ক.
মানুষের জীবনের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর জন্য উদ্ভিদ ও প্রাণিজগতের স্বাভাবিক জন্ম-বৃদ্ধি প্রক্রিয়ার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন উপকরণ ও পদ্ধতির সাহায্যে মাটি থেকে উদ্ভিদ ও প্রাণিজ সম্পদ উৎপাদন করাকে কৃষি বা কৃষিকাজ বলে।
খ.
অনুন্নত ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর বেশিরভাগ কৃষক দরিদ্র হয়ে থাকে। বিভিন্ন কৃষি উপকরণ ক্রয়, গুদামঘর নির্মাণ, প্রাথমিক ইত্যাদি প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহণ, বাজারজাতকরণ ইত্যাদি কাজে কৃষকদের প্রচুর অর্থের দরকার হয়। কিন্তু নিজস্ব তহবিল থেকে তারা এর সামান্য অংশই যোগান দিতে পারে। এজন্য কৃষকরা বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ও অ-প্রাতিষ্ঠানিক উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ করে।
গ.
উদ্দীপকে মি. আসিফের খামার হচ্ছে জীবন নির্বাহী খামার আর মি. সুজনের খামার হচ্ছে বাণিজ্যিক খামার। জীবন নির্বাহী খামার ও বাণিজ্যিক খামারের মধ্যে পার্থক্য আলোচনা করা হলো-
১. খামারের আয়তন : জীবন নির্বাহী খামারের আয়তন ক্ষুদ্র হয় এবং অতিমাত্রায় প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। পক্ষান্তরে, বাণিজ্যিক খামারের আয়তন অপেক্ষাকৃত বৃহৎ হয় এবং প্রকৃতির ওপর রুম নির্ভরশীল।
২. চাষাবাদ পদ্ধতি: জীবন নির্বাহী খামারে চাষাবাদ পদ্ধতি চিরাচরিত, ব্যবস্থাপনা অসংগঠিত এবং পরিদর্শন ব্যবস্থা অদক্ষ। পক্ষান্তরে, বাণিজ্যিক খামারের চাষাবাদ পদ্ধতি আধুনিক, ব্যবস্থাপনা পরিকল্পিত এবং দক্ষ পরিদর্শন ব্যবস্থা বিদ্যমান।
৩. দক্ষতা: জীবন নির্বাহী খামারে কারিগরি কৌশল প্রয়োগ করা যায় না। তাই এটি কম দক্ষ। বাণিজ্যিক খামারে কারিগরি কৌশল প্রয়োগ করা যায়। তাই এটি অধিক দক্ষতাপূর্ণ।
৪. উৎপাদনের উদ্দেশ্য: জীবন নির্বাহী খামারে পারিবারিক ভোগই একমাত্র উদ্দেশ্য। বাণিজ্যিক খামারে উৎপাদনের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ বাণিজ্যিকভিত্তিক।
৫.ঝুঁকি গ্রহণ : জীবন নির্বাহী খামারে একটি মাত্র ঝুঁকি হলো প্রতিকূল আবহাওয়া। অপরদিকে, বাণিজ্যিক খামারের ঝুঁকি বহুবিধ। যেমন : উপকরণ মূল্য, উৎপাদিত পণ্যমূল্য, বাজারজাতকরণ ঝুঁকি প্রভৃতি।
উদ্দীপকে মি. আসিফের জমির পরিমাণ কম এবং উৎপাদিত ফসল দিয়ে কোনোভাবে পরিবারের ভরণ-পোষণ নির্বাহ করেন। যা জীবন নির্বাহী খামারকে নির্দেশ করে। অন্যদিকে, মি. সুজনের খামারের মাধ্যমে উৎপাদিত ফসল বিক্রয়ের মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করা হয় যা বাণিজ্যিক খামারকে নির্দেশ করে।
ঘ.
উদ্দীপকে মি. আসিফের খামারটি জীবন নির্বাহী খামার আর মি. সুজনের খামারটি বাণিজ্যিক খামার। জীবন নির্বাহী খামারের তুলনায় বাণিজ্যিক কৃষি খামার বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
বাণিজ্যিক খামার বলতে বোঝায় বৃহৎ আয়তনের ভূমি যেখানে অধিক শ্রম, পুঁজি, প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে অধিক উৎপাদন, অধিক উদ্বৃত্ত এবং অধিক মুনাফা সৃষ্টি হয়। এ ধরনের খামারে উৎপাদনকার্য পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা, তত্ত্বাবধান এবং বাজারজাতকরণে দক্ষ শ্রমবিভাগ প্রবর্তিত হয়। এ ধরনের খামার বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে বাণিজ্যিকভিত্তিক বৃহদায়তন উৎপাদন ব্যবস্থা পরিচালনা করে। বাণিজ্যিক খামারে প্রচুরসংখ্যক দক্ষ/অদক্ষ শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়। পর্যাপ্ত মূলধন ও প্রচুর শ্রমিকের সাহায্যে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় উদ্বৃত্ত (Surplus) সৃষ্টি হয়। এই উদ্বৃত্ত উৎপাদন খামারজাত করার মাধ্যমে প্রচুর মুনাফা আসে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা প্রভৃতি দেশে পর্যাপ্ত জমি থাকায় বাণিজ্যিক খামারের ব্যাপক প্রাধান্য দেখা যায়।
উদ্দীপকে মি. সুজনের খামারের আয়তন বড় হওয়ায় সে পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর পর উদ্বৃত্ত ফসল বিক্রি করে মুনাফা অর্জন করে। এই উদ্ধৃত উৎপাদন দেশের উন্নয়নে ব্যাপকভাবে অবদান রাখে।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, মি. সুজনের খামার তথা বাণিজ্যিক খামার বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।