ক.
Dictionary of Sociology লিখেছেন William P. Scott.
খ.
মিশ্র অর্থব্যবস্থা হলো এমন এক ধরনের অর্থব্যবস্থা, যেখানে সম্পদের ব্যক্তিগত মালিকানা ও রাষ্ট্রীয় মালিকানা উভয়ই স্বীকৃত হয়ে থাকে। এ অর্থব্যবস্থায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগ অবস্থান করে, ধনতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের সংমিশ্রণ ঘটে এবং ধনতন্ত্রের মতো সম্পত্তির ব্যক্তিগত মালিকানা, মুনাফা অর্জন এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগের স্বাধীনতা থাকে। জনকল্যাণ ও জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক কিছু খাত রাষ্ট্রীয় মালিকানায় থাকে এবং অন্যান্য উৎপাদন ও সেবাখাতগুলো ব্যক্তিমালিকানায় থাকে। অতএব, ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার কিছু বৈশিষ্ট্যের সাথে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির কিছু বৈশিষ্ট্যের মিশ্রণে যে স্বতন্ত্র একটি অর্থব্যবস্থা সৃষ্টি হয় তাকে মিশ্র অর্থনীতি বলা হয়।
গ.
মি. নিলয় বেশকিছু কারণে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার পক্ষে। সেগুলো নিচে তুলে ধরা হলো-
সম্পদের ব্যক্তিগত মালিকানা: ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় জমি, কলকারখানা ও অন্যান্য সম্পত্তির ব্যক্তিগত মালিকানা ও অবাধ ব্যবহার বজায় থাকে।
বেসরকারি উদ্যোগ বেসরকারি উদ্যোগের ক্ষেত্রে কোনো সরকারি হস্তক্ষেপ বা নিয়ন্ত্রণ থাকে না এবং ব্যক্তি তার ইচ্ছা অনুযায়ী কলকারখানা, ব্যবসায় বাণিজ্য ইত্যাদি কাজকর্ম করে সম্পদ অর্জন করে।
স্বয়ংক্রিয় দাম ব্যবস্থা: ধনতন্ত্রে সব অর্থনৈতিক কাজ স্বয়ংক্রিয় দাম ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। চাহিদা ও যোগানের দ্বারা দ্রব্যের দাম নির্ধারিত হয় এবং এ দামের ভিত্তিতেই উৎপাদন ও ভোগকার্য চলে।
ভোক্তার স্বাধীনতা: ভোগের ক্ষেত্রে প্রত্যেক ব্যক্তি পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করে। অর্থাৎ, ভোক্তা তার নিজস্ব সামর্থ্য, ইচ্ছা ও পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো দ্রব্য অবাধে ভোগ করতে পারে।
অবাধ প্রতিযোগিতা ধনতন্ত্রে অসংখ্য উৎপাদনকারীর মধ্যে অবাধ প্রতিযোগিতা চলে। এতে নতুন আবিষ্কার সম্ভব হয় এবং দ্রব্যের দাম কমতে থাকে।
মুনাফা অর্জন: ধনতন্ত্রে যাবতীয় উৎপাদনের লক্ষ্য হলো মুনাফা অর্জন। বেশি মুনাফার সম্ভাবনা থাকলে সেক্ষেত্রে বিনিয়োগ বেশি হয়। এর ফলে কোনো কোনো দ্রব্যের বেশি উৎপাদন এবং অন্যক্ষেত্রে কম উৎপাদন হতে পারে।
সুতরাং বলা যায়, ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় দেশের উৎপাদনকার্য, ব্যবসায় বাণিজ্য প্রভৃতি কাজকর্ম সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে চলে এবং এ কারণেই মি. নিলয় ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার পক্ষে।
ঘ.
সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় সম্পদ ও উৎপাদনের উপকরণগুলো রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন থাকে। কোনো দ্রব্য কতটুকু এবং কীভাবে উৎপাদিত হবে তা সরকারের কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার দ্বারা নির্ধারিত হয়। সমাজতন্ত্রে ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জনের সুযোগ থাকে না। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় সাধারণ কতকগুলো বৈশিষ্ট্য রয়েছে। বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
সম্পদের রাষ্ট্রীয় মালিকানা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় জমি, কলকারখানা, খনি ও অন্যান্য সম্পদের ওপর রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক মালিকানা বজায় থাকে। দেশের জনগণ বা রাষ্ট্র সব সম্পদের মালিক। এসব সম্পদ থেকে যে আয় হয় তা সমাজের জন্য ব্যয় করা হয়।
ব্যক্তিগত উদ্যোগ অনুপস্থিত: সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় সম্পদের ব্যক্তিগত মালিকানা না থাকায় উৎপাদন, ব্যবসায় বাণিজ্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিগত উদ্যোগ নেই। এর ফলে কোনো ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জনেরও সুযোগ নেই। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে শিল্প, কৃষি, ব্যবসায় বাণিজ্য প্রভৃতি কর্মকান্ড পরিচালিত হয়।
কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা: সমাজতান্ত্রিক দেশে একটি কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষ থাকে। দেশে কোন দ্রব্য কী পরিমাণে এবং কীভাবে উৎপাদিত হবে তা কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষ দ্বারা নির্ধারিত হয়।
ভোক্তার স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা: সমাজতন্ত্রে ভোক্তার স্বাধীনতা সীমিত। এজন্য ভোক্তা তার ইচ্ছামতো অর্থ ব্যয় করে যেকোনো রকম দ্রব্য প্রচুর পরিমাণে ভোগ করতে পারে না। কেননা সমাজতান্ত্রিক দেশে কেবলমাত্র সরকারি উদ্যোগে সমাজের প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রব্যসামগ্রী উৎপাদন ও আমদানি করা হয়।
পরিশেষে বলা যায়, কার্ল মার্কস এবং এঙ্গেলস সমাজতন্ত্রের প্রধান প্রবক্তা। রাশিয়ায় সমাজতন্ত্র পতনের পরও পৃথিবীর কোনো কোনো দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা চালু আছে। তবে সব দেশে সমাজতন্ত্রের রূপ এক রকম নয়।