ক.
মূল্যবোধ হলো সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তিস্বরূপ এমন কিছু আচার-আচরণ ও বিশ্বাসের সমষ্টি, যা মানুষের কার্যাবলিকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে।
খ.
পৌরনীতি ও সুশাসনের সাথে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) এবং রাজনীতি বিজ্ঞানের গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিকের অধিকার, কর্তব্য এবং রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি এই শাসনপ্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করে তুলেছে। মূলত সুশাসনের লক্ষ্য অর্জনে এবং নাগরিক সেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তথ্যপ্রযুক্তি এখন একটি অপরিহার্য অনুষঙ্গ হিসেবে কাজ করছে।
গ.
উদ্দীপকে পাসপোর্ট অফিসের কর্মচারী ফারুকের ভূমিকা পুরাতন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, অস্বচ্ছতা এবং দুর্নীতির সুযোগ তৈরির পরিচায়ক।
ই-গভর্ন্যান্সের অনুপস্থিতিতে যখন ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে সেবা প্রদান করা হয়, তখন প্রায়ই সেখানে দীর্ঘসূত্রতা ও সেবাপ্রার্থীর হয়রানি পরিলক্ষিত হয়। ই-গভর্ন্যান্সের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো এই ধরনের ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে আনা।
উদ্দীপকে মি. আব্দুর রহিম পাসপোর্টের জন্য ফারুকের কাছে অনেক ঘোরাঘুরি করেও সেবা পাননি, যা প্রশাসনের জবাবদিহিতার অভাব এবং নাগরিক দুর্ভোগকে নির্দেশ করে। এটি ই-গভর্ন্যান্সের বিপরীত চিত্র, যেখানে ব্যক্তির মর্জির ওপর সেবা নির্ভর করে। এই ধরনের ভূমিকা সেবাপ্রদান প্রক্রিয়ায় অনাবশ্যক বিলম্ব ঘটায় এবং দুর্নীতির সুযোগ বৃদ্ধি করে, যা শেষ পর্যন্ত সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।
ঘ.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় উদ্দীপকে উল্লিখিত অনলাইন পদ্ধতি বা ই-গভর্ন্যান্সের ভূমিকা অত্যন্ত অপরিহার্য। এটি এমন একটি প্রযুক্তিনির্ভর শাসনব্যবস্থা যা সরকারি কার্যক্রমকে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং জনবান্ধব করে তোলে।
ই-গভর্ন্যান্স সরকারি তথ্য ও প্রক্রিয়াকে জনগণের কাছে উন্মুক্ত করার মাধ্যমে স্বচ্ছতা-বৃদ্ধি করে এবং দুর্নীতির সুযোগ কমিয়ে দেয়। ডিজিটাল রেকর্ড এবং অনলাইন ট্র্যাকিং সিস্টেমের কারণে প্রতিটি কাজের জন্য কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়, যা সুশাসনের একটি অন্যতম মূল স্তম্ভ। এছাড়া, এই পদ্ধতিতে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব হ্রাস পায় এবং সরাসরি নাগরিকদের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. আব্দুর রহিম প্রথাগত পদ্ধতিতে পাসপোর্ট করতে গিয়ে ফারুক নামক কর্মচারীর মাধ্যমে হয়রানির শিকার হন, যা প্রশাসনিক অস্বচ্ছতার প্রতীক। কিন্তু পরবর্তীতে যখন তিনি অনলাইন বা ই-গভর্ন্যান্স পদ্ধতি ব্যবহার করেন, তখন কোনো ভোগান্তি ছাড়াই স্বল্প সময়ে সেবাটি পেয়ে যান। এটি প্রমাণ করে যে, ই-গভর্ন্যান্স প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং জনগণের মূল্যবান সময় ও অর্থ সাশ্রয় করে।
অতএব বলা যায়, ই-গভর্ন্যান্স কেবল প্রযুক্তির ব্যবহার নয়, বরং এটি একটি আধুনিক সংস্কার প্রক্রিয়া যা সরকারকে জনগণের প্রতি সংবেদনশীল করে তোলে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই পদ্ধতিটি একটি টেকসই সুশাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরাসরি সহায়তা করে। তাই আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ই-গভর্ন্যান্সের ভূমিকা অনস্বীকার্য।