(ক)
ATM-এর পূর্ণরূপ হলো Automated Teller Machine।
(খ)
নিকাশঘর হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যকার পারস্পরিক দেনা-পাওনা নিষ্পত্তি করা হয়।
ব্যাখ্যা: প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে নিকাশঘরের সদস্য ব্যাংকগুলোর প্রতিনিধি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিনিধি উপস্থিত হয়ে বৈঠক করেন। এখানে ব্যাংকগুলো একে অপরের মাধ্যমে প্রাপ্ত চেক, বিল বা ড্রাফটের সমন্বয়ে মোট দেনা-পাওনার বিবরণী তৈরি করে। যার ফলে প্রতিটি ব্যাংক খুব সহজেই তাদের পারস্পরিক পাওনা ও দেনার হিসাব নিষ্পত্তি করতে পারে এবং নগদ অর্থের লেনদেনের ঝামেলা কমে। এভাবে স্বয়ংক্রিয় নিকাশঘর আন্তঃলেনদেনকে সহজ ও দ্রুততর করেছে।
(গ)
উদ্দীপকে উল্লিখিত দুজন ব্যবসায়ী ডেবিট কার্ড গ্রহণ করেছিলেন।
ডেবিট কার্ড হলো এমন এক ধরনের প্লাস্টিক কার্ড যা গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে। এই কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহক তার হিসাবে জমা থাকা অর্থের পরিমাণ পর্যন্ত টাকা উত্তোলন বা পণ্য ক্রয় করতে পারেন। ডেবিট কার্ডের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর বিপরীতে ব্যাংক কোনো ঋণ সুবিধা প্রদান করে না; অর্থাৎ গ্রাহক তার জমার অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে পারেন না।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. 'X' ও মি. 'Y' পণ্য কেনাকাটায় নগদ অর্থের ঝুঁকি হ্রাসের জন্য একটি প্লাস্টিক কার্ড ব্যবহার করেন, যেখানে তারা কোনো ঋণ সুবিধা পাবেন না। এই বৈশিষ্ট্যটি ডেবিট কার্ডের সাথে সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ।
সুতরাং, বলা যায় যে উদ্দীপকের ব্যবসায়ীরা ডেবিট কার্ড গ্রহণ করেছিলেন।
(ঘ)
হ্যাঁ, আমি একমত যে মি. 'Y'-এর ব্যাংকিং সেবাটি তুলনামূলকভাবে আধুনিক।
ব্যাংকিং সেবার আধুনিকায়ন বলতে বোঝায় প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সেবাকে আরও সহজ, দ্রুত এবং গ্রাহকের হাতের নাগালে নিয়ে আসা। উদ্দীপকে মি. 'X' ইন্টারনেটের মাধ্যমে লেনদেন করেন, যা 'ইন্টারনেট ব্যাংকিং' হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে, মি. 'Y' মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সব কার্যক্রম সম্পন্ন করেন, যা 'মোবাইল ব্যাংকিং' হিসেবে পরিচিত।
ইন্টারনেট ব্যাংকিং এবং মোবাইল ব্যাংকিং উভয়েই আধুনিক সেবা হলেও মোবাইল ব্যাংকিং-এর কিছু বিশেষ সুবিধা একে আরও আধুনিক ও জনপ্রিয় করে তুলেছে:
১. সহজলভ্যতা: ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের জন্য কম্পিউটার বা ল্যাপটপ এবং স্থিতিশীল ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন হয়, কিন্তু মোবাইল ব্যাংকিং কেবল একটি সাধারণ মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই করা সম্ভব।
২. বহনযোগ্যতা: মোবাইল ফোন সবসময় সাথে থাকে বলে যেকোনো স্থান থেকে তাৎক্ষণিকভাবে লেনদেন করা যায়।
৩. দ্রুততা ও ব্যাপকতা: মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে খুব দ্রুত অর্থ স্থানান্তর, বিল পরিশোধ এবং মোবাইল রিচার্জ করা যায়, যা সাধারণ মানুষের কাছে অধিক গ্রহণযোগ্য।
উদ্দীপকের মি. 'Y' তার হাতের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সব কার্যক্রম সম্পন্ন করছেন, যা তাকে স্থান ও সময়ের সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করেছে।
অতএব, ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের তুলনায় মোবাইল ব্যাংকিং অধিক সহজলভ্য এবং ব্যবহারকারী-বান্ধব হওয়ায় মি. 'Y'-এর ব্যাংকিং সেবাটি তুলনামূলকভাবে আধুনিক।