Facebook Pixel

মি. রাজু একটি উন্নয়নশীল দেশের নাগরিক। দীর্ঘদিন তার দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ যথাযথভাবে বিকশিত হয়নি। আইনের শাসন ছিল না। কিন্তু বিগত নির্বাচনে গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আসায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসে। বর্তমান সরকার অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে অনিয়ম দূর করে প্রশাসনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ক. স্বজনপ্রীতি কী? খ. আইনের শাসন বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত মি. রাজুর দেশের সমস্যাগুলো তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত মি. রাজুর দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গৃহীত পদক্ষেপ ছাড়া আর কী করণীয় আছে?- বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ সুশাসন

উৎস: Board Exam Question DiB 2016

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাদানের ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তির বদলে স্বজনদের অগ্রাধিকার প্রদানই হলো স্বজনপ্রীতি। (খ) আইনের শাসন বলতে এমন এক শাসন ব্যবস্থাকে বোঝায় যেখানে আইনের চোখে সবাই সমান এবং আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। এখানে আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা হয় এবং নাগরিকরা তাদের মৌলিক ও মানবাধিকার ভোগ করতে পারে। (গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত মি. রাজুর দেশের সমস্যাগুলো হলো রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের যথাযথ বিকাশের অভাব এবং আইনের শাসনের অভাব। এই সমস্যাগুলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে প্রধান অন্তরায়। নিচে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হলো: ১. রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা: রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বলতে এমন পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির অভাব থাকে এবং গণতন্ত্র চর্চার পরিবর্তে দাঙ্গা-হাঙ্গামা, উপদলীয় কোন্দল ও সংঘাত বিদ্যমান থাকে। এটি রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা নষ্ট করে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাধা দেয়। ২. রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের বিকাশের অভাব: যখন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ দুর্বল হয় এবং এর অভ্যন্তরে গণতন্ত্র চর্চার অভাব থাকে, তখন জনকল্যাণমূলক কাজে প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরা ব্যর্থ হন। ফলে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ যথাযথভাবে বিকশিত হতে পারে না। ৩. আইনের শাসনের অভাব: আইনের শাসনের অভাবে জনগণের ব্যক্তিস্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার ও জননিরাপত্তার চরম অবনতি ঘটে। আইনের সঠিক প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অবহেলা বা বিলম্ব হলে রাষ্ট্রে অপরাধ প্রবণতা ও দুর্নীতি বেড়ে যায়। পরিশেষে বলা যায় যে, উদ্দীপকে উল্লিখিত মি. রাজুর দেশে বিদ্যমান এই সমস্যাগুলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান অন্তরায় ছিল। (ঘ) উদ্দীপকে বর্ণিত মি. রাজুর দেশে নবনির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে অনিয়ম দূর করে এবং প্রশাসনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এই পদক্ষেপগুলো ছাড়াও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আরও কিছু করণীয় রয়েছে, যা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: ১. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা: আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সুশাসন ত্বরান্বিত হয়। এর জন্য সরকার ও জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে। সরকারের সতর্ক দৃষ্টি ও আন্তরিকতার পাশাপাশি জনগণেরও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া প্রয়োজন। ২. কার্যকরী আইনসভা: সংসদীয় গণতন্ত্রে আইনসভার সদস্যরা জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি। তারা যদি নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও সমস্যা আইনসভায় সঠিকভাবে তুলে ধরেন, তবে শাসন বিভাগের কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়। ৩. স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ: স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম সহায়ক। এজন্য বিচার বিভাগকে আইন ও শাসন বিভাগের নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্বমুক্ত করার ব্যবস্থা করতে হবে যাতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়। ৪. বিকেন্দ্রীকরণ: রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের দায়িত্ব ও ক্ষমতা কেবল কেন্দ্রীয় সংস্থার নিকট সীমাবদ্ধ না রেখে আঞ্চলিক ও স্থানীয় সংস্থাসমূহের নিকট হস্তান্তর করলে প্রশাসনিক জটিলতা দূর হয়। এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় এবং সর্বাধিক জনকল্যাণ সাধিত হয়। সুতরাং, গৃহীত পদক্ষেপগুলোর পাশাপাশি এই ব্যবস্থাগুলো কার্যকর করা হলে মি. রাজুর দেশে সুশাসন পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDinajpur Board (2016)

মি. রাজু একটি উন্নয়নশীল দেশের নাগরিক। দীর্ঘদিন তার দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ যথাযথভাবে বিকশিত হয়নি। আইনের শাসন ছিল না। কিন্তু বিগত নির্বাচনে গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আসায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসে। বর্তমান সরকার অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে অনিয়ম দূর করে প্রশাসনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ক. স্বজনপ্রীতি কী?

খ. আইনের শাসন বলতে কী বোঝায়?

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত মি. রাজুর দেশের সমস্যাগুলো তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত মি. রাজুর দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গৃহীত পদক্ষেপ ছাড়া আর কী করণীয় আছে?- বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'A' রাষ্ট্রের সরকার ই-গভর্নেন্স চালুর পাশাপাশি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করে। জনগণের অধিকার...

‘A’দেশের প্রশাসন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না, ফলে আইনের শাসন বিঘ্নিত হয়, সম্পদের অপচয় হয়। অন্যদিকে ‘B’ দেশে জনপ্রতিন...

Civics শব্দটির উৎপত্তিগত অর্থ লেখ।

'W' আফ্রিকার একটি দেশ। দেশটির সরকারি অথবা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানেই স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন নেই। এ কারণে দেশট...

অনিক বৃত্তি নিয়ে নিউজিল্যান্ডে পড়াশোনা করতে যায়। সে দেশের শাসনব্যবস্থা তাকে বিমোহিত করে। আইনের শাসন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ...

আইনগত কর্তব্য কী?

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুশাসনের গুরুত্বকে কীভাবে বিবেচনা করা যায়? i. উন্নয়নের মানদন্ড হিসেবে ii. সম্পদের সুষম বণ্টনের হা...

আব্দুল হালিম আফ্রিকার সামরিক বাহিনী শাসিত একটি অনুন্নত দেশের নাগরিক। তার দেশে রয়েছে দুর্নীতি, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, জা...

উক্ত বিষয়টি ছাড়া নিচের কোন ধরনের সরকার ব্যবস্থা অসম্ভব?

উপরের চিত্রের বিষয়গুলো নিশ্চিত করার প্রধান দায়িত্ব কার?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।