(ক)
'Demos' শব্দের অর্থ হলো জনগণ।
(খ)
জাতীয়তার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা রাষ্ট্রকে জাতীয় রাষ্ট্র বলে। সাধারণত 'এক জাতি, এক রাষ্ট্র' তত্ত্বের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা রাষ্ট্রসমূহই জাতীয় রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত। ইতালীয় রাষ্ট্র দার্শনিক ম্যাকিয়াভেলি জাতীয় রাষ্ট্র সম্পর্কে প্রথম ধারণা দিয়েছিলেন। বর্তমান ধারণা অনুযায়ী, রাষ্ট্র গঠনের পূর্বে গড়ে ওঠে জাতীয়তাবাদ এবং পরবর্তীতে এই জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা রাষ্ট্রই হলো জাতীয় রাষ্ট্র। বর্তমান পৃথিবীর অধিকাংশ রাষ্ট্রই হলো জাতীয় রাষ্ট্র।
(গ)
উদ্দীপকে উল্লিখিত মি. জনের যোগ্য প্রার্থী বাছাই কার্যক্রম রাজনৈতিক কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।
রাষ্ট্র প্রদত্ত অধিকার ভোগ করতে গিয়ে নাগরিকরা যেসব দায়িত্ব পালন করে তাকে কর্তব্য বলে। রাষ্ট্রের কাছে নাগরিকের যেমন অধিকার রয়েছে, তেমনি রাষ্ট্রের প্রতিও নাগরিকের কর্তব্য রয়েছে। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে মানুষকে নানা ধরনের কর্তব্য পালন করতে হয়, যার মধ্যে অন্যতম হলো রাজনৈতিক কর্তব্য। নাগরিকরা রাষ্ট্রের সদস্য হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনা বা যেসব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে সেগুলোকে রাজনৈতিক কর্তব্য বলে। যেমন: রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা, আইন মেনে চলা, যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়া, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া এবং রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এগিয়ে আসা প্রভৃতি।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. জন দেশের স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে সৎ, দক্ষ ও যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচনের এই সচেতন প্রচেষ্টাটি নাগরিকের রাজনৈতিক কর্তব্যেরই বহিঃপ্রকাশ।
(ঘ)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যক্তির মতো রাষ্ট্রের অন্য নাগরিকরাও যদি যথাযথভাবে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে, তবে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আমি মনে করি।
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের পাশাপাশি নাগরিকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মূলত নাগরিকদের যথাযথ কর্তব্য পালনের মাধ্যমেই সুশাসন পূর্ণতা পায়। সুশাসনের মূল ভিত্তি হলো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে সরকারের কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে। জনসাধারণের আইন মান্য করার মাধ্যমে রাষ্ট্রের শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিধান সম্ভব হয়। জনগণ আইন মান্য করলে সমাজ ও রাষ্ট্রে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক।
রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে নিয়মিত কর প্রদান করা নাগরিকদের একটি আইনগত কর্তব্য। তাই সঠিক নিয়মে কর প্রদানের মাধ্যমে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত হয়, যা সুশাসনের জন্য অপরিহার্য। এছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকদের সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ভোটাধিকার প্রয়োগ করে যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচন করার মাধ্যমে নাগরিকগণ রাষ্ট্র পরিচালনায় সঠিক নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে পারে। এছাড়া সৎ ও নিষ্ঠাবান হওয়া, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়া এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নাগরিকগণ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে।
উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, নাগরিকদের যথাযথ দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের ওপর সুশাসন প্রতিষ্ঠা অনেকাংশে নির্ভর করে। তাই মি. জনের মতো সকল নাগরিক দায়িত্ববান হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ত্বরান্বিত হবে।