Facebook Pixel

মি, ডন একটি উন্নত রাষ্ট্রের নাগরিক। তার দেশের জনগণ স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ, সম্পত্তি ভোগ এবং চুক্তি করার অধিকার লাভ করেন। রাষ্ট্র জনগণের অন্যান্য অধিকারেরও নিশ্চয়তা প্রদান করে। ক. বাংলাদেশে কত সালে তথ্য অধিকার আইন পাস হয়? খ. মানবাধিকার বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকে বর্ণিত মি. ডনের দেশের জনগণের কোন অধিকার ভোগ করার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. সুন্দর ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় উক্ত অধিকারের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) বাংলাদেশে ২০০৯ সালে তথ্য অধিকার আইন পাস হয়। (খ) মানবাধিকার বলতে এমন কিছু মৌলিক অধিকারকে বোঝায় যা একজন মানুষ কেবল মানুষ হিসেবে জন্মগ্রহণের কারণে ভোগ করার যোগ্য। এই অধিকারগুলো জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা জাতীয়তা নির্বিশেষে বিশ্বের সকল মানুষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এই অধিকারগুলো মানুষের মর্যাদা রক্ষা ও বিকাশে সহায়তা করে এবং রাষ্ট্র কর্তৃক এগুলো নিশ্চিত করা আবশ্যক। (গ) উদ্দীপকে বর্ণিত মি. ডনের দেশের জনগণের 'সামাজিক অধিকার' ভোগ করার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। সামাজিক অধিকার হলো সেই সকল অধিকার, যা একজন নাগরিকের সুন্দর ও সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত। উদ্দীপকে উল্লিখিত স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ, সম্পত্তি ভোগ এবং চুক্তি করার অধিকার সামাজিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। সামাজিক অধিকারের মূল লক্ষ্য হলো ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও আত্মোন্নয়ন নিশ্চিত করা। নাগরিকের জীবনধারণের অধিকার, চলাফেরার স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, ধর্মচর্চার অধিকার এবং সম্পত্তি ভোগের অধিকার সামাজিক অধিকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। উদ্দীপকে মি. ডনের দেশের জনগণ যে সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন, তা মূলত তাদের সামাজিক অধিকারেরই প্রতিফলন। রাষ্ট্র যখন নাগরিকদের এই অধিকারগুলোর নিশ্চয়তা প্রদান করে, তখন সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং নাগরিকরা তাদের মেধা ও মনন বিকাশের সুযোগ পায়। (ঘ) সুন্দর ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সামাজিক অধিকারের গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো: ১. ব্যক্তিত্বের বিকাশ: সামাজিক অধিকার নাগরিকের ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশে সহায়তা করে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সম্পত্তি ভোগের অধিকার মানুষকে আত্মবিশ্বাসী ও সৃজনশীল করে তোলে, যা একটি মানবিক সমাজ গঠনের পূর্বশর্ত। ২. সমতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা: সামাজিক অধিকারের মাধ্যমে সমাজে বৈষম্য হ্রাস পায়। যখন রাষ্ট্র সকল নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে, তখন সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বঞ্চনার শিকার হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। ৩. সামাজিক স্থিতিশীলতা: নাগরিকরা যখন তাদের মৌলিক অধিকারগুলো নির্বিঘ্নে ভোগ করতে পারে, তখন রাষ্ট্রের প্রতি তাদের আনুগত্য বৃদ্ধি পায়। এটি সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ৪. মানবিক মর্যাদা রক্ষা: একটি মানবিক সমাজ গড়ে ওঠে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অধিকারের স্বীকৃতির ওপর। সামাজিক অধিকার মানুষের মর্যাদা রক্ষা করে এবং তাকে একটি সম্মানজনক জীবনযাপনের নিশ্চয়তা দেয়। পরিশেষে বলা যায়, সুন্দর ও মানবিক সমাজ কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর নির্ভর করে না, বরং নাগরিকদের সামাজিক অধিকারের যথাযথ প্রয়োগ ও সুরক্ষার ওপর ভিত্তি করেই গড়ে ওঠে। তাই একটি উন্নত রাষ্ট্র গঠনে সামাজিক অধিকারের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

মি, ডন একটি উন্নত রাষ্ট্রের নাগরিক। তার দেশের জনগণ স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ, সম্পত্তি ভোগ এবং চুক্তি করার অধিকার লাভ করেন। রাষ্ট্র জনগণের অন্যান্য অধিকারেরও নিশ্চয়তা প্রদান করে।

ক. বাংলাদেশে কত সালে তথ্য অধিকার আইন পাস হয়?

খ. মানবাধিকার বলতে কী বোঝায়?

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত মি. ডনের দেশের জনগণের কোন অধিকার ভোগ করার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. সুন্দর ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় উক্ত অধিকারের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।