ক.
জর্জ হ্যারিসন ছিলেন ব্রিটেনের একজন বিখ্যাত সংগীত শিল্পী।
খ.
ভেটো অর্থ 'আমি এটি মানি না'। জাতিসংঘের কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পাঁচটি স্থায়ী সদস্যরাষ্ট্র যেমন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন তাদের অনাস্থা প্রস্তাব করার ক্ষমতা রয়েছে। এ ক্ষমতাকে ভেটো বলা হয়। কোনো স্থায়ী সদস্যরাষ্ট্র কর্তৃক জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত যেকোনো প্রস্তাবে অনাস্থা প্রয়োগ করে একে বাতিল করার ক্ষমতাকে ভেটো ক্ষমতা বলা হয়। এ স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রগুলো তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করে নিরাপত্তা পরিষদের গৃহীত কোনো সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিতে পারে।
গ.
উদ্দীপকের মতো আমার পাঠ্যবইয়ের ভারত প্রধানত বাংলাদেশকে সাহায্য করেছে। ভারতের প্রচার মাধ্যমের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্ববহ।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অন্যতম সহায়ক ভুমিকা হিসেবে কাজ করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম। বিশেষত প্রিন্ট মিডিয়া ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র তখন পাশে ছিল। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র সংবাদ, দেশাত্মবোধক গান, মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব গাথা, রণাঙ্গনের নানা ঘটনা ইত্যাদি দেশ ও জাতির সামনে তুলে ধরে সাধারণ মানুষকে যুদ্ধে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে অনুপ্রাণিত করে। এছাড়াও বিদেশি সাংবাদিকগণ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুদ্ধের লেলিহান শিখা ও কাহিনি ছড়িয়ে দেন। ফলে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অপপ্রচারে কেউ বিশ্বাস করেনি। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর বাংলাদেশের মুজিবনগর থেকে সর্বপ্রথম দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এটি ছিল মুজিবনগর থেকে প্রকাশিত প্রথম দৈনিক পত্রিকা। মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকার পত্রিকাগুলো বন্ধ হয়ে গেলে মুক্তাঞ্চলসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নিয়মিত-অনিয়মিতভাবে প্রকাশিত পত্রপত্রিকা ও সংবাদ সাময়িকী মুক্তিযোদ্ধাদের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হতো। ভারতীয় প্রচার মাধ্যম স্বাধীনতা সংগ্রাম ও স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যৌক্তিকতা এবং নিরীহ বাঙালির বিরুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর অন্যায় আক্রমণ ইত্যাদি বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক প্রচারণা চালিয়েছিল।
শুধু তাই নয়, মুসলিম বিশ্ব এবং পশ্চিমা শক্তিবর্গকে পাকিস্তানের পর্যায়ক্রমিক অপপ্রচারের বিরুদ্ধাচরণ করা এবং বাংলাদেশের বাস্তবতা তুলে ধরার ক্ষেত্রে এবং বিশ্ব জনমত গঠনের ক্ষেত্রে ভারতের সংবাদপত্র ও অন্যান্য গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
পাশাপাশি বিদেশি গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের শরণার্থীদের দুর্দশা, মুক্তিযুদ্ধের তৎপরতা এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞের নিদর্শনসমূহ দেখানোর ব্যবস্থাও করেছিল। এভাবে নানাবিধ তৎপরতার মাধ্যমে ভারতীয় প্রচার মাধ্যম আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে প্রচারণা চালিয়েছিল।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচার ও নির্যাতনের কারণে মুসলমান রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশ শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় গ্রহণ করেছে। ঠিক তেমনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারত নানাভাবে সাহায্য সহযোগিতা এবং প্রচার মাধ্যমের ভূমিকা রেখেছিল।
ঘ.
উক্ত দেশের অর্থাৎ ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও গ্রেটবৃটেনের সহযোগিতামূলক কর্মকাণ্ডই বাংলাদেশের বিজয়কে ত্বরান্বিত করে।
ভারত সরকার ২৫ মার্চ থেকে সংঘটিত পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার নিন্দা করে। গণহত্যার হাত থেকে বাঁচতে সীমান্ত পেরিয়ে আসা প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে ভারত আশ্রয় দেয় এবং তাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেয়। ভারতের মাটিতে এপ্রিলের শেষ দিকে বাঙালি যুবকদের সশস্ত্র ট্রেনিং দেওয়া শুরু হয় যা নভেম্বর মাস পর্যন্ত চলে। পাশাপাশি কলকাতায় প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার পরিচালনা ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র' নামে এ সরকারের বেতার কেন্দ্র স্থাপনে ভারত সহায়তা করে। এছাড়া ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীসহ বিভিন্ন মন্ত্রী নেতা ও কর্মকর্তারা বিদেশে সফর করে বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বজনমত গঠনে ভূমিকা রাখেন। ৩ ডিসেম্বর ভারতের বিমান ঘাঁটিতে পাকিস্তান বিমান হামলা চালালে চূড়ান্ত যুদ্ধ শুরু হয়। এ সময় পশ্চিম পাকিস্তান সীমান্তেও পাক-ভারত যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়।
আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের পক্ষে ভূমিকা রেখেছিল। এপ্রিলের শুরুতে সোভিয়েত প্রেসিডেন্ট পদগর্নি বাংলাদেশে গণহত্যা বন্ধ করার জন্য প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়াকে চিঠি দেন। ৩ ডিসেম্বর চূড়ান্ত যুদ্ধ শুরু হলে সোভিয়েত ইউনিয়ন যুদ্ধবিরতি বিলম্বিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। উদ্দেশ্য ছিল যৌথবাহিনীকে ঢাকা দখল করার পূর্ব মহূর্ত পর্যন্ত যেকোনো প্রকারে যুদ্ধবিরতির পদক্ষেপকে ঠেকিয়ে রাখাই নিরাপত্তা পরিষদে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেটোদানের উদ্দেশ্য ছিল। তাদের এ উদ্দেশ্য সফল হয়। তাছাড়া গ্রেটবৃটেত্রের প্রচার মাধ্যমগুলো বাংলাদেশের বিজয়কে ত্বরান্বিত করে। বৃটেনের বিখাত শিল্পী জর্জ হ্যারিসন কনসার্টের মাধ্যমে বিশ্ব জনমত গঠন ও দান সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পরিশেষে বলা যায় যে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে মিত্ররাষ্ট্র ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও গ্রেট বৃটেন অকৃত্রিমভাবে সাহায্য করে। বাংলাদেশের বিজয়কে ত্বরান্বিত করে।