Facebook Pixel

মি. জনসন ইংল্যান্ডের একজন সফল ব্যবসায়ী। তার দেশে বাংলাদেশে উৎপাদিত বিভিন্ন তৈরি পোশাক ও চামড়াজাত পণ্য বেশ জনপ্রিয় হওয়ায় এসবের প্রায় সবকিছুই তিনি বাংলাদেশ থেকে ক্রয় করেন। ২০১৪ সালে জনসন বাংলাদেশে এসে এক সপ্তাহ অবস্থানকালে বেশকিছু তৈরি পোশাক কারখানা পরির্দশন করেন এবং এ শিল্পের বেশ কিছু সমস্যা সম্পর্কে অবগত হন। তিনি মনে করেন, কারিগরি উন্নয়ন, উৎপন্ন পণ্যের গুণগতমান বৃদ্ধি, শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ, পোশাকের আইটেম বৃদ্ধি করতে পারলে এদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আরো বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। ২০১৫ সালে মি. জনসন আবার বাংলাদেশে এসে হাজারীবাগে বেশ কিছু চামড়াজাত পণ্য তৈরি কারখানা পরিদর্শন করেন এবং এ শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাও তার কাছে খুব উজ্জ্বল মনে হয়। ক. হাইটেক শিল্প কী? খ. শিল্পায়নের মাধ্যমে কীভাবে একটি দেশ স্বনির্ভরতা অর্জন করে? গ. মি. জনসন কর্তৃক ২০১৪ সালে পরিদর্শনকৃত শিল্পের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে যেসব পরামর্শগুলো দিয়েছেন তার ব্যাখ্যা করো। ঘ. মি. জনসন ২০১৫ সালে যে শিল্প পরিদর্শন করেন, ঐ শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে যে ধারণা পোষণ করেন, তার সাথে তুমি কি একমত?- তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ বাংলাদেশের শিল্প

উৎস: Board Exam Question ChB 2017

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. জ্ঞান ও পুঁজিনির্ভর উচ্চ প্রযুক্তিভিত্তিক, পরিবেশবান্ধব এবং আইটি বা গবেষণা ও উন্নয়ননির্ভর শিল্প হলো হাইটেক শিল্প। খ. কোনো দেশে শিল্পের উন্নয়নের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকার ভোগ্য ও পুঁজি দ্রব্যের চাহিদা পূরণ হলে তার আমদানি হ্রাস পায়। দেশে শিল্পায়ন ঘটলে দেশটি এমন কতগুলো প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলন ও ব্যবহার করতে সক্ষম হয়, যা ইতিপূর্বে তাকে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হতো। দেশে বড় বড় কল-কারখানার প্রসার ঘটলে নতুন ও আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশ ঘটে, যার ফলে সেক্ষেত্রে বিদেশি নির্ভরতা কমে। দেশে শিল্পায়ন হলে প্রতিরক্ষার সাজ-সরঞ্জাম দেশেই উৎপাদন করা যায়; বিদেশের ওপর নির্ভর করতে হয় না। তাই বলা যায়, শিল্পায়নের মাধ্যমে একটি দেশ বিভিন্ন উপায়ে স্বনির্ভরতা অর্জন করে। গ. উদ্দীপকটি থেকে জানা যায়, ইংল্যান্ডের ব্যবসায়ী মি. জনসন ২০১৪ সালে বাংলাদেশের বেশকিছু তৈরি পোশাক কারখানা পরিদর্শন করেন এবং এ শিল্পে বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে অবগত হন। তিনি এ শিল্পের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য বেশকিছু পরামর্শ প্রদান করেন, যা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো- ১. কারিগরি উন্নয়ন: তৈরি পোশাকের উৎপাদন বৃদ্ধি, মানোন্নয়ন ও উৎপাদন ব্যয় হ্রাসের জন্য উন্নত প্রুক্তি ব্যবহার করতে হবে। এক্ষেত্রে বিদেশি প্রযুক্তি ছাড়াও দেশের অভ্যন্তরে উন্নত প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ২. উৎপন্ন পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি: আমদানিকারক দেশগুলোর চাহিদা অনুযায়ী, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের মান উন্নত করতে হবে। তাহলে বিশ্ব বাজারে আমাদের এ শিল্পের অবস্থান আরো সংহত ও দৃঢ় হবে। ৩. শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ প্রদান: আমাদের পোশাক শিল্পের অধিকাংশ শ্রমিকই গ্রাম থেকে আগত অশিক্ষিত ও অদক্ষ মহিলা। পোশাক শিল্পের উন্নতি ঘটাতে হলে এসমস্ত অদক্ষ শ্রমিকদের জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য। ৪. পোশাকের আইটেম বৃদ্ধি: প্রতিযোগী দেশগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের আইটেম বাড়াতে হবে। তাহলে কোটা না থাকা অনেক আইটেমের পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধির সুযোগ ঘটবে। ঘ. ব্রিটিশ ব্যবসায়ী মি. জনসন ২০১৫ সালে বাংলাদেশের হাজারীবাগে বেশকিছু চামড়াজাত পণ্য তৈরি কারখানা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি এ শিল্প তথা চামড়া শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আমি তার সে ধারণার সাথে একমত পোষণ করি। আমার উত্তরের সপক্ষে নিম্নরূপ যুক্তিসমূহ প্রদান করা হলো- ১. চামড়ার পর্যাপ্ততা: এদেশে প্রতিদিন বহুসংখ্যক গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া জবাই করা হয়। তাছাড়া কোরবানির সময় প্রচুর চামড়া পাওয়া যায়। তাই বলা যায়, বাংলাদেশের চামড়া শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় প্রধান কাঁচামাল তথা কাঁচা চামড়ার পর্যাপ্ত যোগান রয়েছে। ২. উন্নত চামড়া: এদেশের যে কাঁচা চামড়া পাওয়া যায় তা উন্নত মানের। এরূপ চামড়া দ্বারা প্রক্রিয়াজাত পাকা চামড়া, উৎপাদিত চামড়াজাত পণ্যের উন্নতমানের নিশ্চয়তা প্রদান করে। ৩. সস্তা শ্রম: জনবহুল দেশ হওয়ায় বাংলাদেশে শ্রমিকের সংখ্যা বেশি এবং স্বল্প মজুরিতেই শ্রমিক পাওয়া যায়। এজন্য চামড়াজাত পণ্যের উৎপাদন খরচ কম পড়ে। ৪. চামড়াজাত দ্রব্যের চাহিদা বৃদ্ধি: দেশের ভেতরে ও বাইরে চামড়াজাত দ্রব্যের চাহিদা দিনদিন বাড়ছে। তাই বিদেশের বাজারে উন্নতমানের পাকা চামড়া ও চামজাত পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারলে চামড়া শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা উজ্জ্বল হবে। সুতরাং, উপরিউক্ত যুক্তিগুলোর আলোকে মি. জনসনের সাথে সুর মিলিয়ে বলা যায়, বাংলাদেশের চামড়া শিল্প ভবিষ্যতে একটি সম্ভাবনাময় রপ্তানি শিল্প হিসেবে গড়ে উঠবে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenChattogram Board (2017)

