(ক)
কার্ড ব্যবহার করে ব্যাংক থেকে নগদ টাকা উত্তোলনের সুযোগকে রেডি ক্যাশ বলে।
(খ)
স্বর্ণমান ব্যবস্থা হলো এমন একটি মুদ্রাব্যবস্থা যেখানে দুই দেশের মুদ্রার বিপরীতে জমাকৃত স্বর্ণের হার অনুযায়ী বিনিময় হার নির্ধারণ করা হয়। এই ব্যবস্থায় মুদ্রার মান স্বর্ণের মানের ওপর নির্ভরশীল। যেসব দেশ এই পদ্ধতি ব্যবহার করে তাদের স্বর্ণমান এলাকা বলা হয়। বর্তমানে এই ব্যবস্থার প্রচলন নেই।
(গ)
উদ্দীপকের আলোকে মিসেস কেয়া ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করতে চেয়েছিলেন।
ক্রেডিট কার্ড হলো এক ধরনের ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং সেবা, যার মাধ্যমে গ্রাহক ব্যাংক থেকে একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পেয়ে থাকেন। এই কার্ড ব্যবহার করে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান বা দোকান থেকে পণ্য ও সেবা কেনা যায় এবং এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলন করা যায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মিসেস কেয়া কেনাকাটার পর মূল্য পরিশোধ করতে গিয়ে জানতে পারেন যে, তার কার্ডের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ওই দোকানে নেই। সাধারণত সব দোকানে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট করার সুবিধা থাকে না, তবে ডেবিট কার্ড বা নগদ টাকার গ্রহণযোগ্যতা বেশি থাকে। তাই বলা যায়, মিসেস কেয়ার ব্যবহৃত কার্ডটি ছিল একটি ক্রেডিট কার্ড।
(ঘ)
উদ্দীপকে মিসেস কেয়া ও মিসেস রিয়ার লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত কার্ড দুটি হলো যথাক্রমে ক্রেডিট কার্ড এবং ডেবিট কার্ড। এই কার্ড দুটির বৈশিষ্ট্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিচে আলোচনা করা হলো:
প্রথমত, ডেবিট কার্ডের ক্ষেত্রে গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা থাকতে হয় এবং কেনাকাটার সাথে সাথে সেই টাকা অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নেওয়া হয়। অন্যদিকে, ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে গ্রাহককে ব্যাংক থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ঋণ সুবিধা দেওয়া হয়, যা পরবর্তীতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে হয়।
দ্বিতীয়ত, ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে নগদ টাকা উত্তোলন এবং অর্থ স্থানান্তর করা যায়। ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমেও এই সুবিধাগুলো পাওয়া যায়, তবে এর সাথে যুক্ত থাকে ঋণ গ্রহণের সুবিধা।
তৃতীয়ত, খরচ ও চার্জের দিক থেকে ক্রেডিট কার্ডের বার্ষিক ফি এবং সুদের হার ডেবিট কার্ডের তুলনায় সাধারণত বেশি হয়।
চতুর্থত, গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, অনেক ক্ষেত্রে ডেবিট কার্ডের গ্রহণযোগ্যতা বেশি থাকে, কিন্তু ক্রেডিট কার্ড নির্দিষ্ট কিছু মার্চেন্ট বা প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিবদ্ধ হলে সেখানে ব্যবহার করা যায়। উদ্দীপকেও দেখা গেছে, মিসেস কেয়ার ক্রেডিট কার্ডটি ওই দোকানে গ্রহণযোগ্য ছিল না, কিন্তু মিসেস রিয়ার ডেবিট কার্ডটি ছিল।
পরিশেষে বলা যায়, ডেবিট কার্ড হলো গ্রাহকের নিজস্ব অর্থের ব্যবহার, আর ক্রেডিট কার্ড হলো ব্যাংকের প্রদত্ত ঋণের ব্যবহার। এই মৌলিক পার্থক্যের কারণেই কার্ড দুটির বৈশিষ্ট্য ভিন্ন।