(ক)
ব্যবসায় স্থাপন, পরিচালনা ও প্রসারে যেসব আর্থিক ও অনার্থিক সহযোগিতা ব্যবসায়ের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে এবং ব্যবসায়ীদের অনুপ্রাণিত করে, তাকে ব্যবসায় সহায়ক সেবা বলে।
(খ)
কোনো নির্দিষ্ট এলাকার ব্যবসায়ী বা শিল্পপতিরা নিজেদের স্বার্থরক্ষা ও উন্নয়নের জন্য যৌথ প্রচেষ্টায় যে অমুনাফাভোগী সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন, তাকে শিল্প ও বণিক সমিতি বলে। এই সমিতিটি নিম্নোক্ত কারণে গুরুত্বপূর্ণ:
১. এটি দেশের শিল্প ও বাণিজ্য সম্পর্কিত নীতিমালা বাস্তবায়নে সরকারকে সহায়তা করে।
২. বাজার সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও সরবরাহ করে সদস্যদের ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করে।
৩. সদস্যদের মুখপাত্র হিসেবে তাদের অভাব-অভিযোগ ও সমস্যাগুলো সরকারের কাছে পৌঁছে দেয়।
৪. ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংহতি বৃদ্ধি করে ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করে।
(গ)
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'MISAKA' প্রতিষ্ঠানের সাথে বিরোধ মীমাংসার পেছনে বিজিএমইএ (BGMEA) ভূমিকা রাখছে বলে আমি মনে করি।
BGMEA এর পূর্ণরূপ হলো- Bangladesh Garment Manufacturers and Exporters Association। এটি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের স্বার্থরক্ষা ও ব্যবসায়িক উন্নয়নের জন্য গড়ে ওঠা একটি শীর্ষস্থানীয় সংগঠন। এই সংগঠনের অন্যতম প্রধান কাজ হলো সদস্যদের মধ্যকার এবং আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের মধ্যকার ব্যবসায়িক বিরোধ নিষ্পত্তি করা।
উদ্দীপকের আলোকে দেখা যায়, মি. আব্দুল হাই একজন গার্মেন্টস শিল্পের মালিক ও রপ্তানিকারক। জাপানের 'MISAKA' প্রতিষ্ঠানের সাথে তার বিরোধ দেখা দিলে তিনি সমজাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি সংগঠনের সহায়তায় তা সমাধান করেন। যেহেতু মি. আব্দুল হাই পোশাক শিল্পের সাথে যুক্ত এবং তিনি একটি সমজাতীয় সংগঠনের মাধ্যমে বিরোধ মিটিয়েছেন, তাই এটি স্পষ্ট যে উক্ত সংগঠনটি হলো বিজিএমইএ (BGMEA)।
(ঘ)
উদ্দীপকে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করার পেছনে যে প্রতিষ্ঠানটি ভূমিকা রাখছে, তা হলো রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (Export Promotion Bureau - EPB)।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো মূলত দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে। এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান কাজগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. আন্তর্জাতিক মেলা ও প্রদর্শনীর আয়োজন: রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বাজার তৈরি ও প্রচারের লক্ষ্যে এটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশ নেয় এবং বিদেশে পণ্য প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করে।
২. বাজার তথ্য সরবরাহ: বিভিন্ন দেশের বাজারের চাহিদা, পণ্যের মান এবং আমদানির শর্তাবলী সম্পর্কে রপ্তানিকারকদের প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করে।
৩. রপ্তানি নীতি প্রণয়নে সহায়তা: দেশের রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য সরকার যাতে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন করতে পারে, সে বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করে।
৪. সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন: রপ্তানি সংক্রান্ত নতুন নতুন সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে ব্যবসায়ীদের সচেতন করতে সেমিনার ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে।
৫. বিদেশি ক্রেতাদের আমন্ত্রণ: আন্তর্জাতিক মেলার মাধ্যমে বিদেশি ক্রেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে দেশীয় পণ্যের পরিচিতি বৃদ্ধি করে এবং নতুন বাজার সৃষ্টিতে সহায়তা করে।
উদ্দীপকের মি. আব্দুল হাইয়ের প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মেলায় অংশ নেয় এবং বিভিন্ন দেশে পোশাক রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। এই আন্তর্জাতিক মেলায় অংশগ্রহণ এবং রপ্তানি প্রসারের সুযোগগুলো মূলত রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সহায়তায় সম্ভব হয়েছে। ফলে তার ব্যবসায়ের সাফল্য উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুতরাং বলা যায়, মি. আব্দুল হাইয়ের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পেছনে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।