(ক)
যে বিমাপত্রের ক্ষেত্রে ক্ষতির উদ্ভব হলে বিমাপত্রে উল্লিখিত পূর্ণ পরিমাণ দাবি পরিশোধ না করে বিমাকৃত মূল্যের অনুপাতে গড়পড়তা হারে ক্ষতিপূরণ নির্ণয় করা হয়, তাকে গড়পড়তা বিমাপত্র বলে।
(খ)
যে বিমাপত্রের ক্ষেত্রে বিমাকৃত মূল্যের চেয়ে ক্ষতির পরিমাণ কম হোক বা বেশি হোক, বিমাপত্রে উল্লিখিত নির্দিষ্ট মূল্যের সমান ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়, তাকে নির্দিষ্ট বিমাপত্র বলে।
নির্দিষ্ট বিমাপত্রে নির্দিষ্ট কোনো সম্পত্তির বিমা একটি নির্দিষ্ট মূল্যে করা হয়। এক্ষেত্রে সংঘটিত ক্ষতিকে সামগ্রিক ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। বিমাকৃত বিষয়বস্তুর ক্ষতি হলেই কেবল বিমাপত্রে উল্লিখিত নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্ষতিপূরণ করতে বিমাপ্রতিষ্ঠান বাধ্য থাকে।
(গ)
উদ্দীপকের বর্ণনা অনুযায়ী, মি. আরিফ অগ্নি বিমাচুক্তি করেছেন।
অগ্নিজনিত কারণে বিমাকৃত বিষয়বস্তুর ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণ প্রদান করার শর্তে যে বিমা করা হয়, তাকে অগ্নি বিমা বলে। এরূপ বিমার মূল উদ্দেশ্য হলো অগ্নিজনিত ঝুঁকির হাত থেকে বিমাগ্রহীতাকে আর্থিকভাবে রক্ষা করা।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. আরিফ একজন শিল্পপতি এবং তার একটি বৃহৎ তুলার গোডাউন রয়েছে। তুলার গোডাউনটি কয়েকবার আগুনে পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি সাধিত হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি এরূপ ক্ষয়-ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য একটি বিমা কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে পলিসি গ্রহণ করেন। যেহেতু তার ক্ষতির কারণ ছিল আগুন এবং তিনি সেই ঝুঁকি মোকাবিলায় বিমা করেছেন, তাই এটি একটি অগ্নি বিমা। ফলে ভবিষ্যতে তার বিমাকৃত বিষয়বস্তু অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিমা কোম্পানি তাকে চুক্তির শর্তানুযায়ী আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে।
সুতরাং, মি. আরিফ অগ্নি বিমাচুক্তি করেছেন।
(ঘ)
উদ্দীপকে মি. আরিফের অগ্নি বিমাচুক্তি গ্রহণ সম্পূর্ণ যৌক্তিক হয়েছে।
অগ্নি বিমাচুক্তির ক্ষেত্রে বিমাকারী এবং বিমাগ্রহীতার মধ্যে নির্দিষ্ট সম্পত্তির সম্ভাব্য ক্ষতির বিপরীতে আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়। অগ্নিজনিত ঝুঁকির হাত থেকে বিমাগ্রহীতাকে আর্থিকভাবে সুরক্ষা প্রদান করাই এই চুক্তির প্রধান লক্ষ্য।
মি. আরিফের ক্ষেত্রে এই চুক্তির যৌক্তিকতা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ঝুঁকির প্রকৃতি: মি. আরিফের ব্যবসায়িক পণ্য হলো তুলা, যা অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ। ফলে তার গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি অনেক বেশি।
২. পূর্ব অভিজ্ঞতা: উদ্দীপক অনুযায়ী, তার গোডাউনটি ইতিপূর্বে কয়েকবার আগুনে পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, তার ব্যবসায়িক সম্পদটি অগ্নি ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
৩. আর্থিক নিরাপত্তা: বিমা করার পূর্বে আগুনে পুড়ে ব্যাপক ক্ষতি হলেও তিনি কোনো আর্থিক সহায়তা পাননি। বর্তমানে অগ্নি বিমা করার ফলে ভবিষ্যতে কোনো অগ্নিকাণ্ড ঘটলে তিনি বিমা প্রতিষ্ঠান থেকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাবেন, যা তাকে দেউলিয়া হওয়া থেকে রক্ষা করবে।
৪. সম্পদ পুনর্গঠন: অগ্নি বিমার মাধ্যমে প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়ে তিনি তার ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তির পুনর্গঠন করতে পারবেন এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম পুনরায় চালু রাখতে পারবেন।
উপরোক্ত বিশ্লেষণ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ রক্ষা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য মি. আরিফের অগ্নি বিমাচুক্তি গ্রহণ করা অত্যন্ত যৌক্তিক ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত।