(ক)
রাজনৈতিক অধিকার হলো সেসব অধিকার যেগুলোর মাধ্যমে নাগরিকগণ রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে।
(খ)
জনগণ তাদের চেতনাবোধ, সতর্কতা ও সজাগ দৃষ্টির মাধ্যমে স্বাধীনতার রক্ষাকবচের ভূমিকা পালন করতে পারে।
জনগণ স্বাধীনতা রক্ষার জন্য সচেতন না হলে এবং যেকোনো ধরনের আত্মত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত না থাকলে স্বাধীনতা রক্ষা অসম্ভব। চিরন্তন সতর্কতা ও সাহসিকতার মধ্যেই স্বাধীনতার মূল নিহিত। নিজেদের অধিকার ও স্বাধীনতা সুরক্ষিত করার জন্য জনগণকে সংগ্রাম করতে হয়। স্বাধীনতা রক্ষা করতে হলে জনগণের মধ্যে স্বাধীনতার জন্য তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকতে হবে। এভাবে জনগণ স্বাধীনতার রক্ষাকবচের ভূমিকা পালন করতে পারে।
(গ)
উদ্দীপকে রাজনৈতিক অধিকার হিসেবে ভোট প্রদানের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
নাগরিকরা রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণের জন্য যে সব অধিকার ভোগ করে তাকে রাজনৈতিক অধিকার বলে। উদ্দীপকে বর্ণিত মেজবাহ ও বিলকিছ ভোট প্রদানের অধিকার রাজনৈতিক অধিকারের উপস্থিতিকে নির্দেশ করে। ভোট প্রদান ছাড়াও নাগরিকের আরও কিছু রাজনৈতিক অধিকার রয়েছে।
রাজনৈতিক অধিকার হিসেবে আইনসঙ্গত বিধি-নিষেধ সাপেক্ষে সকল নাগরিকের রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার রয়েছে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যোগ্যতা অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের সরকারি চাকরি লাভের অধিকার রয়েছে। বিদেশে অবস্থানকালে একজন নাগরিক কোনো সমস্যায় পড়লে তার নিজ রাষ্ট্রের সাহায্য ও নিরাপত্তা সুবিধা লাভের অধিকার রয়েছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকারের কোনো ভুল সিদ্ধান্ত বা জনস্বার্থবিরোধী কার্যকলাপের সমালোচনা করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক ও যোগ্যতাসম্পন্ন প্রত্যেক নাগরিকের জাতীয় কিংবা স্থানীয় যেকোনো পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার অধিকার রয়েছে।
(ঘ)
উদ্দীপকের বিলকিছ অর্থনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তার এ অধিকার রক্ষায় বেশ কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।
অর্থনৈতিক অধিকার বলতে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে মানুষের সুযোগ-সুবিধা লাভ করাকে বোঝায়। যেমন: কর্মের অধিকার, উপযুক্ত পারিশ্রমিকের অধিকার, অবকাশ লাভের অধিকার, শ্রমিকসংঘ গঠনের অধিকার ইত্যাদি। উদ্দীপকের বিলকিছ সমান কাজ করেও তার ভাই মেজবাহর চেয়ে কম পারিশ্রমিক পায়। অর্থাৎ সে অর্থনৈতিক অধিকার থেকেই বঞ্চিত হয়েছে। তার এ অধিকার রক্ষার জন্য আইনের যথাযথ প্রয়োগ ঘটাতে হবে। কেননা, নাগরিকের অধিকার সংরক্ষণের প্রধান উপায় হচ্ছে আইন। আইনের যথাযথ প্রয়োগ অধিকারকে সুরক্ষিত করে।
উদ্দীপকে বর্ণিত বিলকিছের অর্থনৈতিক অধিকার রক্ষার জন্য আইনের শাসন বাস্তবায়ন করতে হবে। রাষ্ট্রে আইনের শাসন থাকলে নাগরিকরা নিজ নিজ অধিকার ভোগ করতে পারে। আইনের শাসনের পাশাপাশি বিলকিছকেও অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। বিলকিছ যদি তার অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয় এবং তা রক্ষার জন্য সচেষ্ট হয় তবে অন্য কেউ তার অধিকার খর্ব করতে পারবে না। বিলকিছের পাশাপাশি রাষ্ট্রকেও বিলকিছের অর্থনৈতিক অধিকার রক্ষার জন্য এগিয়ে আসতে হবে। পরিশেষে বলা যায়, অর্থনৈতিক অধিকার উদ্দীপকে উল্লেখিত বিলকিছসহ সব নাগরিকের অন্যতম মৌলিক অধিকার। এ অধিকার রক্ষার জন্য সরকার ও নাগরিকের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা অপরিহার্য।