মি. জনসন ইংল্যান্ডের একজন সফল ব্যবসায়ী। তার দেশে বাংলাদেশে উৎপাদিত বিভিন্ন তৈরি পোশাক ও চামড়াজাত পণ্য বেশ জনপ্রিয় হওয়ায় এসবের প্রায় সবকিছুই তিনি বাংলাদেশ থেকে ক্রয় করেন। ২০১৪ সালে জনসন বাংলাদেশে এসে এক সপ্তাহ অবস্থানকালে বেশকিছু তৈরি পোশাক কারখানা পরির্দশন করেন এবং এ শিল্পের বেশ কিছু সমস্যা সম্পর্কে অবগত হন। তিনি মনে করেন, কারিগরি উন্নয়ন, উৎপন্ন পণ্যের গুণগতমান বৃদ্ধি, শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ, পোশাকের আইটেম বৃদ্ধি করতে পারলে এদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আরো বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। ২০১৫ সালে মি. জনসন আবার বাংলাদেশে এসে হাজারীবাগে বেশ কিছু চামড়াজাত পণ্য তৈরি কারখানা পরিদর্শন করেন এবং এ শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাও তার কাছে খুব উজ্জ্বল মনে হয়।

ক.

হাইটেক শিল্প কী?

খ.

শিল্পায়নের মাধ্যমে কীভাবে একটি দেশ স্বনির্ভরতা অর্জন করে?

গ.

মি. জনসন কর্তৃক ২০১৪ সালে পরিদর্শনকৃত শিল্পের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে যেসব পরামর্শগুলো দিয়েছেন তার ব্যাখ্যা করো।

ঘ.

মি. জনসন ২০১৫ সালে যে শিল্প পরিদর্শন করেন, ঐ শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে যে ধারণা পোষণ করেন, তার সাথে তুমি কি একমত?- তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A, B ও C তিনটি উৎপাদনশীল কারখানার (শ্রমঘন নয়) কিছু তথ্য দেওয়া হলো: ক. আমদানি বিকল্প শিল্প কী? খ. বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি...

EPZ কী ?

EPZ অর্থ-

PPI এর পূর্ণরূপ কোনটি?

PPP এর পূর্ণরূপ নিচের কোনটি?

'SME – এর পূর্ণরূপ নিচের কোনটি?

X দেশের কয়েক দশক পূর্ব হতে বর্তমান পর্যন্ত পাট ও পাটজাত দ্রব্য প্রধান রপ্তানি দ্রব্য। তবে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, গুণগত ...

'X' দেশের রপ্তানী আয়ে সিংহভাগ আসে একটি শিল্প থেকে, যার অধিকাংশ শ্রমিক মহিলা। উক্ত শিল্পে উৎপাদিত পণ্যের আর্ন্তজাতিক বাজা...

'Y' দেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। দেশটি বেশির ভাগ শিল্পজাত দ্রব্য আমদানি করে। পূর্বে সকল মোটরসাইকেল বিদেশ থেকে আমদানি করা হতো।...

'Z' দেশের শিল্প কাঠামো ৫ প্রকার, মোট শ্রমশক্তি ২০.৪% শিল্প খাতে কাজ করে। মূলধনের অভাব, দক্ষ শ্রমিকের অভাব, ইত্যাদি সমস্য...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।