(ক)
মানুষের জীবন ও সম্পদকে ঘিরে যে ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা বিদ্যমান, তার বিপরীতে আর্থিক প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থাকে বিমা বলে।
(খ)
স্থলাভিষিক্তকরণের নীতি বলতে বিমাকৃত সম্পত্তির ভগ্নাবশেষ অংশের মালিকানা বিমাকারীর কাছে হস্তান্তর করাকে বোঝায়।
বিমাকৃত সম্পদ সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিমাকারী যখন বীমাকৃত বিষয়বস্তুর সম্পূর্ণ বীমাদাবি পরিশোধ করে দেয়, তখন ওই সম্পত্তির যে অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়, তার মালিকানা বিমাকারী লাভ করে। এই প্রক্রিয়াই হলো স্থলাভিষিক্তকরণের নীতি। যেমন: ১০০ কোটি টাকা মূল্যের একটি জাহাজ বিমাকৃত করা হলে এবং জাহাজটি সম্পূর্ণ ডুবে গেলে বিমাকারী যদি সম্পূর্ণ দাবি পরিশোধ করে দেয়, তবে পরবর্তীতে জাহাজের ধ্বংসাবশেষ থেকে যতটুকু উদ্ধার করা যাবে, তার মালিকানা বিমাকারীর হবে।
(গ)
মিসেস রবিন ও জয় পাবলিকেশনস এর মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির নাম হলো কপিরাইট চুক্তি।
কোনো লেখক বা শিল্পী কর্তৃক তার সৃষ্টিকর্মের ওপর একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যে স্থায়ী আইনগত অধিকার লাভ করা হয়, তাকে কপিরাইট বলে। এটি একটি আইনগত সুরক্ষা ব্যবস্থা, যার মূল উদ্দেশ্য হলো নকল করা থেকে প্রকৃত লেখক, শিল্পী বা সৃষ্টিকর্মের স্বত্বাধিকারীর স্বার্থ রক্ষা করা। কপিরাইট না থাকলে সৃষ্টিকর্মের মালিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং অন্যের দ্বারা তার কাজ চুরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
উদ্দীপকের আলোকে দেখা যায়, মিসেস রবিন তার জনপ্রিয় উপন্যাসের বই ‘মাছরাঙার ভাবনা’ প্রকাশের জন্য জয় পাবলিকেশনসের সাথে একটি চুক্তি সম্পাদন করেন। এই চুক্তি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য রয়্যালিটির বিনিময়ে জয় পাবলিকেশনস বইটির মুদ্রণ ও বাজারজাতকরণের আইনগত অধিকার লাভ করে। লেখক এবং প্রকাশকের মধ্যে এই ধরনের অধিকার হস্তান্তরের চুক্তি কপিরাইট চুক্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সুতরাং, মিসেস রবিন ও জয় পাবলিকেশনস এর মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিটি একটি কপিরাইট চুক্তি।
(ঘ)
জয় পাবলিকেশনস এর ক্ষেত্রে চুক্তিভঙ্গের কারণে আইনি প্রতিকার হিসেবে ফৌজদারি ও দেওয়ানি দণ্ড হতে পারে বলে আমি মনে করি।
কপিরাইট নিবন্ধন বলতে নিবন্ধকের অফিসে প্রণেতা বা আবেদনকারীর নামসহ সৃষ্টিকর্মের নাম ও বিবরণাদি লিপিবদ্ধ করাকে বোঝায়। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে প্রণেতার সৃষ্টিকর্ম একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নিরাপদ থাকে এবং আইনি সুরক্ষা লাভ করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মিসেস রবিন তার উপন্যাসের জন্য জয় পাবলিকেশনস এর সাথে চুক্তি সম্পাদন করেছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় শেষে রয়্যালিটি ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও জয় পাবলিকেশনস তা প্রদান করেনি, যা স্পষ্টত চুক্তিভঙ্গ। কপিরাইট চুক্তিতে সাধারণত সময় এবং রয়্যালিটির পরিমাণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। যদি এই চুক্তিটি রেজিস্ট্রি করা থাকে, তবে লেখক বা শিল্পী আদালতের মাধ্যমে এর প্রতিকার চাইতে পারেন।
জয় পাবলিকেশনস চুক্তি ভঙ্গ করায় তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা সম্ভব। বাংলাদেশের কপিরাইট আইন অনুযায়ী, এই ধরনের লঙ্ঘনের জন্য প্রথমবার অপরাধে কমপক্ষে ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে। এছাড়া আদালতের নির্দেশে বকেয়া রয়্যালিটি পরিশোধ করতে হবে। অতএব, জয় পাবলিকেশনস এর ক্ষেত্রে চুক্তিভঙ্গের পরিণতি হবে আইনি দণ্ড এবং আর্থিক জরিমানা।