Facebook Pixel

মিয়ানমারে সাম্প্রতিক সময় ব্যাপক হারে মুসলিম নির্যাতন চলে। সে দেশের নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক। নির্যাতনের ফলে প্রাণ বাচানোর জন্য দলে দলে রোহিঙ্গা মুসলিম প্রতিবেশী বাংলাদেশে অশ্রয় গ্রহণ করে। এ সংখ্যা প্রায় ১০ লক্ষ। বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ ও দেশি বিদেশি বিভিন্ন সাহায্য সংস্থা এসব শরণার্থীদের মানবি সাহায্যে এগিয়ে আসে। জাতিসংঘ মিয়ানমারের সমালোচনায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করলেও মিয়ানমারের মানবতাবাদী শান্তিতে নোবেলপ্রাপ্ত নেত্রী সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে নীরবতা অবলম্বন করে। ক. আগরতলা ষড়যন্ত্র মামরার প্রধান আসামি কে ছিলেন? খ. বাংলাদেশের যুদ্ধ বন্ধে জাতিসংঘের ভূমিকা কেমন ছিল। বুঝিয়ে লেখ। গ. উদ্দীপকের শরণার্থীর ন্যায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কোন ঘটনার মিল রয়েছে ব্যাখ্যা কর। ঘ. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জাতিসংঘের ভূমিকাকে তুমি কীভাবে মূল্যায়ন করবে- বিশ্লেষণপূর্বক তোমার মতামত তুলে ধর।

বিষয়: ইতিহাস ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৮ঃ মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাঙালি ও বহিঃবিশ্ব

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান আসামি ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। খ. ১৯৭১ সালে জাতিসংঘে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রাম। জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব ড. উ থান্ট পূর্ব পাকিস্তানের মানবিক পরিস্থিতিতে গভীরভাবে ব্যথিত হলেও পরাশক্তির দ্বন্দ্বের পটভূমিতে তিনি কিছুই করতে পারেননি। অর্থাৎ বাংলাদেশে গণহত্যা বন্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জাতিসংঘ তার ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছিল। গ. উদ্দীপকের শরণার্থীর ন্যায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতে শরণার্থী আশ্রয় নেওয়ার ঘটনার মিল রয়েছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত সরকার শরণার্থীদের আশ্রয়, অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসাসহ নানা রকম সহযোগিতা করেছিল। শরণার্থীদের আশ্রয়ের পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের হালকা অস্ত্র দিয়ে ট্রেনিং প্রদান, কলকাতায় প্রবাসী সরকার গঠনে সহায়তা প্রদান, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র গঠনে ভারত সরকারের উদ্যোগ ও সহযোগিতা, ছিল বর্ণনাতীত। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্ব জনমত গড়ে তোলার জন্য পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছেন। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বিশ্ব জনমত বাংলাদেশের পক্ষে আসে। প্রায় ১ কোটি শরণার্থীর সাহায্যের জন্য ভারত নিজস্ব তহবিল থেকে অনেক অর্থ ব্যয় করে। তাছাড়া মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে ভারত সরাসরি সামরিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় এবং আমাদের স্বাধীনতা অর্জনকে সহজ করে তোলে। ৬ ডিসেম্বর ভারত বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। উদ্দীপকে মিয়ানমারে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক হারে মুসলিম নির্যাতন চলে। সে দেশের নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক নির্যাতনের ফলে প্রাণ বাঁচানোর জন্য দলে দলে রোহিঙ্গা মুসলিম প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করে। তদ্রুপ ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ১ কোটি বাঙালি শরণার্থী ভারতে আশ্রয় নেয়। অর্থাৎ উদ্দীপকের শরণার্থীর ন্যায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতে শরণার্থী আশ্রয় নেওয়ার ঘটনার মিল বিদ্যমান। ঘ. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জাতিসংঘের ভূমিকাকে আমি দায়িত্বহীনতার পরিচয় বলে মূল্যায়ন করব। কেননা, জাতিসংঘ বিশ্বশান্তি এবং মানবতাবিরোধী কার্যক্রমের রক্ষক হয়েও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তারা গুরুত্বপূর্ণ কোনো দায়িত্ব পালন করেনি। পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর নির্বিচারে গণহত্যার এবং নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অনুযায়ী মানবকল্যাণের কথা তখন তাদের মনে উদয় হয়নি। এছাড়া যুদ্ধ ও উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্য নিয়ে তারা যাত্রা শুরু করলেও বাংলাদেশ-পাকিস্তান যুদ্ধ বন্দের জন্য কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। প্রায় ১ কোটি শরণার্থীর ভিড়ে জর্জরিত ভারতের বন্ধু রাষ্ট্রসমূহ রাশিয়া, পোল্যান্ড প্রভৃতি রাষ্ট্র জাতিসংঘকে বাংলাদেশের পাকহানাদার বাহিনীর গণহত্যা বন্ধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠার আবেদন জানায়। তখনও জাতিসংঘ দায়িত্বহীনের মতো নীরবতা পালন করেছিল। এমনকি বাংলাদেশে পাকহানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত আক্রমণ, নিপীড়ন এবং নির্যাতনে জাতিসংঘের নিরবতা দেখে বিশ্বের শান্তিপ্রিয় মানুষের মনেও হতাশার সৃষ্টি হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে মুজিবনগর সরকার নামক একটি কার্যকরী সরকার থাকলেও জাতিসংঘ বাংলাদেশের এ সরকার ও রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়নি। উপরিউক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে আন্তর্জাতিক সংগঠন হিসেবে জাতিসংঘের যে দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল তা তারা পালন করেনি। তাই এক্ষেত্রে তাদের ভূমিকাকে দায়িত্বহীন বলাই সমীচীন হবে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

