Facebook Pixel

মুদ্রাস্ফীতি ও মুদ্রা সংকোচন যেকোনো দেশের অর্থনীতির জন্য খারাপ সংকেত বহন করে। তাই সরকার মুদ্রাস্ফীতি কমানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ প্রদান করে। তাই ঋণ প্রবাহ কমানোর মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতি কমানোর উদ্দেশ্যে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক হতে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে সুদের হার ৪% থেকে বাড়িয়ে ৬% করে। এমতাবস্থায় ব্যাংকগুলোর পর্যাপ্ত তারল্য থাকায় এতে তেমন কোনো কার্যক্রমের সুফল পরিলক্ষিত হয় নাই। পরবর্তীতে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে জামানত সম্পদের বিপরীতে ঋণ মার্জিনের হার কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৃদ্ধি করার নির্দেশ দেন । ক. নিকাশ ঘর কী? খ. কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ঋণদানের শেষ আশ্রয়স্থল বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো । গ. বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথম ঋণ নিয়ন্ত্রণে কোন পদ্ধতি ব্যবহার করেছে? ব্যাখ্যা করো । ঘ. উদ্দীপকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ নিয়ন্ত্রণে দ্বিতীয় পদ্ধতিটি অধিক কার্যকর ভূমিকা পালনে সক্ষম— এ সম্পর্কে তোমার মতামত বিশ্লেষণ করো ।

বিষয়: ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ কেন্দ্রীয় ব্যাংক

উৎস: Board Exam Question DiB 2022

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) নিকাশ ঘর হলো এমন একটি ব্যবস্থা বা স্থান যেখানে বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ নিজেদের মধ্যকার পারস্পরিক দেনা-পাওনা বা চেকসমূহ একে অপরের সাথে সমন্বয় বা নিষ্পত্তি করে থাকে। (খ) বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ যখন তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনায় তারল্য সংকটে পড়ে এবং অন্য কোনো উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়, তখন তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শরণাপন্ন হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক তখন ঋণদাতা হিসেবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় অর্থ সরবরাহ করে তাদের কার্যক্রম সচল রাখে। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণের শেষ আশ্রয়স্থল বলা হয়। (গ) উদ্দীপকে বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ নিয়ন্ত্রণে প্রথম যে পদ্ধতিটি ব্যবহার করেছে তা হলো ব্যাংক হার নীতি (Bank Rate Policy)। কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ঋণ প্রদানের সুদের হার বাড়িয়ে দেয়, তখন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রেও সুদের হার বাড়িয়ে দেয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য ঋণ গ্রহণের সুদের হার ৪% থেকে বাড়িয়ে ৬% করেছে। এটি ব্যাংক হার বৃদ্ধির একটি স্পষ্ট উদাহরণ। তবে উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে পর্যাপ্ত তারল্য থাকায় এই পদ্ধতিটি তেমন কার্যকর হয়নি। (ঘ) উদ্দীপকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ নিয়ন্ত্রণে দ্বিতীয় পদ্ধতিটি অর্থাৎ জামানত সম্পদের বিপরীতে ঋণ মার্জিনের হার পরিবর্তন (Change in Margin Requirements) অধিক কার্যকর ভূমিকা পালনে সক্ষম। আমার মতে, এই পদ্ধতিটি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বেশি কার্যকর হওয়ার কারণগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: ১. ঋণ মার্জিন বৃদ্ধি: যখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক জামানতের বিপরীতে ঋণ মার্জিনের হার বৃদ্ধি করে, তখন গ্রাহকরা তাদের সম্পদের বিপরীতে আগের চেয়ে কম ঋণ পায়। এতে বাজারে অর্থের সরবরাহ সরাসরি হ্রাস পায়। ২. তারল্য পরিস্থিতির প্রভাব: উদ্দীপকে দেখা গেছে, ব্যাংকগুলোর কাছে পর্যাপ্ত তারল্য থাকায় ব্যাংক হার বৃদ্ধি (প্রথম পদ্ধতি) তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। কিন্তু ঋণ মার্জিন বৃদ্ধি করলে গ্রাহকদের ঋণ পাওয়ার সক্ষমতা কমে যায়, যা ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা অতিরিক্ত তারল্য থাকা সত্ত্বেও বাজারে অর্থের প্রবাহ কমাতে সাহায্য করে। ৩. সরাসরি নিয়ন্ত্রণ: ব্যাংক হার নীতি পরোক্ষভাবে কাজ করলেও ঋণ মার্জিন পরিবর্তন পদ্ধতিটি সরাসরি ঋণগ্রহীতাদের প্রভাবিত করে। এর ফলে ঋণগ্রহীতাদের ঋণ গ্রহণের প্রবণতা কমে যায়, যা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরাসরি ভূমিকা রাখে। পরিশেষে বলা যায়, প্রথম পদ্ধতিতে ব্যাংকগুলোর নিজস্ব তারল্য থাকায় মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলেও, দ্বিতীয় পদ্ধতিতে ঋণ মার্জিন বৃদ্ধির ফলে গ্রাহকদের ঋণ পাওয়ার সুযোগ সংকুচিত হয়। তাই মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে দ্বিতীয় পদ্ধতিটি অধিক কার্যকর।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDinajpur Board (2022)

মুদ্রাস্ফীতি ও মুদ্রা সংকোচন যেকোনো দেশের অর্থনীতির জন্য খারাপ সংকেত বহন করে। তাই সরকার মুদ্রাস্ফীতি কমানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ প্রদান করে। তাই ঋণ প্রবাহ কমানোর মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতি কমানোর উদ্দেশ্যে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক হতে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে সুদের হার ৪% থেকে বাড়িয়ে ৬% করে। এমতাবস্থায় ব্যাংকগুলোর পর্যাপ্ত তারল্য থাকায় এতে তেমন কোনো কার্যক্রমের সুফল পরিলক্ষিত হয় নাই। পরবর্তীতে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে জামানত সম্পদের বিপরীতে ঋণ মার্জিনের হার কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৃদ্ধি করার নির্দেশ দেন ।

ক. নিকাশ ঘর কী?

খ. কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ঋণদানের শেষ আশ্রয়স্থল বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো ।

গ. বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথম ঋণ নিয়ন্ত্রণে কোন পদ্ধতি ব্যবহার করেছে? ব্যাখ্যা করো ।

ঘ. উদ্দীপকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ নিয়ন্ত্রণে দ্বিতীয় পদ্ধতিটি অধিক কার্যকর ভূমিকা পালনে সক্ষম— এ সম্পর্কে তোমার মতামত বিশ্লেষণ করো ।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A ব্যাংকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যাবতীয় নিয়মকানুন মেনে চলার অঙ্গীকার করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে চুক্তিবদ্ধ। অন্যদিকে, B ব্...

A ব্যাংকে B ব্যাংকের, B ব্যাংকে C ব্যাংকের ও C ব্যাংকে D ব্যাংকের কিছু চেক উপস্থাপিত হয় । উক্ত লেনদেনগুলোর নিষ্পত্তির জ...

A ব্যাংকে B ব্যাংকের, B ব্যাংকে C ব্যাংকের ও C ব্যাংকে D ব্যাংকের কিছু চেক উপস্থাপিত হয় । উক্ত লেনদেনগুলোর নিষ্পত্তির জ...

ABC ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাঝে সম্পাদিত আন্তঃব্যাংক লেনদেনের নিষ্পত্তির কাজ করে। পূর্বকার দিনে ব্যাংকটির একটি নির...

ABC ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাঝে সম্পাদিত আন্তঃব্যাংক লেনদেনের নিষ্পত্তির কাজ করে। পূর্বেকার দিনে ব্যাংকটির একটি নি...

AP ব্যাংক হলো সরকারি মালিকানাধীন জনকল্যাণমুখী একটি . আর্থিক প্রতিষ্ঠান । যেটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ন্ত্রণের জ...

BACH এর পূর্ণরূপ কোনটি?

Clearing house বা নিকাশ ঘরের কাজ কোনটি?

COVID-19 এর কারণে দেশের ব্যবসায় বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দেওয়ায় এখাতে বিনিয়োগ কমে যায়। বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় ব্যাংকগু...

CRR-এর পূর্ণরূপ কী?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।