(ক)
BIMSTEC-এর পূর্ণরূপ হলো- Bay of Bengal Initiative for Multi-Sectoral Technical and Economic Cooperation.
(খ)
এসএমই (Small and Medium Enterprise) ফাউন্ডেশনের মূল উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন নয়। এটি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের উন্নয়নের লক্ষ্যে গঠিত একটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র অমুনাফাভোগী প্রতিষ্ঠান। এই ফাউন্ডেশনের মূল লক্ষ্য হলো ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রসার ঘটিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়তা করা। তাই বলা যায়, এসএমই ফাউন্ডেশন মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে গঠিত কোনো প্রতিষ্ঠান নয়।
(গ)
উদ্দীপকে 'এ প্লাস' কোম্পানি তার প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন থেকে সংরক্ষণমূলক সহায়ক সেবা পেয়েছে।
ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা বা সংকট দেখা দিলে যখন কোনো প্রতিনিধি সংগঠন বা অ্যাসোসিয়েশন সেই সমস্যা সমাধানে সহায়তা করে, তখন তাকে সংরক্ষণমূলক সহায়তা বলা হয়। এর মাধ্যমে ব্যবসায়ের পরিচালনাগত ঝুঁকি হ্রাস পায় এবং পণ্য বাজারজাতকরণে সহায়তা পাওয়া যায়।
উদ্দীপকের প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, মি. রিয়াজ তার কারখানায় তৈরিকৃত ১ লক্ষ পিস শার্ট ইংল্যান্ডের 'হ্যাডস' ব্র্যান্ডের কাছে পাঠাতে বিলম্ব হওয়ায় তারা তা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে 'এ প্লাস' কোম্পানি বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ে। এই সংকটময় মুহূর্তে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন সহায়তার হাত বাড়ায় এবং পণ্যগুলো ঢাকার বিভিন্ন মার্কেটে অপেক্ষাকৃত কম দামে বিক্রি করার ব্যবস্থা করে দেয়। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ লোকসান থেকে রক্ষা পায়।
সুতরাং, উদ্দীপকের এই সহায়তার ধরনটি হলো সংরক্ষণমূলক সহায়ক সেবা।
(ঘ)
উদ্দীপকের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনটি হলো বিজিএমইএ (BGMEA - Bangladesh Garments Manufacturers and Exporters Association)। দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে এই সংগঠনটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিজিএমইএ বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সর্বোচ্চ প্রতিনিধি সংগঠন। এর প্রধান লক্ষ্য হলো পোশাক শিল্পের উন্নয়ন এবং রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণ করা। রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে এর ভূমিকা নিচে মূল্যায়ন করা হলো:
১. নতুন বাজার সৃষ্টি: বিজিএমইএ দেশীয় পোশাক প্রস্তুতকারকদের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন নতুন ক্রেতা এবং বাজার খুঁজে পেতে সহায়তা করে।
২. আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী: বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মেলা ও প্রদর্শনীতে দেশীয় কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিয়ে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাকের পরিচিতি বৃদ্ধি করে।
৩. নীতি নির্ধারণ ও পরামর্শ: রপ্তানি সংক্রান্ত সরকারি নীতি প্রণয়নে সরকারের সাথে সমন্বয় করে এবং রপ্তানিকারকদের প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করে।
৪. সংকট সমাধান: উদ্দীপকের মি. রিয়াজ যেমন বিজিএমইএ-এর সহায়তায় পণ্য বিক্রির সুযোগ পেয়েছেন, তেমনি অনেক প্রতিষ্ঠান রপ্তানি বা বাজারজাতকরণের জটিলতায় পড়লে বিজিএমইএ তাদের আইনি ও ব্যবসায়িক সহায়তা প্রদান করে।
৫. মান উন্নয়ন: পোশাকের গুণগত মান বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ায়।
পরিশেষে বলা যায়, বিজিএমইএ পোশাক শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিতে এবং রপ্তানি আয় বাড়াতে এক অনস্বীকার্য ভূমিকা পালন করে।