মিয়ানমারে সাম্প্রতিক সময় ব্যাপক হারে মুসলিম নির্যাতন চলে। সে দেশের নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক। নির্যাতনের ফলে প্রাণ বাচানোর জন্য দলে দলে রোহিঙ্গা মুসলিম প্রতিবেশী বাংলাদেশে অশ্রয় গ্রহণ করে। এ সংখ্যা প্রায় ১০ লক্ষ। বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ ও দেশি বিদেশি বিভিন্ন সাহায্য সংস্থা এসব শরণার্থীদের মানবি সাহায্যে এগিয়ে আসে। জাতিসংঘ মিয়ানমারের সমালোচনায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করলেও মিয়ানমারের মানবতাবাদী শান্তিতে নোবেলপ্রাপ্ত নেত্রী সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে নীরবতা অবলম্বন করে।

ক.

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামরার প্রধান আসামি কে ছিলেন?

খ.

বাংলাদেশের যুদ্ধ বন্ধে জাতিসংঘের ভূমিকা কেমন ছিল। বুঝিয়ে লেখ।

গ.

উদ্দীপকের শরণার্থীর ন্যায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কোন ঘটনার মিল রয়েছে ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জাতিসংঘের ভূমিকাকে তুমি কীভাবে মূল্যায়ন করবে- বিশ্লেষণপূর্বক তোমার মতামত তুলে ধর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ICEC আন্তর্জাতিক সংস্থা যার উদ্দেশ্য হলো- i. শরণার্থী শিবিরে ত্রাণ বিতরণ ii.অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীদের মাঝে খাবার ও চিকিৎসা ...

মুক্তিযুদ্ধের সময়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন কে?

মুসলিম দেশসমূহের মধ্যে কোন দেশ প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়?

সোভিয়েত ইউনিয়নের নৌবহরে মোট কতটি যুদ্ধজাহাজ ছিল?

অনুচ্ছেদটি পড়ে নিম্নোক্ত প্রশ্নের উত্তর দাওঃ 'ক' দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে এক বিরূপ মন্...

আজকের আমেরিকা একসময় ব্রিটিশদের উপনিবেশ ছিল। আঠারো শতকের শেষের দিকে আমেরিকানরা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীন...

আজকের আমেরিকা একসময় ব্রিটিশের ঔপনিবেশ ছিল। আঠারো শতকের শেষের দিকে আমেরিকানরা ব্রিটিশের ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীন...

আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে ফ্রান্স বিপ্লবীদের রসদ ও অন্ত সরবরাহ করে সাহায্য করে। তারা স্থল ও নৌ পথে আমেরিকার স্বাধীনতাকাম...

আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে ফ্রান্স বিপ্লবীদের রসদ ও অস্ত্র সরবরাহ করে সাহায্য করে। তারা স্থল ও নৌপথে আমেরিকার স্বাধীনতাকা...

আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে ফ্রান্স বিপ্লবীদের রসদ ও অস্ত্র সরবরাহ করে সাহায্য করে। তারা স্থল ও নৌ পথে আমেরিকার স্বাধীনতাক...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।