Facebook Pixel

মি. গোমস একটি কোম্পানির দুদিনে তার কর্ণধার হিসেবে নিয়োগ পান। কোম্পানির উন্নয়নের জন্য তিনি ব্যয় সংকোচন নীতি গ্রহণ ও বিভিন্ন প্রশাসনিক সংস্কার কাজের মাধ্যমে কোম্পানিকে পতনের হাত হতে রক্ষা করেন। কোম্পানির উন্নয়নের জন্য তিনি কোনো ন্যায়-নীতির তোয়াক্কা করতেন না। ব্যক্তিগতভাবেও তিনি ছিলেন চরম দুর্নীতিপরায়ণ। শেষ পর্যন্ত তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়। ক. বক্সারের যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়? খ. রেগুলেটিং অ্যাক্ট বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের মিঃ গোমস-এর সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন গভর্নর জেনারেলের কাজের মিল আছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকের মিঃ গোস্স-এর মত দুর্নীতিই তার পতন নিশ্চিত করেছিল- বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইতিহাস ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসনঃ কোম্পানি আমল

উৎস: Board Exam Question DB 2017, Board Exam Question Combined 2017

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. বক্সারের যুদ্ধ ১৭৬৪ সালে সংঘটিত হয়। খ. ভারতে ব্রিটিশ শাসন কাঠামো প্রবর্তনে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লর্ড নর্থ (Frederick North) যে আইন প্রণয়ন করেন, ইতিহাসে তা নিয়ামক আইন বা রেগুলেটিং অ্যাক্ট (Regulating Act) নামে পরিচিত। ১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্ট ভারতে ব্রিটিশ শাসন কাঠামো প্রবর্তনে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। এ আইন মোতাবেক সর্বপ্রথম ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির কলকাতাভিত্তিক কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। এ আইনটির সংক্ষিপ্ত নাম দেওয়া হয় 'North's Regulating Act, 1773' বাংলায় বলা হয় নিয়ামক আইন। গ. উদ্দীপকের মি. গোমস্ এর সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস (Warren Hastings) -এর কাজের মিল রয়েছে। ভারতবর্ষে ইংরেজ শক্তি সুসংহতকরণে ওয়ারেন হেস্টিংস এর অবদান অনস্বীকার্য। তিনি এমন এক কঠিন সময়ে বাংলায় গভর্নর জেনারেল হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন, যখন কোম্পানি দুর্নীতির দায়ভারে জর্জরিত। গর্ভনর জেনারেল পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে তিনি অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রবিষয়ক কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। লর্ড ক্লাইভ প্রবর্তিত দ্বৈতশাসনব্যবস্থার বিলোপ সাধন করে হেস্টিংস রাজস্ব ব্যবস্থায় 'কালেক্টর' নামক ইংরেজ কর্মচারীদের ওপর দায়িত্বভার অর্পন করেন এবং একটি রাজস্ব বোর্ডও গঠন করেন। দুর্ভিক্ষপীড়িত বাংলার জন্য তিনি ব্রিটিশ পার্লামেন্ট থেকে দশ লক্ষ পাউন্ড অর্থ ঋণ নিয়েছিলেন। এ ঋণ পরিশোধ করার জন্য তিনি একদিকে ব্যয় সংকোচন নীতি গ্রহণ করেন, অপরদিকে বৈধ-অবৈধ উপায়ে অর্থ সংগ্রহ করে কোম্পানির আর্থিক দৈন্য দূর করতে সচেষ্ট হন। বিচার বিভাগীয় সংস্কারের ক্ষেত্রে তিনি পারস্পরিক হস্তক্ষেপ প্রবণতা দূর করার লক্ষ্যে বাণিজ্য, বিচার ও শাসন বিভাগকে পৃথক করেন। বাণিজ্যের ক্ষেত্রে তিনি দস্তক প্রথার বিলুপ্তি সাধন করেন। কোম্পানির উন্নয়নের জন্য তিনি এমন অনেক নীতি গ্রহণ করেন যা পরবর্তীতে ব্যাপকহারে সমালোচিত হয়। উদ্দীপকে মি. গোমস্ তার কোম্পানির কর্ণধার হয়ে কোম্পানির উন্নয়নের জন্য কতিপয় সংস্কারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। যা আমার পঠিত গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস-এর কাজের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। ঘ. উদ্দীপকের মি. গোমস্ এর মত ওয়ারেন হেস্টিংস-এর দুর্নীতিই তার পতন নিশ্চিত করেছিল- উক্তিটি যথার্থ। ওয়ারেন হেস্টিংস ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিতে পরিণত করার লক্ষ্যে যে প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছিলেন তা ছিল নৈতিকতাবর্জিত। কোম্পানির আর্থিক দুরবস্থা দূরীকরণের লক্ষ্যে তিনি বৈধ-অবৈধ উপায়ে অর্থ সংগ্রহ করতে সচেষ্ট হন। দিল্লীর সম্রাট শাহ আলমের বার্ষিক ২৬ লক্ষ টাকা ভাতা বাতিল করা, জোরপূর্বক কারা ও এলাহাবাদ অঞ্চল দুটি দখল, চৈত সিংহের প্রতি অত্যাচার, অযোধ্যার বেগমদের প্রতি অবমাননাকর আচরণ, অর্থের বিনিময়ে ব্রিটিশ সৈন্য ভাড়া দেয়া প্রভৃতি কারণে হেস্টিংস সমালোচিত হন এবং তার সপরিষদ কাউন্সিলারের সাথেও তার দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। নন্দকুমারের প্রতি অন্যায় অত্যাচার ও তার ফাঁসি কার্যকর করার বিষয়টি তার আরেকটি নীতি বিরুদ্ধ কাজ। এ সকল কার্যকলাপের কারণে তার বিরুদ্ধে এদেশবাসীর অসন্তোষ ধূমায়িত হয় এবং ইংল্যান্ডের 'হাউস অব কমন্স' (House of Commons) তার নীতির তীব্র সমালোচনার করে। এরূপ প্রবল সমালোচনার মুখোমুখি হয়ে হেস্টিংস ১৭৮৫ সালে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এ প্রসঙ্গে হেস্টিংস পরম দুঃখে বলেছিলেন, "I gave you all and you have rewarded me with confiscation, disgrace and a life of impeachment." উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, উদ্দীপকের মি. গোমস্ এর মত ওয়ারেন হেস্টিংস এর দুর্নীতিই তার পতন নিশ্চিত করেছিল।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDhaka Board (2017)Combined Board (2017)

মি. গোমস একটি কোম্পানির দুদিনে তার কর্ণধার হিসেবে নিয়োগ পান। কোম্পানির উন্নয়নের জন্য তিনি ব্যয় সংকোচন নীতি গ্রহণ ও বিভিন্ন প্রশাসনিক সংস্কার কাজের মাধ্যমে কোম্পানিকে পতনের হাত হতে রক্ষা করেন। কোম্পানির উন্নয়নের জন্য তিনি কোনো ন্যায়-নীতির তোয়াক্কা করতেন না। ব্যক্তিগতভাবেও তিনি ছিলেন চরম দুর্নীতিপরায়ণ। শেষ পর্যন্ত তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়।

ক.

বক্সারের যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়?

খ.

রেগুলেটিং অ্যাক্ট বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।

গ.

উদ্দীপকের মিঃ গোমস-এর সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন গভর্নর জেনারেলের কাজের মিল আছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উদ্দীপকের মিঃ গোস্স-এর মত দুর্নীতিই তার পতন নিশ্চিত করেছিল- বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'Z' একটি বড় রাজ্যের শাসন ক্ষমতা হাতে পাওয়ার পর আশেপাশের ক্ষুদ্র রাজ্যগুলোর দিকে দৃষ্টি দেন। তিনি দেখেন যে পরস্পর বিবদম...

অধীনতামূলক নীতি গ্রহণের ফলে ভারতীয় রাজ্যগুলোর পরিণতি কী হয়েছিল?

অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি প্রয়োগ করেন কে?

'অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি' বলতে কোনটি বোঝায়?

অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির কয়টি শর্ত ছিল?

. অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির জন্য প্রাণ দিতে হয় কাকে?

অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির প্রবস্তা কে ছিলেন?

অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির লক্ষ্য কী?

অধীনতামূলক মিত্রতানীতি প্রথম কোথায় প্রয়োগ করা হয়?

অধ্যাপক মোঃ মোজাম্মেল হক সবার সাথে বসে টিভিতে 'The Sword of Tipu Sultan' চলচ্চিত্রটি দেখছিলেন। পরিবারের সবার এটি পছন্দের...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।