ক.
মৌলিক পদ্ধতিগুলো হচ্ছে ব্যক্তি সমাজকর্ম, দল সমাজকর্ম এবং সমষ্টি সমাজকর্ম।
খ.
র্যাপো (Rapport) শব্দটি ফারসি শব্দ থেকে উদ্ভূত যার আভিধানিক অর্থ সহানুভূতিসম্পন্ন সম্পর্ক। ব্যক্তি সমাজকর্মে র্যাপো শব্দটি সর্বপ্রথম ১৯৩০ সালে Miss Virginia Robinson তার 'A Changing Psychology in Social Case Work.' গ্রন্থে ব্যবহার করেন। র্যাপো হলো ব্যক্তি সমাজকর্মী ও সাহায্যার্থী ব্যক্তির মধ্যে এমন সৌহার্দপূর্ণ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, যে সম্পর্ক সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়াকে ফলপ্রসূ করে তোলে। প্রফেসর ড. আলী আকবর বলেন, র্যাপো হচ্ছে স্বাভাবিক পেশাগত সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা ও রক্ষা করা, যা সমাজকর্মী ও সাহায্যার্থীর মধ্যে বিরাজ করে।
গ.
উদ্দীপকে ব্যক্তি সমাজকর্মের অন্যতম গুরত্বপূর্ণ উপাদান স্থানের অভাব রয়েছে।
ব্যক্তি সমাজকর্মে স্থান হলো এমন এক ধরনের সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান যেখানে সমাজকর্মীরা সাহায্যার্থীকে তার সমস্যা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় বস্তুগত ও অবস্তুগত সাহায্য করে থাকেন। প্রকৃতপক্ষে যেকোনো সংগঠিত ও পেশাভিত্তিক কাজের জন্যই প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য। আর উদ্দীপকে ব্যক্তি সমাজকর্মের এ উপাদানটির ব্যত্যয় ঘটেছে।
উদ্দীপকে মি. বাকার একজন পেশাদার সমাজকর্মী হলেও তিনি পেশাদারিত্বের পরিচয় দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে থেকে তার কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেননি। তার কাছে আগত সাহায্যার্থীদেরকে তিনি একেক সময় একেক স্থানে সাক্ষাৎ করতে বলেন। এর ফলে খুব স্বাভাবিকভাবেই সাহায্যার্থীরা তার ওপর বিরক্ত হয়। প্রকৃতপক্ষে মি. বার্কারের উচিত ছিল একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে থেকে অর্থাৎ কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট স্থানে সাহায্যার্থীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা। কারণ ব্যক্তি সমাজকর্মে স্থান বা প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আবশ্যক একটি উপাদান। এর মাধ্যমে সমাজকর্মের গোপনীয়তার নীতি রক্ষিত হয় এবং সমাজকর্মী ও সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাই বলা যায় মি. বার্কার ব্যক্তি সমাজকর্মের স্থান বা প্রতিষ্ঠান উপাদানটির ধারাবাহিকতা রক্ষা করেননি।
ঘ.
উদ্দীপকের মি. বাকার একজন সমাজকর্মী হিসেবে পেশাদারিত্ব রক্ষা না করায় তার ভূমিকা পেশাগত সম্পর্ক স্থাপনে সহায়ক নয়।
ব্যক্তির সমস্যার সমাধানকে কেন্দ্র করে ব্যক্তি সমাজকর্ম পদ্ধতি পরিচালিত হয়। এই সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হলো র্যাপো বা পেশাগত সম্পর্ক। এখানে সমাজকর্মী একজন পেশাদার ব্যক্তি হিসেবে তার আচরণের মাধ্যমে সাহায্যার্থীর আস্থাভাজন হবেন।
উদ্দীপকে মি, বার্কার একজন পেশাদার সমাজকর্মী হিসেবে সাহায্যার্থীদের আস্থা বা বিশ্বাস অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন। সাহায্যার্থীর সাথে পেশাগত সম্পর্ক স্থাপনের জন্য ফলপ্রসূ সাক্ষাৎকার অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। অথচ মি. বার্কার তার নিকট আগত সাহায্যার্থীদের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে সাক্ষাৎ করার জন্য বলেন। ফলে সেবাগ্রহীতাদের সাথে তার সাক্ষাৎকার ফলপ্রসূ হয় না। এক্ষেত্রে মি. বাকারের কর্মকান্ডে তারা অনেকটাই বিরক্ত এবং মি, বার্কারকে আস্থাভাজন হিসেবে মেনে নিতে পারছেন না। কিন্তু তিনি যদি এ ব্যাপারে আন্তরিক হতেন এবং সাহায্যার্থীদের সাথে সাক্ষাৎকারের ক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব বজায় রাখতেন তাহলে এরূপ সমস্যার সৃষ্টি হতো না। বরং তিনি সাহায্যার্থীদের সাথে পেশাগত সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে কাজ করতে পারতেন।
পরিশেষে বলা যায়, সাহায্যার্থীদের সাথে পেশাগত সম্পর্ক স্থাপনে মি. বার্কারকে আরও আন্তরিক হতে হবে এবং পেশাদার মনোভাব লালন করতে হবে।