ক.
হাইটেক শিল্প বলতে জ্ঞান ও পুঁজিনির্ভর, উচ্চ প্রযুক্তিভিত্তিক, পরিবেশবান্ধব এবং আইটি (IT) বা গবেষণামূলক শিল্পকে বোঝায়।
খ.
সংরক্ষিত শিল্প ও নিয়ন্ত্রিত শিল্প এক নয়। সংরক্ষিত শিল্প বলতে বোঝায় সেইসব শিল্পখাত যেগুলো শুধুমাত্র সরকারের জন্য নির্ধারিত থাকে এবং সেখানে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে পারে না। সাধারণত জাতীয় নিরাপত্তা, জনস্বার্থ বা কৌশলগত কারণে এই শিল্পগুলোকে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় রাখা হয়। যেমন: পরমাণু শক্তি, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন, কাগজের মুদ্রা ছাপানো ইত্যাদি।
অন্যদিকে, নিয়ন্ত্রিত শিল্প হলো সেই শিল্পখাত যেগুলোতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কাজ করতে পারলেও তা সরকারের নির্দিষ্ট নিয়ম ও নীতিমালার অধীনে পরিচালিত হয়। এসব শিল্পে সরকারের নিয়ন্ত্রণ মূলত জনস্বার্থ, মান নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিযোগিতার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জন্য প্রয়োগ করা হয়। যেমন: ওষুধ শিল্প, ব্যাংকিং খাত, টেলিকম সেবা ইত্যাদি। তাই বলা যায়, সংরক্ষিত শিল্প ও নিয়ন্ত্রিত শিল্প এক নয়—উভয়ের উদ্দেশ্য ও কার্যপ্রণালি ভিন্ন।
গ.
জীমি. রফিকের শিল্প প্রতিষ্ঠানটির ধরন হলো পোশাক শিল্প। বাংলাদেশের পেসাশাক শিল্প ১৯৭৬ সালে মাত্র তিনটি কারখানার তৈরি পোশাক রপ্তানির মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে। ইতোমধ্যে পোশাক শিল্প তার সাফল্যের চার দশকের অধিক সময় অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে পোশাক শিল্পের কারখানা ও কর্মচারীর সংখ্যা যেমন অভাবনীয় বেড়েছে, তেমনি আয়ও বেড়েছে কয়েক হাজার গুণ। বর্তমানে এ শিল্পের প্রায় ৫,০০০ কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা ৫০ লক্ষ অধিক। এসব শ্রমিকের শতকরা ৮০ ভাগ হলো দেশের অবহেলিত ও বঞ্চিত দরিদ্র ও অদক্ষ মহিলা। তাদের ১৪-১৫ ঘণ্টার সস্তা শ্রমই মূলত এনে দিয়েছে আমাদের পোশাক শিল্পের বর্তমান সাফল্য। ১৯৮৭- ৮৮ অর্থবছর থেকে তৈরি পোশাক বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান খাত হিসেবে আবির্ভূত হয়।
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সিংহভাগ বর্তমানে এ খাত থেকে উপার্জিত হয়। অর্থাৎ বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের ৮১ শতাংশেরও বেশি বস্ত্র পণ্য ও তৈরি পোশাক শিল্প থেকে অর্জিত হয়। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ২৫,৪৯২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার রপ্তানি করেছে। বিশ্বের প্রায় ৯০টি দেশে পোশাক রপ্তানি করা হয়। এ শিল্প বিদেশ থেকে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করায় একে 'সোনালী শিল্প' বলা হয়।
ঘ.
উদ্দীপকে বর্ণিত পোশাক শিল্পটি বাংলাদেশের অধিক সম্ভাবনাময়ী শিল্প। কেননা ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ পোশাক রপ্তানিতে বিশ্ববাজারে উল্লেখযোগ্য স্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছে। এর ফলস্বরূপ কোটা ব্যবস্থা প্রত্যাহার সত্ত্বেও আমাদের পোশাক শিল্পের অগ্রগতি অব্যাহত রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প বিকাশের সপক্ষে নিম্নলিখিত যুক্তিগুলো বিদ্যমান।
১. বাংলাদেশে পোশাক শিল্পের জন্য পর্যাপ্ত শ্রমশক্তি পাওয়া যায়। বিশেষ করে এ শিল্পে প্রচুর সংখ্যক নারী শ্রমিক নিয়োগের সুযোগ রয়েছে।
২. পোশাক শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকের মজুরি তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় এ শিল্পের দ্রুত উন্নয়নের সম্ভাবনা রয়েছে।
৩. পোশাক শিল্পের উন্নয়নে বিশেষায়িত ঋণ প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় ঋণের সুবিধা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
৪. দেশের রপ্তানি আয়ের বেশির ভাগ (৮২%) পোশাক শিল্প থেকে আসে। এ জন্য এ শিল্পের উন্নয়নে সরকারের আর্থিক ও রাজস্ব প্রণোদনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
৫. সরকারি প্রণোদনার ফলে এ শিল্প বিদ্যমান কয়েকটি বাজার ছাড়াও সম্প্রতি এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়াসহ ২৫টি নতুন দেশে তৈরি পোশাক রপ্তানি করছে।
৬. পোশাক শিল্পে বিনিয়োগ, উৎপাদন ও মুনাফা অর্জনের মধ্যে সময় ব্যবধান কম। এ জন্য এ দেশের অনেক উদ্যোক্তা পোশাক শিল্পে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।
৭. বাংলাদেশের শিল্পনীতিতে ব্যক্তিখাতের উন্নয়নে অনেক সুযোগ- সুবিধা রয়েছে। এ জন্য এখানে পোশাক শিল্পের দ্রুত বিকাশ লাভের সম্ভাবনা বেশি।
এসব কারণে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ইতিবাচক ও উজ্জ্বল বলে মনে করা যায়।