Facebook Pixel

মি. 'X' ইংল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে বেড়াতে এসেছেন। তিনি ঢাকার আড়ং-এ বাজার করতে গিয়ে বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের পণ্য দেখে মুগ্ধ হন। পণ্যসমূহ দামে সস্তা এবং আকর্ষণীয় ডিজাইনের। মি. 'X' জানতে পারেন, যারা এগুলো উৎপাদন করে তারা খুব গরিব এবং কষ্টে জীবনযাপন করে। এতে তিনি খুব কষ্ট অনুভব করেন। ক. কুটির শিল্প কী? খ. ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের মধ্যে ২টি পার্থক্য লেখো। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পের সমস্যাসমূহ ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পের উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রচুর, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ বাংলাদেশের শিল্প

উৎস: Board Exam Question RB 2019, Board Exam Question BB 2019

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) গৃহে পারিবারিক ভিত্তিতে স্বল্প মূলধন, সহজলভ্য কাঁচামাল এবং ছোটখাটো যন্ত্রপাতির সাহায্যে যে শিল্প পরিচালিত হয় তাকে কুটির শিল্প বলে। (খ) কুটির শিল্প ও ক্ষুদ্র শিল্পের মধ্যে প্রধান দুটি পার্থক্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. মালিকানা: কুটির শিল্প সম্পূর্ণ পারিবারিক মালিকানায় পরিচালিত হয়। অন্যদিকে, ক্ষুদ্র শিল্প পারিবারিক মালিকানার পাশাপাশি অংশীদারিত্ব বা সমবায়ভিত্তিক মালিকানায় পরিচালিত হতে পারে। ২. মূলধন ও যন্ত্রপাতি: কুটির শিল্পে খুব সামান্য মূলধন এবং দেশীয় সাধারণ যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়। কিন্তু ক্ষুদ্র শিল্পে তুলনামূলক বেশি মূলধন এবং আধুনিক ও ভারী যন্ত্রপাতির ব্যবহার দেখা যায়। (গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পটি হলো কুটির শিল্প। এই শিল্পের প্রধান সমস্যাসমূহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো: ১. মূলধনের অভাব: কুটির শিল্পীরা সাধারণত অত্যন্ত দরিদ্র হন এবং তাদের কাছে জামানত থাকে না। ফলে তারা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সহজ শর্তে ঋণ পান না, যা তাদের ব্যবসার প্রসারে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ২. কাঁচামালের স্বল্পতা: মানসম্মত কাঁচামালের অভাব এবং কাঁচামালের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়। ৩. বাজারজাতকরণ সমস্যা: মধ্যসত্ত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের কারণে উৎপাদনকারীরা তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য পায় না, যার ফলে তারা অর্থনৈতিকভাবে কষ্টে জীবনযাপন করে। ৪. যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থার অভাব: কুটির শিল্পগুলো সাধারণত প্রত্যন্ত অঞ্চলে গড়ে ওঠে, ফলে পণ্য দ্রুত বাজারে পৌঁছানোর জন্য উন্নত পরিবহন ব্যবস্থার অভাব পরিলক্ষিত হয়। (ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে। এর সপক্ষে যুক্তিগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: ১. বিপুল জনশক্তির ব্যবহার: বাংলাদেশের মোট শ্রমশক্তির একটি বড় অংশ বেকার। এছাড়া গ্রামীণ নারীরা সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারণে ঘরের বাইরে কাজ করতে পারে না। এই বিপুল জনশক্তিকে কুটির শিল্পে নিয়োজিত করলে উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। ২. শৈল্পিক ও আকর্ষণীয় পণ্য: বাংলাদেশের হস্তচালিত তাঁতশিল্প, মৃৎশিল্প, বাঁশ ও বেত শিল্প এবং নকশী কাঁথার মতো পণ্যগুলো বিশ্ববাজারে অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং চাহিদাসম্পন্ন। উদ্দীপকের আড়ং-এর পণ্যগুলোর প্রতি মি. 'X'-এর মুগ্ধতা এর প্রমাণ। ৩. রপ্তানি সম্ভাবনা: উন্নত প্রযুক্তি সহায়তা এবং সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এই পণ্যগুলোর গুণগত মান বৃদ্ধি করে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা সম্ভব। ৪. বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি: যখন এই শৈল্পিক পণ্যগুলো বিদেশে রপ্তানি হবে, তখন বাংলাদেশ প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে, যা দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধি করবে। সুতরাং বলা যায়, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের আধুনিকায়ন ও বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হবে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenRajshahi Board (2019)Barisal Board (2019)

মি. 'X' ইংল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে বেড়াতে এসেছেন। তিনি ঢাকার আড়ং-এ বাজার করতে গিয়ে বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের পণ্য দেখে মুগ্ধ হন। পণ্যসমূহ দামে সস্তা এবং আকর্ষণীয় ডিজাইনের। মি. 'X' জানতে পারেন, যারা এগুলো উৎপাদন করে তারা খুব গরিব এবং কষ্টে জীবনযাপন করে। এতে তিনি খুব কষ্ট অনুভব করেন।

ক. কুটির শিল্প কী? খ. ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের মধ্যে ২টি পার্থক্য লেখো। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পের সমস্যাসমূহ ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পের উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রচুর, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।