(ক)
ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং বা ই-ব্যাংকিং হলো এমন একটি আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা, যেখানে কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের সমন্বয়ে ব্যাংকের প্রচলিত সেবাগুলো ইলেকট্রনিক মাধ্যমে গ্রাহকদের প্রদান করা হয়।
(খ)
আধুনিক ব্যাংকিং বলতে মূলত ইলেকট্রনিক ব্যাংকিংকে বোঝায় কারণ এটি প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছে। আগে ব্যাংকিং সেবা পেতে গ্রাহককে সশরীরে ব্যাংকে উপস্থিত হতে হতো এবং দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো। কিন্তু বর্তমানে কম্পিউটার প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে গ্রাহক ঘরে বসেই বা স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের (যেমন- ATM) মাধ্যমে দ্রুত, নির্ভুল এবং নিরাপদভাবে লেনদেন করতে পারেন। এতে মানুষের শ্রম কমেছে এবং সেবার গতি ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই একে আধুনিক ব্যাংকিং বলা হয়।
(গ)
উদ্দীপকের মিষ্টির ব্যবহৃত কার্ডটির নাম ডেবিট কার্ড।
ডেবিট কার্ডের বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. এটি একটি প্লাস্টিক কার্ড যা গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে।
২. এই কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন করতে হলে গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা জমা থাকা বাধ্যতামূলক।
৩. গ্রাহক এই কার্ড ব্যবহার করে ATM থেকে টাকা উত্তোলন, POS মেশিনের মাধ্যমে কেনাকাটা এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করতে পারেন।
৪. এটি মূলত নগদ টাকা বা চেকের বিকল্প হিসেবে কাজ করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মিষ্টি তার ব্যাংক হিসাবের বিপরীতে একটি বিশেষ কার্ড ব্যবহার করেন এবং এর মাধ্যমে কেনাকাটাসহ সব ধরনের আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করেন। যেহেতু এই কার্ডটি তার হিসাবের বিপরীতে কাজ করছে এবং লেনদেনের জন্য তার হিসাবে টাকা থাকা প্রয়োজন, তাই এটি একটি ডেবিট কার্ড।
(ঘ)
উদ্দীপকের বৃষ্টির ব্যবহৃত কার্ডটি হলো ক্রেডিট কার্ড এবং মিষ্টির ব্যবহৃত কার্ডটি হলো ডেবিট কার্ড। এই দুই কার্ডের মৌলিক পার্থক্য হলো অর্থের উৎস এবং ঋণের সুবিধা প্রাপ্তি।
মিষ্টির ব্যবহৃত ডেবিট কার্ডের ক্ষেত্রে লেনদেনের অর্থ সরাসরি তার নিজস্ব ব্যাংক হিসাব থেকে কাটা হয়। অর্থাৎ, তার হিসাবে টাকা না থাকলে তিনি এই কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন না। এটি মূলত গ্রাহকের নিজস্ব জমানো টাকার ব্যবহার।
অন্যদিকে, বৃষ্টির ব্যবহৃত ক্রেডিট কার্ডের সাথে তার ব্যাংক হিসাবের কোনো সম্পর্ক নেই। ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহক ব্যাংক থেকে একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ঋণ গ্রহণ করে কেনাকাটা বা লেনদেন করতে পারেন। এই অর্থ পরবর্তীতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সুদসহ ব্যাংকে পরিশোধ করতে হয়। এখানে ব্যাংক গ্রাহককে তার বিশ্বাসযোগ্যতার ভিত্তিতে সাময়িক ঋণ প্রদান করে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, বৃষ্টির কার্ড ব্যবহারের সাথে তার ব্যাংক হিসাবের কোনো সম্পর্ক নেই, যা ক্রেডিট কার্ডের প্রধান বৈশিষ্ট্য। অন্যদিকে মিষ্টির কার্ডটি তার হিসাবের বিপরীতে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা ডেবিট কার্ডের বৈশিষ্ট্য।
সুতরাং, মিষ্টির ব্যবহৃত ডেবিট কার্ড এবং বৃষ্টির ব্যবহৃত ক্রেডিট কার্ডের মৌলিক পার্থক্য হলো, ডেবিট কার্ডে গ্রাহকের নিজস্ব জমা টাকা ব্যবহৃত হয়, আর ক্রেডিট কার্ডে ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করা হয়।