(ক)
নিউরোট্রান্সমিটার হলো এমন এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ যা স্নায়ুকোষ থেকে নিঃসৃত হয়ে স্নায়ু উদ্দীপনাকে এক নিউরন থেকে অন্য নিউরনে, অথবা নিউরন থেকে পেশিকোষ বা গ্রন্থিতে পরিবহনে সহায়তা করে।
(খ)
পিটুইটারি গ্রন্থি মস্তিষ্কের নিচে অবস্থিত একটি ক্ষুদ্র গ্রন্থি হলেও একে 'মাস্টার গ্ল্যান্ড' বা প্রভু গ্রন্থি বলা হয়। এর কারণ হলো, এই গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোনগুলো শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির (যেমন- থাইরয়েড, অ্যাড্রেনাল, জনন গ্রন্থি) কার্যকারিতা এবং হরমোন নিঃসরণকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে। মানবদেহের বিপাকীয় ও শারীরবৃত্তীয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ এই গ্রন্থির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয় বলে একে প্রভু গ্রন্থি বলা হয়।
(গ)
উদ্দীপকে উল্লেখিত অঙ্গটি হলো মানুষের কান। কানের সবচেয়ে জটিল অংশ হলো অন্তঃকর্ণ। অন্তঃকর্ণের গঠন নিচে বর্ণনা করা হলো:
অন্তঃকর্ণ অস্থিময় ল্যাবিরিন্থ এবং তার ভেতরে অবস্থিত মেমব্রেনাস ল্যাবিরিন্থ নিয়ে গঠিত। অস্থিময় ল্যাবিরিন্থের ভেতরে পেরিলিম্ফ এবং মেমব্রেনাস ল্যাবিরিন্থের ভেতরে এন্ডোলিম্ফ নামক তরল থাকে। অন্তঃকর্ণ প্রধানত দুটি অংশে বিভক্ত:
১. ইউট্রিকুলাস: এটি অন্তঃকর্ণের উপরের দিকের প্রকোষ্ঠ। এর সাথে তিনটি অর্ধবৃত্তাকার নালি যুক্ত থাকে, যা দেহের ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করে। প্রতিটি নালির এক প্রান্ত স্ফীত হয়ে অ্যাম্পুলা গঠন করে, যার ভেতরে সংবেদী রোমযুক্ত কোষ থাকে।
২. স্যাকুলাস ও ককলিয়া: স্যাকুলাস নিচের দিকের প্রকোষ্ঠ। এটি থেকে শামুকের খোলকের মতো প্যাঁচানো নালিকা তৈরি হয়, যাকে ককলিয়া বলে। ককলিয়া তিনটি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত: স্ক্যালা ভেস্টিবুলি, স্ক্যালা মিডিয়া এবং স্ক্যালা টিমপেনি। স্ক্যালা মিডিয়ার ভেতরে বেসিলার ঝিল্লির ওপর সংবেদী কোষ বা 'অর্গান অব কর্টি' অবস্থিত, যা শ্রবণ উদ্দীপনা গ্রহণে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
(ঘ)
উদ্দীপকে উল্লেখিত স্নায়ুটি হলো অডিটরি স্নায়ু (৮ম করোটিক স্নায়ু) এবং অঙ্গটি হলো কান। শ্রবণ ও দেহের ভারসাম্য রক্ষায় এদের ভূমিকা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
শ্রবণ প্রক্রিয়া: শব্দতরঙ্গ পিনার মাধ্যমে প্রবেশ করে টিমপেনিক পর্দায় কম্পন সৃষ্টি করে। এই কম্পন মধ্যকর্ণের অস্থিগুলোর মাধ্যমে অন্তঃকর্ণের ককলিয়ায় পৌঁছায়। ককলিয়ার ভেতরে থাকা এন্ডোলিম্ফ তরলে কম্পন সৃষ্টি হলে অর্গান অব কর্টির সংবেদী রোম কোষগুলো উদ্দীপ্ত হয়। এই উদ্দীপনা অডিটরি স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কের শ্রবণকেন্দ্রে পৌঁছালে আমরা শব্দ শুনতে পাই।
ভারসাম্য রক্ষা: দেহের ভারসাম্য রক্ষায় অন্তঃকর্ণের ইউট্রিকুলাস, স্যাকুলাস এবং অর্ধবৃত্তাকার নালিগুলো কাজ করে। যখন মাথা বা শরীরের অবস্থানের পরিবর্তন ঘটে, তখন অর্ধবৃত্তাকার নালির এন্ডোলিম্ফ তরল নড়াচড়া করে এবং অ্যাম্পুলার সংবেদী রোমগুলোকে উদ্দীপিত করে। এই উদ্দীপনা অডিটরি স্নায়ুর ভেস্টিবুলার শাখার মাধ্যমে মস্তিষ্কের সেরিবেলামে পৌঁছায়, যা দেহের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
সুতরাং, অডিটরি স্নায়ু এবং অন্তঃকর্ণের সমন্বিত কার্যকারিতার মাধ্যমেই মানুষ শব্দ শোনার পাশাপাশি দেহের ভারসাম্য রক্ষা করতে সক্ষম হয়।