(ক)
গ্রাহকের নামে হিসাব খুলে ব্যাংক গ্রাহককে অর্থ লেনদেন ও ব্যাংকিং সেবা পাওয়ার যে সুযোগ দেয় তাকে ব্যাংক হিসাব বলে।
(খ)
দাগকাটা চেক অধিক নিরাপদ। বাহক চেক বা হুকুম চেকের বামকোণে দুটি সমান্তরাল রেখা এঁকে যে চেক তৈরি করা হয় তাকে দাগকাটা চেক বলে। এই চেকের অর্থ সরাসরি ব্যাংক কাউন্টার থেকে নগদ উত্তোলন করা যায় না, বরং প্রাপককে তার ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করতে হয়। ফলে চেকের অর্থ ভুল হাতে যাওয়ার ঝুঁকি কমে এবং লেনদেনের নিরাপত্তা বৃদ্ধি পায়।
(গ)
উদ্দীপকের মি. রানা যে হিসাব খোলেন সেটি হলো চলতি হিসাব।
চলতি হিসাব হলো এমন এক ধরনের হিসাব যা মূলত ব্যবসায়ীদের জন্য খোলা হয়। এই হিসাবে গ্রাহক যতবার ইচ্ছা টাকা জমা ও উত্তোলন করতে পারেন এবং ব্যাংক এই হিসাবের বিপরীতে কোনো সুদ প্রদান করে না। ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে এই হিসাব সবচেয়ে উপযোগী।
উদ্দীপকের আলোকে দেখা যায়, মি. রানা বিদেশ থেকে এসে ব্যবসা করতে চান এবং তার ব্যবসায়িক কাজের জন্য ব্যাংকে একটি হিসাব খোলেন। ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রতিদিন একাধিকবার টাকা জমা ও উত্তোলনের প্রয়োজন হয়। লেনদেনের ক্ষেত্রে কোনো বাধ্যবাধকতা থাকলে ব্যবসায়িক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। আর এসব সমস্যা ব্যতীত একমাত্র ব্যাংক হিসাব হচ্ছে চলতি হিসাব। তাই বলা যায়, ব্যবসায়িক লেনদেন সহজতর করতে উদ্দীপকের মি. রানা ব্যাংকে চলতি হিসাব খোলেন।
(ঘ)
উদ্দীপকের মি. রানা তার প্লাস্টিক কার্ড (ডেবিট কার্ড) ব্যবহার করে সবসময় অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন, তবে শর্ত থাকে যে তার ব্যাংক হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ জমা থাকতে হবে।
ডেবিট কার্ড হলো ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং-এর একটি সেবা। গ্রাহক এই কার্ডের মাধ্যমে যেকোনো সময় এটিএম (ATM) মেশিনের সাহায্যে নগদ অর্থ উত্তোলন করতে পারেন এবং কেনাকাটার মূল্য পরিশোধ করতে পারেন।
উদ্দীপকে মি. রানা বিদেশ থেকে এসে ব্যবসা করতে চান এবং সে লক্ষ্যে তিনি ৪০ লক্ষ টাকা ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন। তার ব্যবসায়িক কাজের জন্য তিনি ব্যাংকে একটি চলতি হিসাব খোলেন। এরপর তিনি চেকের চেয়ে সহজ ও নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে প্লাস্টিক কার্ডের দাবি জানান, যা ব্যাংক তাকে সরবরাহ করে। ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত এই ডেবিট কার্ডটি তার ব্যাংক হিসাবের বিপরীতে দেওয়া হয়।
এটিএম মেশিনগুলো ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে এবং পিন (PIN) নাম্বারের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। যেহেতু মি. রানা তার ব্যবসায়িক কাজে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছেন, তাই তার হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ জমা থাকার সম্ভাবনা প্রবল। ফলে তিনি তার ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সবসময় অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।