(ক)
কোনো পণ্যের উৎপাদন খরচ কমাতে বা পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে সরকার উৎপাদনকারীকে যে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে, তাকে ভর্তুকি বলে।
(খ)
বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যের বাধা দূর করে মুক্তবাজার অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে WTO (World Trade Organization) বা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা গঠন করা হয়।
এর মূল লক্ষ্য হলো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করা, আমদানি-রপ্তানি শুল্ক হ্রাস করা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিয়মাবলী নির্ধারণ করে বিশ্ববাণিজ্যকে গতিশীল ও ন্যায়সঙ্গত করা। এর মাধ্যমে বিশ্বসম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা সম্ভব হয়।
(গ)
উদ্দীপকে মৃদুলা এসএমই (SME) ফাউন্ডেশন থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (Small and Medium Enterprise) বা এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে এই খাতের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার যে বিশেষ সংস্থা গঠন করেছে, তাকে এসএমই ফাউন্ডেশন বলে। এই সংস্থাটি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান, ঋণ প্রাপ্তিতে সহায়তা এবং কর রেয়াতের মতো সুযোগ-সুবিধা পেতে সুপারিশ করে থাকে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মৃদুলা একটি হস্তশিল্প কারখানা স্থাপনের পূর্বে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত একটি সংস্থা থেকে প্রশিক্ষণ নেন এবং ওই সংস্থাটি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের কর রেয়াতের জন্য সুপারিশ করে। এই বৈশিষ্ট্যগুলো এসএমই ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের সাথে হুবহু মিলে যায়। সুতরাং, বলা যায় যে মৃদুলা এসএমই ফাউন্ডেশন থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।
(ঘ)
মিসেস উর্মির পণ্য বিদেশে রপ্তানিতে সহযোগিতা প্রদান সংরক্ষণমূলক সহায়ক সেবার অন্তর্গত। এছাড়া মিসেস উর্মি যে সমিতির সদস্য পদ গ্রহণ করেছেন তা হলো বিজিএমইএ (BGMEA)।
ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করার পর উদ্যোক্তারা যেসব প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন, তা কাটিয়ে উঠতে এবং ব্যবসায়ের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সরকার বা বিভিন্ন সংস্থা যে সহায়তা প্রদান করে, তাকে সংরক্ষণমূলক সহায়ক সেবা বলে। রপ্তানি সহায়তা এই সেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বিজিএমইএ (Bangladesh Garment Manufacturers and Exporters Association) বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সবচেয়ে প্রভাবশালী সংগঠন। দেশের অর্থনীতিতে এই প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিচে মূল্যায়ন করা হলো:
১. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: বিজিএমইএর সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো পোশাক রপ্তানির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
২. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: পোশাক শিল্পে লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে, যার পেছনে বিজিএমইএর সাংগঠনিক ভূমিকা অপরিসীম।
৩. আন্তর্জাতিক বাজারজাতকরণ: বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পোশাকের ব্র্যান্ডিং এবং নতুন বাজার খুঁজে পেতে এই সমিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৪. সরকারি নীতি নির্ধারণ: পোশাক খাতের সমস্যাগুলো সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং উদ্যোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় নীতি নির্ধারণে বিজিএমইএ সক্রিয় ভূমিকা রাখে।
পরিশেষে বলা যায়, বিজিএমইএ কেবল একটি সমিতি নয়, বরং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে দেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।