Facebook Pixel

মি. রফিক একটি কারখানা পরিচালনা করেন। সেই কারখানাটি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী শিল্পের অন্তর্ভুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান। এ শিল্পের নিয়োজিত শ্রমিকের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই দরিদ্র ও অদক্ষ মহিলা। মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ ভাগ এই শিল্প থেকে অর্জিত হয়। নানা বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে বিশ্ব বাজারে এ শিল্পটি স্থান করে নিয়েছে। ক. ক্ষুদ্র শিল্প কী? খ. চামড়া শিল্পের অনুন্নতির কারণ কী? গ. মি. রফিকের শিল্প প্রতিষ্ঠানটির ধরন কীরূপ? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত শিল্পটি বাংলাদেশের অধিক সম্ভাবনাময়ী শিল্প- ব্যাখ্যা করো।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ বাংলাদেশের শিল্প

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. যেসব শিল্প কারখানায় বৃহৎ শিল্পের তুলনায় কম মূলধন এবং মূলধনের তুলনায় বেশি সংখ্যক শ্রমিক নিয়োগ করা হয় তাকে সাধারণত ক্ষুদ্র শিল্প বলে। খ. সমস্যা থাকার কারণে এদেশে এ শিল্পটির বিকাশ আশানুরূপ নয়। চামড়া শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক দ্রব্যের অধিকাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এতে আমাদের চামড়া শিল্পের অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে। আবার কাঁচা চামড়া গুদামজাতকরণের জন্য প্রচুর চামড়ার আড়ত থাকা দরকার। কিন্তু বাংলাদেশে চামড়ার গুদাম প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। কোরবানির সময় চামড়া ক্রয় ও গুদামজাত করার জন্য চামড়া ক্রয়কারী সংস্থাগুলোর প্রচুর ঋণের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ পর্যাপ্ত নয়। এসবই চামড়া শিল্পের অনুন্নতির কারণ। গ. জীমি. রফিকের শিল্প প্রতিষ্ঠানটির ধরন হলো পোশাক শিল্প। বাংলাদেশের পেসাশাক শিল্প ১৯৭৬ সালে মাত্র তিনটি কারখানার তৈরি পোশাক রপ্তানির মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে। ইতোমধ্যে পোশাক শিল্প তার সাফল্যের চার দশকের অধিক সময় অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে পোশাক শিল্পের কারখানা ও কর্মচারীর সংখ্যা যেমন অভাবনীয় বেড়েছে, তেমনি আয়ও বেড়েছে কয়েক হাজার গুণ। বর্তমানে এ শিল্পের প্রায় ৫,০০০ কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা ৫০ লক্ষ অধিক। এসব শ্রমিকের শতকরা ৮০ ভাগ হলো দেশের অবহেলিত ও বঞ্চিত দরিদ্র ও অদক্ষ মহিলা। তাদের ১৪-১৫ ঘণ্টার সস্তা শ্রমই মূলত এনে দিয়েছে আমাদের পোশাক শিল্পের বর্তমান সাফল্য। ১৯৮৭- ৮৮ অর্থবছর থেকে তৈরি পোশাক বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান খাত হিসেবে আবির্ভূত হয়। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সিংহভাগ বর্তমানে এ খাত থেকে উপার্জিত হয়। অর্থাৎ বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের ৮১ শতাংশেরও বেশি বস্ত্র পণ্য ও তৈরি পোশাক শিল্প থেকে অর্জিত হয়। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ২৫,৪৯২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার রপ্তানি করেছে। বিশ্বের প্রায় ৯০টি দেশে পোশাক রপ্তানি করা হয়। এ শিল্প বিদেশ থেকে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করায় একে 'সোনালী শিল্প' বলা হয়। ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত পোশাক শিল্পটি বাংলাদেশের অধিক সম্ভাবনাময়ী শিল্প। কেননা ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ পোশাক রপ্তানিতে বিশ্ববাজারে উল্লেখযোগ্য স্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছে। এর ফলস্বরূপ কোটা ব্যবস্থা প্রত্যাহার সত্ত্বেও আমাদের পোশাক শিল্পের অগ্রগতি অব্যাহত রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প বিকাশের সপক্ষে নিম্নলিখিত যুক্তিগুলো বিদ্যমান। ১. বাংলাদেশে পোশাক শিল্পের জন্য পর্যাপ্ত শ্রমশক্তি পাওয়া যায়। বিশেষ করে এ শিল্পে প্রচুর সংখ্যক নারী শ্রমিক নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। ২. পোশাক শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকের মজুরি তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় এ শিল্পের দ্রুত উন্নয়নের সম্ভাবনা রয়েছে। ৩. পোশাক শিল্পের উন্নয়নে বিশেষায়িত ঋণ প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় ঋণের সুবিধা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ৪. দেশের রপ্তানি আয়ের বেশির ভাগ (৮২%) পোশাক শিল্প থেকে আসে। এ জন্য এ শিল্পের উন্নয়নে সরকারের আর্থিক ও রাজস্ব প্রণোদনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ৫. সরকারি প্রণোদনার ফলে এ শিল্প বিদ্যমান কয়েকটি বাজার ছাড়াও সম্প্রতি এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়াসহ ২৫টি নতুন দেশে তৈরি পোশাক রপ্তানি করছে। ৬. পোশাক শিল্পে বিনিয়োগ, উৎপাদন ও মুনাফা অর্জনের মধ্যে সময় ব্যবধান কম। এ জন্য এ দেশের অনেক উদ্যোক্তা পোশাক শিল্পে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। ৭. বাংলাদেশের শিল্পনীতিতে ব্যক্তিখাতের উন্নয়নে অনেক সুযোগ- সুবিধা রয়েছে। এ জন্য এখানে পোশাক শিল্পের দ্রুত বিকাশ লাভের সম্ভাবনা বেশি। এসব কারণে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ইতিবাচক ও উজ্জ্বল বলে মনে করা যায়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

মি. রফিক একটি কারখানা পরিচালনা করেন। সেই কারখানাটি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী শিল্পের অন্তর্ভুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান। এ শিল্পের নিয়োজিত শ্রমিকের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই দরিদ্র ও অদক্ষ মহিলা। মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ ভাগ এই শিল্প থেকে অর্জিত হয়। নানা বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে বিশ্ব বাজারে এ শিল্পটি স্থান করে নিয়েছে।

ক.

ক্ষুদ্র শিল্প কী?

খ.

চামড়া শিল্পের অনুন্নতির কারণ কী?

গ.

মি. রফিকের শিল্প প্রতিষ্ঠানটির ধরন কীরূপ? ব্যাখ্যা করো।

ঘ.

উদ্দীপকে বর্ণিত শিল্পটি বাংলাদেশের অধিক সম্ভাবনাময়ী শিল্প- ব্যাখ্যা করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A, B ও C তিনটি উৎপাদনশীল কারখানার (শ্রমঘন নয়) কিছু তথ্য দেওয়া হলো: ক. আমদানি বিকল্প শিল্প কী? খ. বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি...

EPZ কী ?

EPZ অর্থ-

PPI এর পূর্ণরূপ কোনটি?

PPP এর পূর্ণরূপ নিচের কোনটি?

'SME – এর পূর্ণরূপ নিচের কোনটি?

X দেশের কয়েক দশক পূর্ব হতে বর্তমান পর্যন্ত পাট ও পাটজাত দ্রব্য প্রধান রপ্তানি দ্রব্য। তবে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, গুণগত ...

'X' দেশের রপ্তানী আয়ে সিংহভাগ আসে একটি শিল্প থেকে, যার অধিকাংশ শ্রমিক মহিলা। উক্ত শিল্পে উৎপাদিত পণ্যের আর্ন্তজাতিক বাজা...

'Y' দেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। দেশটি বেশির ভাগ শিল্পজাত দ্রব্য আমদানি করে। পূর্বে সকল মোটরসাইকেল বিদেশ থেকে আমদানি করা হতো।...

'Z' দেশের শিল্প কাঠামো ৫ প্রকার, মোট শ্রমশক্তি ২০.৪% শিল্প খাতে কাজ করে। মূলধনের অভাব, দক্ষ শ্রমিকের অভাব, ইত্যাদি সমস্য...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।