(ক)
সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে কোনো উৎপাদন প্রতিষ্ঠান স্থাপিত, পরিচালিত ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে তাকে PPP (Public-Private Partnership) বলে।
(খ)
অর্থনৈতিক উন্নয়নে শিল্পায়ন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। শিল্পায়ন হলো কৃষিজাত দ্রব্যের রূপান্তর ঘটিয়ে অন্য জাতের পণ্য উৎপাদন করা। বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ হওয়ায় এর অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য শিল্পায়ন অপরিহার্য। শিল্পায়নের ফলে জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, বেকারত্ব হ্রাস পায় এবং অর্থনীতির কাঠামোর রূপান্তর ঘটে। এছাড়া উচ্চ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য শিল্পের প্রসার ও উন্নয়ন জরুরি। অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য শিল্পায়নের কোনো বিকল্প নেই।
(গ)
উদ্দীপকে উল্লিখিত মি. আজাদের শিল্পটি বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প। উদ্দীপকের তথ্যানুযায়ী, এই শিল্পে প্রায় $80\%$ শ্রমিক নারী এবং এটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে অবদান রাখছে, যা তৈরি পোশাক শিল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তৈরি পোশাক শিল্পের ভূমিকা অপরিসীম। মাত্র কয়েকটি কারখানার মাধ্যমে এই শিল্পের যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে এটি দেশের বৃহত্তম রপ্তানি খাত। এই শিল্পে নারী শ্রমিকের ব্যাপক অংশগ্রহণ নারীর ক্ষমতায়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক হয়েছে। বর্তমানে দেশে হাজার হাজার পোশাক কারখানা রয়েছে যেখানে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক কর্মরত। বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ এই খাত থেকে অর্জিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, ২০২১-২২ অর্থবছরে এই খাত থেকে বিপুল পরিমাণ মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে। সুতরাং বলা যায়, মি. আজাদের পরিচালিত এই শিল্পটি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
(ঘ)
উদ্দীপকে মি. আজাদের শিল্প প্রতিষ্ঠানের বেশ কিছু সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন: কাঁচামাল ও দক্ষ শ্রমিকের অভাব, বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিশ্চয়তা, শ্রমিক অসন্তোষ এবং ব্র্যান্ডিং সমস্যা। এই সমস্যাগুলো সমাধানে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা যেতে পারে:
১. কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিতকরণ: কাঁচামালের অভাব দূর করতে সরকারকে অন্যান্য উৎপাদনকারী দেশের সাথে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি করতে হবে। পাশাপাশি দেশে কাঁচামাল উৎপাদনের উদ্যোগ নিতে হবে যাতে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমে।
২. দক্ষ শ্রমিক তৈরি: দক্ষ শ্রমিকের অভাব দূর করতে কারিগরি শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। শ্রমিকদের আধুনিক প্রযুক্তির সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করতে হবে।
৩. বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো উন্নয়ন: বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিশ্চয়তা দূর করতে শিল্প এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে এবং বিকল্প শক্তি যেমন সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার উৎসাহিত করতে হবে।
৪. শ্রমিক অসন্তোষ নিরসন: মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি প্রদান, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং তাদের মৌলিক অধিকার রক্ষা করলে শ্রমিক অসন্তোষ হ্রাস পাবে।
৫. ব্র্যান্ডিং ও বাজার সম্প্রসারণ: আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন করতে হবে। ডিজিটাল মার্কেটিং এবং আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ব্র্যান্ডিং সমস্যা সমাধান করে নতুন নতুন বাজার অনুসন্ধান করতে হবে।
উপরোক্ত পদক্ষেপগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে মি. আজাদের শিল্প প্রতিষ্ঠানসহ দেশের সামগ্রিক পোশাক শিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।