(ক)
একটি নিউরনের অ্যাক্সনের প্রান্তের সাথে পরবর্তী নিউরনের ডেনড্রাইট, কোষদেহ বা অ্যাক্সনের সংযোগস্থলই হলো সাইন্যাপস।
(খ)
হরমোনকে দেহের রাসায়নিক দূত বলা হয়। হরমোন এক ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ যা দেহের অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত হয়। এই হরমোন রক্তস্রোতের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে দূরবর্তী কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য কোষে পৌঁছায় এবং কোষের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাবিত করে। যেহেতু হরমোন রাসায়নিক বার্তা প্রেরণের মাধ্যমে দেহের বিভিন্ন অঙ্গের কাজের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে, তাই একে রাসায়নিক দূত বলা হয়।
(গ)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ছোট গ্রন্থিটি হলো পিটুইটারি গ্রন্থি। এটি মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসের নিচে অবস্থিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থি। পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত বিভিন্ন ট্রপিক হরমোন অন্যান্য অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে বলে একে 'প্রভু গ্রন্থি' বা 'মাস্টার গ্ল্যান্ড' বলা হয়।
পিটুইটারি গ্রন্থি কীভাবে অন্যান্য গ্রন্থির ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে তার কিছু উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো:
১. থাইরয়েড উদ্দীপক হরমোন (TSH): এটি থাইরয়েড গ্রন্থিকে উদ্দীপ্ত করে থাইরক্সিন হরমোন নিঃসরণে সাহায্য করে।
২. অ্যাড্রেনোকর্টিকোট্রপিক হরমোন (ACTH): এটি অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির কর্টেক্স অঞ্চলকে উদ্দীপ্ত করে গ্লুকোকর্টিকয়েড হরমোন ক্ষরণে ভূমিকা রাখে।
৩. লুটিনাইজিং হরমোন (LH) ও ফলিকল উদ্দীপক হরমোন (FSH): এই হরমোনগুলো জনন গ্রন্থিকে (ডিম্বাশয় ও শুক্রাশয়) উদ্দীপ্ত করে যৌন হরমোন (যেমন—ইস্ট্রোজেন, প্রজেস্টেরন ও টেস্টোস্টেরন) নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
এভাবে পিটুইটারি গ্রন্থি তার নিঃসৃত হরমোনের মাধ্যমে দেহের অন্যান্য গ্রন্থির কার্যকারিতা ও হরমোন ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে দেহের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য বজায় রাখে।
(ঘ)
উদ্দীপকের আলোকে পিটুইটারি গ্রন্থি বা অন্যান্য গ্রন্থি থেকে হরমোনের অনিয়ন্ত্রিত ক্ষরণ মানবদেহে বিভিন্ন জটিল সমস্যার সৃষ্টি করে। হরমোনের ভারসাম্যহীনতার ফলে সৃষ্ট কিছু সমস্যা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. গ্রোথ হরমোন (GH): শৈশবকালে এই হরমোনের অতিরিক্ত ক্ষরণে দৈত্যত্ব (Gigantism) এবং কম ক্ষরণে বামনত্ব (Dwarfism) দেখা দেয়। বয়স্ক অবস্থায় অতিরিক্ত ক্ষরণে হাত, পা ও মুখমণ্ডলের অস্থি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায়, যাকে গরিলাত্ব (Acromegaly) বলে।
২. থাইরয়েড হরমোন: থাইরক্সিনের স্বল্প ক্ষরণে শিশুদের ক্রিটিনিজম (শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত) এবং বয়স্কদের মিক্সিডিমা (চামড়া খসখসে হওয়া, গলার স্বর মোটা হওয়া) দেখা দেয়। অতিরিক্ত ক্ষরণে থাইরয়েড গ্রন্থি বড় হয়ে গয়টার বা গলগণ্ড রোগ হতে পারে।
৩. ইনসুলিন: অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিনের ক্ষরণ কমে গেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়, যা ডায়াবেটিস মেলিটাস রোগের সৃষ্টি করে।
৪. প্যারাথরমোন: প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি থেকে এই হরমোনের স্বল্প ক্ষরণে রক্তে ক্যালসিয়ামের অভাব ঘটে, ফলে পেশির খিঁচুনি বা টিটেনি রোগ দেখা দেয়।
পরিশেষে বলা যায়, হরমোনের ক্ষরণ একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় নিয়ন্ত্রিত হয়। এই নিয়ন্ত্রণের ব্যত্যয় ঘটলে দেহের স্বাভাবিক বিপাকীয় ও শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়, যা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।