(ক)
ASEAN এর পূর্ণরূপ হলো Association of South East Asian Nations।
(খ)
ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানসমূহকে ঋণ সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে এগিয়ে নিতে দাতা দেশ ও সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় বাংলাদেশ সরকার যে বিশেষ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছে, তাকে এসএমই (SME) ফাউন্ডেশন বলে। এই ফাউন্ডেশনের মূল লক্ষ্য হলো ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করে তাদের ব্যবসায়িক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, যা দেশের শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে বেকার সমস্যা সমাধানে সহায়তা করে।
(গ)
উদ্দীপকে মি. আহাদ উদ্দীপনামূলক সহায়ক সেবার কারণে পোল্ট্রি ফার্ম করার সিদ্ধান্ত নেন।
একজন সম্ভাব্য উদ্যোক্তাকে ব্যবসায়িক উদ্যোগ গ্রহণে আগ্রহী করতে এবং প্রয়োজনীয় প্রাথমিক তথ্য ও দক্ষতা প্রদানের জন্য যে সেবা দেওয়া হয়, তাকে উদ্দীপনামূলক সহায়ক সেবা বলে। এই সেবার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি তার লব্ধ জ্ঞান ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ বিবেচনা করে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে উদ্যোগ শুরু করতে পারে।
উদ্দীপকের আলোকে দেখা যায়, মি. আহাদ উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ করে স্থানীয় যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে পোল্ট্রি ফার্ম বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই তার মধ্যে পোল্ট্রি ফার্ম করার আগ্রহ ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরি হয়, যার ফলে তিনি নিজ বাড়ির সামনে পোল্ট্রি ফার্ম দিয়ে ব্যবসায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন।
সুতরাং, মি. আহাদের এই সিদ্ধান্তটি উদ্দীপনামূলক সহায়ক সেবারই একটি বহিঃপ্রকাশ।
(ঘ)
উদ্দীপকে মি. আহাদকে দ্বিতীয় পর্যায়ে সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানটি হলো একটি বেসরকারি সংস্থা বা এনজিও (NGO)।
সমাজের দরিদ্র, অসহায় ও পশ্চাদপদ শ্রেণির মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে গঠিত অলাভজনক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহকে এনজিও বা বেসরকারি সংস্থা বলে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে পুঁজি সরবরাহ, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং ব্যবসায়িক পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী করতে কাজ করে।
উদ্দীপকের প্রেক্ষাপটে, মি. আহাদ পুঁজির অভাবে হতাশ হয়ে পড়লে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে মূলধনের জন্য আবেদন করেন। প্রতিষ্ঠানটি তাকে প্রয়োজনীয় মূলধন সরবরাহের পাশাপাশি ব্যবসায়িক পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করে। এটি একটি এনজিও-র আদর্শ কার্যক্রমের উদাহরণ, যেখানে প্রান্তিক পর্যায়ের একজন উদ্যোক্তাকে পুঁজি ও দিকনির্দেশনা দিয়ে সহায়তা করা হয়েছে।
দেশের অর্থনীতিতে এনজিও-র ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, এরা প্রান্তিক পর্যায়ের বেকার যুবকদের পুঁজি ও প্রশিক্ষণ দিয়ে উদ্যোক্তায় পরিণত করে, ফলে বেকার সমস্যা হ্রাস পায়। দ্বিতীয়ত, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের প্রসার ঘটে, যা জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। তৃতীয়ত, দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয় এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস পায়।
পরিশেষে বলা যায়, মি. আহাদের মতো অসংখ্য দরিদ্র ও মেধাবী যুবককে স্বাবলম্বী করে তোলার মাধ্যমে এনজিওগুলো দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এবং টেকসই উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।