(ক)
মোবাইল ফোনের মাধ্যমে গ্রাহক যে ব্যাংকিং সুবিধা পান তাকেই মোবাইল ব্যাংকিং বলে।
(খ)
ডেবিট কার্ড ও ক্রেডিট কার্ডের তথ্যের গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য PIN গুরুত্বপূর্ণ। PIN এর পূর্ণরূপ হলো Personal Identification Number। প্রত্যেক কার্ড ব্যবহারকারীর একটি স্বতন্ত্র এবং গোপন PIN থাকে। এই PIN ব্যবহার করেই গ্রাহক সকল ধরনের ব্যাংকিং লেনদেন সম্পাদন করেন। কোনো কারণে কার্ডটি হারিয়ে গেলেও, ব্যবহারকারীর স্বতন্ত্র PIN ব্যতীত অন্য কেউ ওই কার্ড ব্যবহার করে লেনদেন করতে পারে না। ফলে গ্রাহকের অর্থ নিরাপদ থাকে। তাই নিরাপদ লেনদেনের জন্য PIN এর গুরুত্ব অপরিসীম।
(গ)
উদ্দীপকের বর্ণনা অনুযায়ী, মি. জাওয়াদের কার্ডটি হলো ক্রেডিট কার্ড।
ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং-এর অন্যতম সেবা হলো ক্রেডিট কার্ড। এটি এমন এক ধরনের প্লাস্টিক কার্ড যার মাধ্যমে গ্রাহক ব্যাংক থেকে একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পান এবং সেই সীমার মধ্যে কেনাকাটা বা অর্থ উত্তোলন করতে পারেন। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের জন্য ব্যাংকে হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক নয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. জাওয়াদের প্রত্যয় ব্যাংকে কোনো হিসাব নেই, কিন্তু ব্যাংক তাকে একটি প্লাস্টিক কার্ড প্রদান করেছে যার দ্বারা তিনি সর্বোচ্চ ১,০০,০০০ টাকা ব্যবহার করতে পারছেন। সাধারণত ব্যাংকে হিসাব খোলা ছাড়াই কেবল ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা যায়। মি. জাওয়াদ এই কার্ডের মাধ্যমে ১,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা গ্রহণ করতে পারছেন এবং পরবর্তীতে এই অর্থ তাকে সুদসহ ফেরত দিতে হবে। সুতরাং, মি. জাওয়াদ একটি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করছেন।
(ঘ)
মি. হাসানের কার্ডটি একটি ডেবিট কার্ড, তাই তার কার্ডের সামর্থ্য ব্যাংকের জমাকৃত অর্থের পরিমাণের সাথে সম্পৃক্ত।
ডেবিট কার্ড হলো বহুল ব্যবহৃত একটি ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং সেবা। এই কার্ডটি গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে। গ্রাহক তার হিসাবে যত টাকা জমা রাখেন, ঠিক ততটুকুই এই কার্ডের মাধ্যমে উত্তোলন বা লেনদেন করতে পারেন। অর্থাৎ, গ্রাহকের হিসাবে অর্থ জমা না থাকলে এই কার্ডের মাধ্যমে কোনো লেনদেন করা সম্ভব হয় না, কারণ এটি জমার অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেয় না।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, মি. হাসানের প্রত্যয় ব্যাংকে একটি হিসাব আছে এবং সেই হিসাবের বিপরীতে ব্যাংক তাকে একটি প্লাস্টিক কার্ড প্রদান করেছে, যার দ্বারা তিনি হিসাবে জমাকৃত টাকার লেনদেন ও উত্তোলন করতে পারেন। এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে, মি. হাসান তার অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করেই লেনদেন করছেন। অন্যদিকে, মি. জাওয়াদ কোনো হিসাব না খুলেই ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে ঋণ সুবিধা পাচ্ছেন।
সুতরাং, মি. হাসানের কার্ডের সামর্থ্য তার ব্যাংক হিসাবে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। হিসাবে জমা যত বাড়বে, তার কার্ডের ব্যবহারের সামর্থ্য তত বাড়বে এবং জমা কমলে সামর্থ্যও কমে যাবে। তাই বলা যায়, মি. হাসানের কার্ডের সামর্থ্য তার ব্যাংকের জমাকৃত অর্থের পরিমাণের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত।