Facebook Pixel

মানুষের গৃহীত খাদ্যের মধ্যে আমিষ, শর্করা ও স্নেহ জাতীয় খাদ্য, জটিল প্রকৃতির। এসব জটিল খাদ্যের পরিপাকের প্রয়োজন হয়। বিভিন্ন রকম উৎসেচক খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। ক. খাদ্য কী? খ. খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা লিখ। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় অংশের যৌক্তিকতা উল্লেখ কর। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত শেষের উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ মানব শারীরতত্ত্বঃ পরিপাক ও শোষণ

উৎস: Board Exam Question JB 2016

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) যেসব বস্তু জীবদেহে গৃহীত হওয়ার পর পরিপাক ও শোষণের মাধ্যমে দেহের বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে, তাদের খাদ্য বলে। (খ) খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা নিচে আলোচনা করা হলো: ১. দেহ গঠন ও বৃদ্ধি: খাদ্য দেহের কোষ গঠন এবং দেহের সামগ্রিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। ২. ক্ষয়পূরণ: শরীরের ক্ষয়প্রাপ্ত কোষের পুনর্গঠন ও ক্ষত নিরাময়ে খাদ্য অপরিহার্য। ৩. শক্তি উৎপাদন: শর্করা ও স্নেহ জাতীয় খাদ্য জারণের মাধ্যমে দেহের প্রয়োজনীয় তাপ ও কর্মশক্তি সরবরাহ করে। ৪. রোগ প্রতিরোধ: ভিটামিন ও খনিজ লবণ দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে শরীরকে সুস্থ রাখে। ৫. বিপাকীয় নিয়ন্ত্রণ: খাদ্য দেহের বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক ও বিপাকীয় কাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে সাহায্য করে। (গ) উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে জটিল খাদ্য পরিপাকের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। এর যৌক্তিকতা নিচে দেওয়া হলো: মানুষের গৃহীত শর্করা, আমিষ ও স্নেহ জাতীয় খাদ্য জটিল প্রকৃতির। আমাদের শরীরের কোষ সরাসরি এই জটিল খাদ্যবস্তু গ্রহণ করতে পারে না। কোষ শুধুমাত্র সরল ও দ্রবণীয় অবস্থায় থাকা খাদ্য উপাদানগুলোই শোষণ করতে পারে। পরিপাক হলো একটি জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে এনজাইমের সহায়তায় জটিল খাদ্যদ্রব্য ভেঙে সরল ও শোষণযোগ্য উপাদানে পরিণত হয়। যেমন: শর্করা ভেঙে গ্লুকোজে, আমিষ ভেঙে অ্যামিনো এসিডে এবং স্নেহ জাতীয় খাদ্য ভেঙে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে পরিণত হয়। এই সরল উপাদানগুলোই রক্তে মিশে দেহের কোষে পৌঁছায় এবং শক্তি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। তাই জটিল খাদ্যকে দেহের উপযোগী করার জন্য পরিপাক অপরিহার্য। (ঘ) উদ্দীপকের শেষের উক্তিটি হলো, "বিভিন্ন রকম উৎসেচক খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে।" নিচে এর বিশ্লেষণ দেওয়া হলো: খাদ্য পরিপাক মূলত এনজাইম বা উৎসেচকের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়। প্রতিটি খাদ্য উপাদানের জন্য নির্দিষ্ট এনজাইম কাজ করে: ১. শর্করা পরিপাক: মুখগহ্বর ও ক্ষুদ্রান্ত্রে অবস্থিত অ্যামাইলোলাইটিক এনজাইম (যেমন: টায়ালিন, অ্যামাইলেজ) জটিল শর্করাকে ভেঙে সরল গ্লুকোজে পরিণত করে। ২. আমিষ পরিপাক: পাকস্থলী ও ক্ষুদ্রান্ত্রে অবস্থিত প্রোটিওলাইটিক এনজাইম (যেমন: পেপসিন, ট্রিপসিন) জটিল আমিষকে ভেঙে সরল অ্যামিনো এসিডে রূপান্তরিত করে। ৩. স্নেহ পরিপাক: ক্ষুদ্রান্ত্রে অবস্থিত লাইপোলাইটিক এনজাইম (যেমন: লাইপেজ) পিত্তরসের সহায়তায় স্নেহ জাতীয় খাদ্যকে ভেঙে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে পরিণত করে। পরিশেষে বলা যায়, এনজাইম ছাড়া জটিল খাদ্যদ্রব্যের আর্দ্রবিশ্লেষণ সম্ভব নয়। তাই খাদ্য পরিপাক প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন উৎসেচকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenJessore Board (2016)

মানুষের গৃহীত খাদ্যের মধ্যে আমিষ, শর্করা ও স্নেহ জাতীয় খাদ্য, জটিল প্রকৃতির। এসব জটিল খাদ্যের পরিপাকের প্রয়োজন হয়। বিভিন্ন রকম উৎসেচক খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে।

ক. খাদ্য কী?

খ. খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা লিখ।

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় অংশের যৌক্তিকতা উল্লেখ কর।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত শেষের উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।