(ক)
হাইটেক শিল্প বলতে জ্ঞান ও পুঁজিনির্ভর, উচ্চ প্রযুক্তিভিত্তিক, পরিবেশবান্ধব এবং আইটি (IT) বা গবেষণামূলক শিল্পকে বোঝায়।
(খ)
একটি দেশের প্রয়োজনীয় দ্রব্য বাইরে থেকে আমদানি করতে হলে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা প্রয়োজন হয়। কিন্তু যদি দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে সেই পণ্য উৎপাদন করা যায় তবে তা প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করে। একই সাথে বিশ্ব বাজারের সাথে দেশীয় বাজারের সমন্বয় হয়, দেশীয় শিল্প সংরক্ষিত হয় এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। এভাবে আমদানি বিকল্প শিল্প দেশীয় অর্থনীতিকে সহায়তা করে।
(গ)
উদ্দীপকের তথ্য অনুসারে, মি. দিদারের পরিচালিত শিল্পটি তৈরি পোশাক শিল্প।
তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাত। এটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সবচেয়ে বড় উৎস এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে এই শিল্পটি বর্তমানে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন। তৈরি পোশাক শিল্পের বিদ্যমান প্রধান সমস্যাসমূহ হলো:
১. কাঁচামালের অপ্রতুলতা: বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের কাঁচামালের জন্য আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়, বিশেষ করে সুতা, রং এবং অন্যান্য উপকরণের জন্য। এর ফলে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং সময়মতো পণ্য উৎপাদন ব্যাহত হয়।
২. দক্ষ শ্রমিকের অভাব: শিল্পের প্রসার ঘটলেও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত ও দক্ষ শ্রমিকের অভাব রয়েছে। ফলে উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
৩. নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিশ্চয়তা: পোশাক কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় হঠাৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়, অর্থাৎ উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটে।
৪. শ্রমিক অসন্তোষ: শ্রমিকদের মজুরি, কর্মপরিবেশ এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার অভাবের কারণে প্রায়ই অসন্তোষ দেখা দেয়, যা মাঝে মাঝে শিল্পের স্থিতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
৫. সময়মতো পণ্য সরবরাহে ব্যর্থতা: বিভিন্ন কারণে বিদেশি ক্রেতাদের নিকট সময়মতো পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হয় না, যা শিল্পের সুনাম ক্ষুণ্ন করে এবং দীর্ঘমেয়াদে বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
৬. ব্র্যান্ডিং সমস্যা: বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প বিশ্ববাজারে যথেষ্ট প্রতিযোগিতামূলক হলেও ব্র্যান্ডিং ও বাজার সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
(ঘ)
উদ্দীপকে বর্ণিত শিল্পটির তথা তৈরি পোশাক শিল্পের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানের সম্ভাব্য উপায়সমূহ হলো:
১. কাঁচামালের অভাব দূরীকরণ: দেশে কাঁচামাল উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সুতা ও কাপড় উৎপাদনকারী শিল্পের প্রসার ঘটাতে হবে। স্থানীয়ভাবে সুতা, রং এবং অন্যান্য উপকরণ উৎপাদন বাড়ানোর জন্য বিনিয়োগ ও গবেষণা বাড়ানো প্রয়োজন।
২. দক্ষ শ্রমিক তৈরির উদ্যোগ: শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও পোশাক শিল্প প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন করতে হবে।
৩. নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা: বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। শিল্প এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।
৪. শ্রমিক অসন্তোষ কমানোর উদ্যোগ: শ্রমিকদের বেতন কাঠামো যৌক্তিক করতে হবে এবং নিয়মিত পরিশোধ করতে হবে। কর্মপরিবেশ উন্নত করা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শ্রমিকদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সুবিধা প্রদান করতে হবে।
৫. সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা: উৎপাদন পরিকল্পনা ও সরবরাহ চেইন ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। রপ্তানি বাণিজ্যের জন্য উন্নত পরিবহন ও লজিস্টিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
৬. ব্র্যান্ডিং ও বাজার সম্প্রসারণ: বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং বাড়াতে সরকারের সহযোগিতায় মার্কেটিং ক্যাম্পেইন চালাতে হবে।
সুতরাং, তৈরি পোশাক শিল্পের বিদ্যমান সমস্যাগুলো দূরীকরণে সমন্বিত প্রচেষ্টা গ্রহণ করলে এটি আরও বেশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।