(ক)
ভিন্ন ভিন্ন লোকাসে অবস্থিত একাধিক নন-অ্যালিলিক জিন (পলিজিন) দ্বারা জীবের কোনো একটি পরিমাণগত বৈশিষ্ট্যের (quantitative character) নিয়ন্ত্রিত ও সঞ্চারিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে পলিজেনিক ইনহেরিট্যান্স (Polygenic inheritance) বলে।
(খ)
মানুষের সেক্স ক্রোমোজোমে (বিশেষ করে $X$ ক্রোমোজোমে) অবস্থিত সেক্স-লিঙ্কড জিনগুলোর মিউটেশনের কারণে সৃষ্ট অস্বাভাবিক লক্ষণ বা রোগসমূহকে সেক্স লিঙ্কড ডিসঅর্ডার (Sex-linked disorder) বলে। যেমন—লাল-সবুজ বর্ণান্ধতা, হিমোফিলিয়া ইত্যাদি।
মানুষের $Y$ ক্রোমোজোম আকারে অত্যন্ত ছোট এবং এতে জিনের সংখ্যা খুবই কম। তাই বেশিরভাগ সেক্স লিঙ্কড ডিসঅর্ডার $X$ ক্রোমোজোমে অবস্থিত প্রচ্ছন্ন জিনের কারণে ঘটে থাকে। পুরুষদের ক্ষেত্রে কেবল একটি $X$ ক্রোমোজোম থাকায় এই প্রচ্ছন্ন জিনটি সহজেই প্রকাশ পায়, কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে দুটি $X$ ক্রোমোজোম থাকায় তারা সাধারণত বাহক হয় এবং রোগাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।
(গ)
উদ্দীপকে লাল ও সাদা গোলাপের ক্রসের ফলে গোলাপি বর্ণের গোলাপ ফুল সৃষ্টি হয়েছে। এটি অসম্পূর্ণ প্রকটতার (Incomplete dominance) একটি উদাহরণ। যখন একজোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন বিশুদ্ধ জীবের মধ্যে সংকরায়ণ ঘটানো হয়, তখন $F_1$ জনুতে প্রকট জিনটি তার বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করতে পারে না, বরং উভয় বৈশিষ্ট্যের মাঝামাঝি একটি নতুন বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটে। একে অসম্পূর্ণ প্রকটতা বলে।
ধরি,
লাল ফুলের জন্য দায়ী জিন = $R$ (জিনোটাইপ: $RR$)
সাদা ফুলের জন্য দায়ী জিন = $r$ (জিনোটাইপ: $rr$)
$F_1$ জনুর সৃষ্টি:
can be represented as:
পিতৃমাতৃ জনু ($P_1$): লাল গোলাপ ($RR$) $\times$ সাদা গোলাপ ($rr$)
গ্যামেট: $R$ এবং $r$
$F_1$ জনু: $Rr$ (সবগুলো গোলাপি গোলাপ)
নিচে $F_1$ জনুর সৃষ্টির রেখাচিত্র দেওয়া হলো:

$F_1$ জনুর উদ্ভিদের মধ্যে স্ব-পরাগায়ন বা ক্রস ঘটালে $F_2$ জনুর ফলাফল নিচে চেকার বোর্ডের সাহায্যে দেখানো হলো:

চেকার বোর্ড থেকে দেখা যায় যে, $F_2$ জনুর ফিনোটাইপিক অনুপাত হলো:
লাল : গোলাপি : সাদা = $1 : 2 : 1$
(ঘ)
উদ্দীপকে বর্ণিত গোলাপি বর্ণের গোলাপ সৃষ্টি মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের (পৃথকীকরণ সূত্র বা Law of Segregation) ব্যতিক্রম।
মেন্ডেলের প্রথম সূত্রানুযায়ী, একজোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন বিশুদ্ধ জীবের মধ্যে সংকরায়ণ ঘটালে প্রথম বংশধরে ($F_1$ জনু) কেবল প্রকট বৈশিষ্ট্যটিই প্রকাশিত হবে এবং প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যটি সুপ্ত অবস্থায় থাকবে। পরবর্তীতে $F_2$ জনুতে বৈশিষ্ট্যগুলো পৃথক হয়ে $3 : 1$ অনুপাতে প্রকাশিত হবে।
কিন্তু উদ্দীপকের ক্ষেত্রে দেখা যায়, লাল ও সাদা গোলাপের ক্রসের ফলে $F_1$ জনুতে লাল বা সাদা কোনোটিই প্রকাশ না পেয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন গোলাপি বর্ণের সৃষ্টি হয়েছে। এটি মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের একটি ব্যতিক্রম, যাকে অসম্পূর্ণ প্রকটতা (Incomplete dominance) বলা হয়। অসম্পূর্ণ প্রকটতার কারণে $F_2$ জনুতে ফিনোটাইপিক অনুপাত $3 : 1$ এর পরিবর্তে $1 : 2 : 1$ হয়।
যুক্তিসহ উপস্থাপন:
ধরি,
লাল ফুলের জন্য দায়ী জিন = $R$ (জিনোটাইপ: $RR$)
সাদা ফুলের জন্য দায়ী জিন = $r$ (জিনোটাইপ: $rr$)
$P_1$ জনু: লাল গোলাপ ($RR$) $\times$ সাদা গোলাপ ($rr$)
গ্যামেট: $R$ এবং $r$
$F_1$ জনু: $Rr$ (সবগুলো গোলাপি)
এখানে $R$ জিনটি $r$ জিনের ওপর সম্পূর্ণ প্রকট হতে না পারায় লাল ও সাদার মিশ্রণে গোলাপি বর্ণ প্রকাশ পায়।
নিচে $F_1$ জনুর সৃষ্টির রেখাচিত্র দেওয়া হলো:

$F_1$ জনুর দুটি গোলাপি গোলাপের মধ্যে ক্রস ঘটালে $F_2$ জনুর ফলাফল চেকার বোর্ডের মাধ্যমে নিচে দেখানো হলো:
ফলাফল বিশ্লেষণ:
চেকার বোর্ড থেকে দেখা যায় যে, $F_2$ জনুর উদ্ভিদের জিনোটাইপ ও ফিনোটাইপ নিম্নরূপ:
- $RR$ = লাল গোলাপ (১টি)
- $Rr$ = গোলাপি গোলাপ (২টি)
- $rr$ = সাদা গোলাপ (১টি)
অতএব, $F_2$ জনুর ফিনোটাইপিক অনুপাত হলো:
লাল : গোলাপি : সাদা = $1 : 2 : 1$
মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের স্বাভাবিক ফিনোটাইপিক অনুপাত হওয়ার কথা ছিল $3 : 1$ (৩টি লাল ও ১টি সাদা)। কিন্তু অসম্পূর্ণ প্রকটতার কারণে এখানে অনুপাতটি পরিবর্তিত হয়ে $1 : 2 : 1$ হয়েছে। জিনোটাইপিক অনুপাতও $1 : 2 : 1$।
যেহেতু ফিনোটাইপিক অনুপাত মেন্ডেলের প্রত্যাশিত $3 : 1$ অনুপাতকে অনুসরণ না করে $1 : 2 : 1$ অনুপাত প্রদর্শন করে, তাই বলা যায় যে উদ্দীপকের গোলাপি বর্ণের গোলাপ সৃষ্টি মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের একটি স্পষ্ট ব্যতিক্রম।