(ক)
হরমোন এক ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ যা অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হতে উৎপন্ন হয়ে রক্ত বা লসিকার মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে শারীরবৃত্তীয় কাজ সম্পন্ন করে নিঃশেষ হয়ে যায়।
(খ)
দৃশ্যযোগ্য বস্তু একই সাথে দু'চোখের সাহায্যে এককভাবে দেখাকে দ্বিনেত্র দৃষ্টি বলে। কোনো বস্তু থেকে প্রতিফলিত আলোক রশ্মি রেটিনায় পড়লে যে স্নায়ু উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়, তা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মস্তিষ্কের দৃষ্টি কেন্দ্রে একটি মাত্র প্রতিবিম্বে একত্রীভূত হয়, ফলে আমরা দুচোখে একটি বস্তুকে এককভাবে দেখি। এর ফলে কোনো বস্তুর ত্রিমাত্রিক অর্থাৎ দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও গভীরতা অনুভব করা যায়।
(গ)
উদ্দীপকে উল্লিখিত স্নায়ুগুলো হলো করোটিক স্নায়ু। নিচে করোটিক স্নায়ুগুলোর উৎপত্তি ও প্রকৃতি ব্যাখ্যা করা হলো:

মানুষের মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ থেকে ১২ জোড়া করোটিক স্নায়ু উৎপত্তি লাভ করে। এদের উৎপত্তি ও প্রকৃতি নিচে দেওয়া হলো:
১. অলফ্যাক্টরি (I): ঘ্রাণ গোলক থেকে উৎপত্তি, প্রকৃতি সংবেদী।
২. অপটিক (II): ডাইএনসেফালন থেকে উৎপত্তি, প্রকৃতি সংবেদী।
৩. অকিউলোমোটর (III): মিডব্রেন থেকে উৎপত্তি, প্রকৃতি চেষ্টীয়।
৪. ট্রকলিয়ার (IV): মিডব্রেন থেকে উৎপত্তি, প্রকৃতি চেষ্টীয়।
৫. ট্রাইজেমিনাল (V): পনস থেকে উৎপত্তি, প্রকৃতি মিশ্র।
৬. অ্যাবডুসেন্স (VI): পনস থেকে উৎপত্তি, প্রকৃতি চেষ্টীয়।
৭. ফেসিয়াল (VII): পনস থেকে উৎপত্তি, প্রকৃতি মিশ্র।
৮. অডিটরি (VIII): পনস থেকে উৎপত্তি, প্রকৃতি সংবেদী।
৯. গ্লসোফ্যারিঞ্জিয়াল (IX): মেডুলা থেকে উৎপত্তি, প্রকৃতি মিশ্র।
১০. ভেগাস (X): মেডুলা থেকে উৎপত্তি, প্রকৃতি মিশ্র।
১১. এক্সেসরি (XI): মেডুলা থেকে উৎপত্তি, প্রকৃতি চেষ্টীয়।
১২. হাইপোগ্লোসাল (XII): মেডুলা থেকে উৎপত্তি, প্রকৃতি চেষ্টীয়।
(ঘ)
সংবেদী অঙ্গসমূহের সাহায্যে মানুষ তার পরিবেশের বিভিন্ন বস্তু ও নিয়ামক সম্পর্কে অবহিত হয় এবং সেই অনুযায়ী নিজেকে খাপ খাওয়ানোর মাধ্যমে অস্তিত্ব রক্ষা করে। মানুষের প্রধান পাঁচটি সংবেদী অঙ্গ হলো ত্বক, চোখ, কান, নাক ও জিহ্বা। উদ্দীপকে উল্লিখিত করোটিক স্নায়ুগুলোর কার্যকারিতা ছাড়া সংবেদী অঙ্গগুলোর উপযুক্ত প্রতিবেদন অসম্ভব। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. অলফ্যাক্টরি স্নায়ু: সংবেদী অঙ্গ (নাক) থেকে মস্তিষ্কে ঘ্রাণ উদ্দীপনা বহন করে।
২. অপটিক স্নায়ু: সংবেদী অঙ্গ (চোখ) থেকে দর্শন অনুভূতি মস্তিষ্কে বহন করে।
৩. ট্রাইজেমিনাল স্নায়ু: মুখমণ্ডল ও সংবেদী অঙ্গ থেকে মস্তিষ্কে অনুভূতি বহন করে।
৪. ফেসিয়াল স্নায়ু: স্বাদ গ্রহণ ও মুখমণ্ডলের পেশির সঞ্চালন নিয়ন্ত্রণ করে।
৫. অডিটরি স্নায়ু: সংবেদী অঙ্গ (কান) থেকে শ্রবণ ও ভারসাম্য রক্ষার অনুভূতি মস্তিষ্কে বহন করে।
৬. গ্লসোফ্যারিঞ্জিয়াল স্নায়ু: জিহ্বা ও গলবিলের স্বাদ গ্রহণ ও সঞ্চালনে সহায়তা করে।
৭. হাইপোগ্লোসাল স্নায়ু: জিহ্বার সঞ্চালন নিয়ন্ত্রণ করে।
পরিশেষে বলা যায় যে, এই স্নায়ুগুলো সংবেদী অঙ্গ থেকে উদ্দীপনা মস্তিষ্কে পৌঁছানো এবং মস্তিষ্ক থেকে নির্দেশ সংবেদী অঙ্গে পাঠানোর মাধ্যমে সমন্বয় সাধন করে। তাই এই স্নায়ুগুলোর কার্যকারিতা ছাড়া সংবেদী অঙ্গগুলোর উপযুক্ত প্রতিবেদন অসম্ভব।