(ক)
কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র রক্তনালি ও হৃৎপিণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করার পদ্ধতিই হলো ব্যারোরিফ্লেক্স।
(খ)
মানুষের সমগ্র কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র তিনটি ঝিল্লি দ্বারা আবৃত থাকে, যাদের মেনিনজেস বলে। মেনিনজেস জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হলে মেনিনজাইটিস রোগ হয়।
(গ)
উদ্দীপকের ইন্দ্রিয়টি হলো কান, যা দেহের সবচেয়ে ক্ষুদ্র অস্থিসম্পন্ন। মস্তিষ্ক থেকে আগত স্নায়ু কানের সবচেয়ে ভিতরের অংশ অর্থাৎ অন্তঃকর্ণের সাথে যুক্ত থেকে উদ্দীপনা বহন করে। নিচে অন্তঃকর্ণের গঠন বর্ণনা করা হলো:
করোটির শ্রুতি কোটরের অভ্যন্তরে অবস্থিত অন্তঃকর্ণের গঠনকে মেমব্রেনাস ল্যাবিরিন্থ বলে। এটি অস্থিময় ল্যাবিরিন্থ দ্বারা পরিবেষ্টিত। মেমব্রেনাস ল্যাবিরিন্থ এন্ডোলিম্ফ নামক তরলে এবং অস্থিময় ল্যাবিরিন্থ পেরিলিম্ফে পূর্ণ। প্রতিটি অন্তঃকর্ণ ইউট্রিকুলাস এবং স্যাকুলাস নামক দুটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত।
ইউট্রিকুলাস অন্তঃকর্ণের উপরের দিকের গোল প্রকোষ্ঠ। ইউট্রিকুলাসের সাথে দুটি উল্লম্ব ও একটি অনুভূমিকভাবে অবস্থিত মোট ৩টি অর্ধবৃত্তাকার নালি থাকে। নালিগুলো পরস্পর সমকোণে অবস্থিত। প্রতিটি নালির এক প্রান্ত স্ফীত হয়ে অ্যাম্পুলা গঠন করে, যার মধ্যে সংবেদী কোষ ও রোম থাকে। রোমগুলো চুনময় ওটোলিথ দানা সম্বলিত জেলির মতো ক্যুপুলায় আবৃত থাকে।
স্যাকুলাস অন্তঃকর্ণের নিচের দিকের প্রকোষ্ঠ, যা অঙ্কীয়দেশ থেকে প্রলম্বিত হয়ে শামুকের খোলকের মতো প্যাচানো একটি নালিকার সৃষ্টি করেছে, যার নাম ককলিয়া। এটি তিন প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট: উপরের পেরিলিম্ফে পূর্ণ স্ক্যালা ভেস্টিবুলি, মাঝের এন্ডোলিম্ফে পূর্ণ স্ক্যালা মিডিয়া এবং নিচের পেরিলিম্ফে পূর্ণ স্ক্যালা টিমপেনি। স্ক্যালা মিডিয়া উপরে রেইসনার-এর ঝিল্লি ও নিচে বেসিলার ঝিল্লিতে আবদ্ধ। বেসিলার ঝিল্লির উপরের কিছু এপিথেলিয়াল কোষ রূপান্তরিত হয়ে সংবেদী অর্গ্যান অব কটি গঠন করে। এগুলোর সংবেদী রোমও ক্যুপুলায় আবৃত থাকে।
(ঘ)
উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটি হলো মানুষের কান। এটি দেহের সবচেয়ে ক্ষুদ্র অস্থিসমূহ, যথা—ম্যালিয়াস, ইনকাস ও স্টেপিস নিয়ে গঠিত। কান মানুষের শ্রবণ ও ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করে। উভয় কাজে অস্থিসমূহের ভূমিকা নিচে আলোচনা করা হলো:
শ্রবণ কৌশল: বহিঃকর্ণের পিনায় সংগৃহীত শব্দতরঙ্গ বহিঃঅডিটরি মিটাসে প্রবেশ করে টিমপেনিক পর্দাকে আঘাত করলে তা কেঁপে ওঠে। কাঁপনের ফলে মধ্যকর্ণে অবস্থিত ম্যালিয়াস, ইনকাস ও স্টেপিস অস্থি তিনটি এমনভাবে আন্দোলিত হয় যার ফলে প্রথমে ফেনেস্ট্রা ওভালিসের পর্দা ও পরে অন্তঃকর্ণের ককলিয়ার পেরিলিম্ফে কাঁপন সৃষ্টি হয়। পেরিলিম্ফে কাঁপন হলে ককলিয়ার অর্গান অব কটির সংবেদী রোম কোষগুলো উদ্দীপ্ত হয়ে স্নায়ু আবেগের সৃষ্টি করে। এ আবেগ অডিটরি স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কের শ্রবণকেন্দ্রে বাহিত হলে মানুষ শুনতে পায়। এরপর শব্দতরঙ্গ ফেনেস্ট্রা রোটান্ডা পর্দার মাধ্যমে মধ্যকর্ণে চলে আসে এবং প্রশমিত হয়ে যায়।
ভারসাম্য রক্ষা: মানুষের অন্তঃকর্ণের ইউট্রিকুলাসের অর্ধবৃত্তাকার নালিসমূহ, ইউট্রিকুলাস ও স্যাকুলাস (ককলিয়া ব্যতীত) ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করে। অন্তঃকর্ণের ইউট্রিকুলাস ও স্যাকুলাসের বিভিন্ন জায়গায় সংবেদী কোষগুচ্ছ থাকে, যেখান থেকে সংবেদী রোম বের হয়। রোমগুলোর চারদিকে এন্ডোলিম্ফে ভাসমান ওটোলিথ নামক চুনময় পদার্থ সংবলিত জেলির মতো ক্যুপুলা থাকে। মানুষের মাথা কোনো এক তলে হেলে গেলে ওটোলিথগুলো ক্যুপুলার সংবেদী রোমের সংস্পর্শে আসে, ফলে সংবেদী কোষগুলো উদ্দীপ্ত হয়। এ উদ্দীপনা স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছালে মানুষ দেহের আপেক্ষিক অবস্থান বুঝতে পারে। তখন মস্তিষ্কের নির্দেশে প্রয়োজনীয় পেশির সংকোচনে মাথা আবার স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরে আসে এবং দেহের ভারসাম্য রক্ষিত হয়।