্য করা নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা যায় । ইংরেজ দার্শনিক টমাস হব্স, জেরেমি বেন্থাম, জন অস্টিন প্রমুখ বলেন, মানুষ আইন মেনে চলে শাস্তির ভয়ে । কেননা আইন ভঙ্গ করলে শাস্তি পেতে হয় ৷ তাই ব্যক্তি ও সমাজ জীবনকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল করে গড়ে তুলতে মানুষের আইন মেনে চলা উচিত।
গ.
উদ্দীপকে আইনের উৎস হিসেবে বিচারকের রায়ের কথা বলা হয়েছে ।
বিচারকের রায় বা বিচারালয়ের সিদ্ধান্ত আইনের অন্যতম উৎস । বিচারকগণ সাধারণত প্রচলিত আইনের দ্বারা বিচারকাজ পরিচালনা করেন । তবে যখন বিদ্যমান আইনের অস্পষ্টতা বা সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয় না তখন বিচারকগণ নিজের বুদ্ধি ও প্রজ্ঞার সাহায্যে প্রচলিত আইনের সাথে সঙ্গতি রেখে আইনের নতুন ব্যাখ্যা দিয়ে রায় দেন । এটি একটি দৃষ্টান্ত হয়ে যায় এবং একসময় আইনে পরিণত হয়। এভাবে প্রণীত আইনকে 'বিচারক প্রণীত আইন' বা 'বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা' বলা হয় পরবর্তীতে এসব আইন অন্যান্য বিচারকগণ কর্তৃক অনুসৃত হতে থাকে। উদ্দীপকেও আইনের এ উৎসটি লক্ষ করা যায় ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, উচ্চ আদালতের বিচারক জামিল হাসান একটি জটিল মামলার রায় প্রদান করতে গিয়ে বিদ্যমান আইনে কোনো সমাধান পান না। ফলে তিনি নিজের প্রজ্ঞা, বিবেক ও বুদ্ধি অনুসারে বিচারকাজ সম্পন্ন করেন । এতে করে নতুন আইনের সৃষ্টি হয়। যা উপরে আলোচিত আইনের অন্যতম উৎস বিচারকের রায়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। কেননা তার অনুসৃত পদ্ধতিতেই বিচারকগণ কর্তৃক নতুন আইন প্রণীত হয় । এ থেকে বোঝা যায়, উদ্দীপকে জামিল হাসান কর্তৃক নতুন আইন সৃষ্টি আইনের উৎস হিসেবে বিচারকের রায়কে নির্দেশ করে ।
ঘ.
উল্লিখিত উৎস তথা বিচারকের রায় ছাড়াও আইনের আরও অন্যান্য উৎস রয়েছে”— উক্তিটি যথার্থ ।
আইনের উৎপত্তি বিভিন্ন উৎস থেকে হতে পারে। অধ্যাপক হল্যান্ড আইনের ছয়টি উৎসের কথা বলেছেন। এগুলো হলো- প্রথা, ধর্ম, বিচারকের রায়, বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা, ন্যায়বোধ ও আইনসভা। উদ্দীপকে কেবল বিচারকের রায়ের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। এটি ব্যতীত অন্যান্য উৎস থেকে যেভাবে আইনের উৎপত্তি হতে পারে তা নিম্নরূপ—
প্রথা হলো আইনের প্রাচীন উৎস। এক্ষেত্রে রাষ্ট্র সৃষ্টির পূর্বে সমাজে যেসব স্বীকৃত রীতিনীতি প্রচলিত ছিল তা পরে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অনুমোদন লাভ করে আইনে পরিণত হয়। তেমনিভাবে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুশাসনও আইনে পরিণত হতে পারে। যেমন— হিন্দু ও মুসলমানদের বিবাহ ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আইন তাদের স্ব স্ব ধর্মগ্রন্থ থেকে নিয়ে বাংলাদেশের আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রখ্যাত আইনবিদদের বিজ্ঞানসম্মত আলোচনাও আইনের অন্যতম উৎস। কেননা এসব ব্যাখ্যা আদালতে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে গৃহীত হয়। আবার, কোনো মামলার বিবাদ মীমাংসার ক্ষেত্রে যদি কোনো আইন না থাকে তবে বিচারকগণ নিজের ন্যায়বোধ থেকে যে সিদ্ধান্ত দেন তা থেকে নতুন আইন তৈরি হতে পারে। এছাড়া প্রত্যেক দেশের আইনসভা রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য জনমত ও সামাজিক মূল্যবোধকে প্রাধান্য দিয়ে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, বিচারকের রায় ছাড়াও আইনের বহুবিধ উৎস রয়েছে।