(ক)
বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মোট আসন সংখ্যা ৩৫০টি, যার মধ্যে ৩০০টি আসন সাধারণ এবং ৫০টি আসন সংরক্ষিত নারী আসন।
(খ)
বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৯ নং অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব ও কার্যাবলি বর্ণিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিচে উল্লেখ করা হলো:
১. নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ: জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য পুরো দেশকে ৩০০টি নির্বাচনি এলাকায় বিভক্ত করা এবং সীমানা নির্ধারণ করা নির্বাচন কমিশনের অন্যতম প্রধান কাজ।
২. নির্বাচন পরিচালনা: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনসমূহ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা এবং নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা থেকে শুরু করে ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।
(গ)
উদ্দীপকে উল্লেখিত জোটটি হলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা EU। এটি ইউরোপ মহাদেশের দেশগুলোর একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জোট। ১৯৯৩ সালে ম্যাসট্রিক চুক্তির (Maastricht Treaty) মাধ্যমে এই জোটটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অবাধ বাণিজ্য সুবিধা এবং অভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থা। বর্তমানে এর সদস্য রাষ্ট্রের সংখ্যা ২৭টি এবং অধিকাংশ সদস্য রাষ্ট্রে 'ইউরো' (Euro) একক মুদ্রা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। উদ্দীপকে মিথিলার দাদা যে জোটের কথা বলেছেন, তা এই ইউরোপীয় ইউনিয়নকেই নির্দেশ করে। বাংলাদেশ এই জোটভুক্ত দেশগুলোতে তৈরি পোশাক রপ্তানি করে থাকে, যা বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের একটি বিশাল অংশ। এটি একটি আঞ্চলিক সহযোগী সংস্থা হিসেবে বিশ্ব অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
(ঘ)
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের প্রধান বাজার এবং অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। এই জোটের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধির জন্য আমি নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করি:
১. নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ: ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাণিজ্যের ক্ষেত্রে শ্রমিকের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়। রানা প্লাজা ধসের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে পোশাক কারখানাগুলোতে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
২. শ্রম অধিকার ও মানবাধিকার সুরক্ষা: ইইউ-এর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হলে বাংলাদেশে শ্রম আইন বাস্তবায়ন, ট্রেড ইউনিয়নের স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাতে হবে।
৩. নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন: ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিশ্বব্যাপী নারী সমাজের উন্নয়নে অত্যন্ত তৎপর। তাই বাংলাদেশে নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও ক্ষমতায়নের হার বৃদ্ধি করলে ইইউ-এর সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।
৪. পণ্যের গুণগত মান ও বৈচিত্র্যকরণ: শুধুমাত্র পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভর না করে অন্যান্য রপ্তানিযোগ্য পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি এবং পণ্যের বৈচিত্র্যকরণে মনোযোগ দিতে হবে, যাতে ইইউ বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের চাহিদা আরও বৃদ্ধি পায়।
পরিশেষে বলা যায়, উপরোক্ত পদক্ষেপগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।