(ক)
যে সকল ব্যাংক গ্রাহকদের বিশেষ প্রয়োজন মেটাতে বা অর্থনীতির বিশেষ কোনো খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে, তাকে বিশেষায়িত ব্যাংক বলে।
(খ)
বাণিজ্যিক ব্যাংক যে হারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করে এবং প্রথম শ্রেণির সিকিউরিটিজ বাট্টা করে, তাকে ব্যাংক হার বলে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই হারের হ্রাস বা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাজারে ঋণের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করার যে কৌশল অবলম্বন করে, তাকে ব্যাংক হার নীতি বলে।
অর্থবাজারে ঋণের সরবরাহ বেড়ে গেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক হার বৃদ্ধি করে। ব্যাংক হার বাড়লে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য ঋণ নেওয়া ব্যয়বহুল হয়, ফলে তারা গ্রাহকদের জন্য সুদের হার বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে ঋণগ্রহীতারা ঋণ নিতে নিরুৎসাহিত হয় এবং বাজারে ঋণের সরবরাহ কমে। বিপরীতভাবে, বাজারে ঋণের সরবরাহ কমে গেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক হার হ্রাস করে, যার ফলে সুদের হার কমে এবং ঋণগ্রহীতারা উৎসাহিত হয়ে ঋণের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। এভাবে মূল্যস্তরের স্থিতিশীলতা রক্ষায় ব্যাংক হার নীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
(গ)
উদ্দীপকের মি. তালুকদারের ধারণার সাথে আমি একমত নই।
বাণিজ্যিক ব্যাংকের মূল লক্ষ্য হলো আমানত সংগ্রহ করে তা লাভজনক খাতে ঋণদান ও বিনিয়োগের মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করা। ঋণদান ও বিনিয়োগ নীতির আওতায় বাণিজ্যিক ব্যাংক ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে যাতে অর্থ ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকে, তবে তারা ঋণদান বন্ধ করে দেয় না। ব্যাংকগুলো ঝুঁকি কমাতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে, যেমন: জামানত গ্রহণ, ঋণগ্রহীতার ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা যাচাই এবং বিভিন্ন খাতে অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে ঝুঁকি বণ্টন করা।
উদ্দীপকের রূপসা ব্যাংক একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং মি. তালুকদার এর শাখা ব্যবস্থাপক। তিনি ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার ভয়ে ঋণ প্রদানে গড়িমসি করছেন, যা একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মৌলিক নীতির পরিপন্থী। মি. তালুকদার যদি সঠিক ঋণদান ও বিনিয়োগ নীতি অনুসরণ করে যথাযথ যাচাই-বাছাই এবং জামানতের মাধ্যমে ঋণ প্রদান করতেন, তবে ঝুঁকি কমিয়েও ব্যাংকের মুনাফা বৃদ্ধি করা সম্ভব হতো। তাই তার এই রক্ষণশীল ধারণাটি সঠিক নয়।
(ঘ)
ব্যাংকের সার্বিক অবস্থা খারাপের দিকে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো ঋণদান হ্রাস পাওয়ার ফলে মুনাফা কমে যাওয়া এবং গ্রাহকদের আস্থা হারানো।
বাণিজ্যিক ব্যাংককে মূলত অর্থ ও ঋণের ব্যবসায়ী বলা হয়। এই ব্যাংকগুলো আমানতকারীদের কাছ থেকে স্বল্প সুদে অর্থ সংগ্রহ করে এবং সেই অর্থ অধিক সুদে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়ে বা বিনিয়োগ করে মুনাফা অর্জন করে। ঋণের সুদই হলো বাণিজ্যিক ব্যাংকের আয়ের প্রধান উৎস।
উদ্দীপকের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, মি. তালুকদারের ভয়ের কারণে রূপসা ব্যাংক ঋণ প্রদানে গড়িমসি করছে। এর ফলে নিম্নলিখিত সমস্যাগুলো তৈরি হচ্ছে:
১. আয়ের উৎস হ্রাস: ঋণ না দেওয়ায় ব্যাংকটি ঋণের সুদ থেকে প্রাপ্য আয় করতে পারছে না, যার ফলে ব্যাংকের মোট মুনাফা হ্রাস পাচ্ছে।
২. গ্রাহকের নিরুৎসাহ ও আস্থা হ্রাস: ঋণগ্রহীতারা ঋণ না পাওয়ায় ব্যাংকটির ওপর আস্থা হারাচ্ছে এবং অন্য ব্যাংকে চলে যাচ্ছে।
৩. দায় পূরণে ব্যর্থতা: আয়ের উৎস কমে গেলে ব্যাংক আমানতকারীদের প্রতিশ্রুত সুদ প্রদান করতে ব্যর্থ হতে পারে, যা ব্যাংকের সুনাম নষ্ট করে এবং আমানত প্রত্যাহারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
৪. পরিচালন ব্যয় বহন: মুনাফা কমে গেলে ব্যাংকের দৈনন্দিন প্রশাসনিক ও পরিচালন ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং মালিকদের লভ্যাংশ প্রদান করা সম্ভব হয় না।
পরিশেষে বলা যায়, বাণিজ্যিক ব্যাংকের মূল ব্যবসায়িক মডেলটিই ঋণের ওপর নির্ভরশীল। মি. তালুকদারের ঋণদানে অনীহার কারণে আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রূপসা ব্যাংকের সার্বিক আর্থিক ও ব্যবসায়িক অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে।