(ক)
$F_1$ বা $F_2$ জনুর কোনো বংশধর হোমোজাইগাস নাকি হেটারোজাইগাস তা জানার জন্য সেটিকে মাতৃবংশের বিশুদ্ধ প্রচ্ছন্ন লক্ষণবিশিষ্ট জীবের সাথে সংকরায়ণ করাকে টেস্ট ক্রস (Test cross) বলে।
(খ)
১৯৪০ সালে বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার এবং উইনার রেসাস বানরের ($Rhesus$ $macacus$) রক্ত খরগোশের শরীরে প্রবেশ করিয়ে খরগোশের রক্তরসে এক ধরনের অ্যান্টিবডি উৎপাদনে সক্ষম হন। এই ফলাফল থেকে বিজ্ঞানী দুজন ধারণা করেন যে, মানুষের লোহিত রক্তকণিকার ঝিল্লিতে রেসাস বানরের লোহিত কণিকার ঝিল্লির মতো এক ধরনের অ্যান্টিজেন রয়েছে। রেসাস বানরের নামানুসারে এই অ্যান্টিজেনকে রেসাস ফ্যাক্টর বা সংক্ষেপে Rh ফ্যাক্টর (Rh factor) বলা হয়। মানুষের রক্তে এই অ্যান্টিজেন থাকলে তাকে Rh পজিটিভ ($Rh^+$) এবং না থাকলে তাকে Rh নেগেটিভ ($Rh^-$) বলা হয়।
(গ)
উদ্দীপকের দম্পতির পুরুষ সদস্যটি কালো চোখ ও কালো চুলবিশিষ্ট এবং মহিলা সদস্যটি নীল চোখ ও বাদামী চুলবিশিষ্ট। তাদের মধ্যে ক্রস ঘটানো হলে দ্বিতীয় প্রজন্মে মেন্ডেলের ২য় সূত্রের অনুরূপ ৯:৩:৩:১ অনুপাতে বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটবে।
ধরি,
কালো চোখের জন্য দায়ী প্রকট জিন = $B$
নীল চোখের জন্য দায়ী প্রচ্ছন্ন জিন = $b$
কালো চুলের জন্য দায়ী প্রকট জিন = $I$
বাদামী চুলের জন্য দায়ী প্রচ্ছন্ন জিন = $i$
পুরুষের জিনোটাইপ: $BBII$
মহিলার জিনোটাইপ: $bbii$
পিতা-মাতার ($P_1$) ক্রস:
ফিনোটাইপ: কালো চোখ ও কালো চুল (পুরুষ) $ imes$ নীল চোখ ও বাদামী চুল (মহিলা)
জিনোটাইপ: $BBII imes bbii$
গ্যামেট: $BI$ এবং $bi$
$F_1$ জনু: $BbIi$ (সবাই কালো চোখ ও কালো চুলবিশিষ্ট হবে)
$F_1$ জনুর সদস্যদের মধ্যে স্ব-পরাগায়ন/ক্রস ঘটালে ($P_2$):
ফিনোটাইপ: কালো চোখ ও কালো চুল $ imes$ কালো চোখ ও কালো চুল
জিনোটাইপ: $BbIi imes BbIi$
গ্যামেটসমূহ: $BI$, $Bi$, $bI$, $bi$
$F_2$ জনুর চেকারবোর্ড নিচে দেখানো হলো:
চেকারবোর্ড থেকে প্রাপ্ত ফলাফল:
১. কালো চোখ ও কালো চুল: ৯টি
২. কালো চোখ ও বাদামী চুল: ৩টি
৩. নীল চোখ ও কালো চুল: ৩টি
৪. নীল চোখ ও বাদামী চুল: ১টি
অতএব, $F_2$ জনুর ফিনোটাইপিক অনুপাত = ৯:৩:৩:১।
(ঘ)
উদ্দীপকের ঘটনাটি মেন্ডেলের ২য় সূত্রকে (দ্বিসংকর ক্রস) সমর্থন করে। নিচে মেন্ডেলের ২য় সূত্রের একটি ব্যতিক্রম হিসেবে দ্বৈত প্রচ্ছন্ন এপিস্ট্যাসিস (Duplicate recessive epistasis) ব্যাখ্যা করা হলো:
দুটি ভিন্ন লোকাসে অবস্থিত দুটি প্রচ্ছন্ন অ্যালিল যখন পরস্পরের প্রকট অ্যালিলকে নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য প্রকাশে বাধা দেয়, তখন তাকে দ্বৈত প্রচ্ছন্ন এপিস্ট্যাসিস বলে। মানুষের জন্মগত মূক-বধিরতা এর একটি অন্যতম উদাহরণ।
ধরি,
স্বাভাবিক বাক-শ্রবণ ক্ষমতার জন্য দায়ী দুটি ভিন্ন লোকাসের দুটি প্রকট জিন হলো $A$ এবং $B$।
এদের প্রচ্ছন্ন অ্যালিলদ্বয় যথাক্রমে $a$ এবং $b$।
যদি কোনো লোকাসে প্রচ্ছন্ন জিন দুটি হোমোজাইগাস অবস্থায় (যেমন- $aa$ বা $bb$) থাকে, তবে ব্যক্তিটি মূক-বধির হবে। অর্থাৎ, স্বাভাবিক বাক-শ্রবণ ক্ষমতার জন্য জিনোটাইপে অন্তত একটি করে প্রকট জিন $A$ এবং $B$ থাকতে হবে।
ধরি, দুজন জন্মগত মূক-বধির ব্যক্তির জিনোটাইপ যথাক্রমে $AAbb$ এবং $aaBB$।
তাদের মধ্যে বিয়ে হলে প্রথম প্রজন্মে ($F_1$) সব সন্তান স্বাভাবিক বাক-শ্রবণ ক্ষমতাসম্পন্ন হবে।
$F_1$ জনুর জিনোটাইপ: $AaBb$ (যেহেতু $A$ এবং $B$ উভয় প্রকট জিন উপস্থিত)।
$F_1$ জনুর দুটি সদস্যের মধ্যে বিয়ে হলে দ্বিতীয় প্রজন্মে ($F_2$) চেকারবোর্ডটি নিম্নরূপ হবে:
ফলাফল বিশ্লেষণ:
১. স্বাভাবিক বাক-শ্রবণ ক্ষমতাসম্পন্ন সন্তান (যাদের জিনোটাইপে অন্তত একটি $A$ এবং একটি $B$ আছে): ৯টি
২. মূক-বধির সন্তান (যাদের জিনোটাইপে $aa$ বা $bb$ বা উভয়ই হোমোজাইগাস প্রচ্ছন্ন অবস্থায় আছে): ৭টি
অতএব, $F_2$ জনুর ফিনোটাইপিক অনুপাত = ৯:৭ (স্বাভাবিক : মূক-বধির)।
এটি মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের সাধারণ অনুপাত ৯:৩:৩:১ এর একটি ব্যতিক্রম।