Facebook Pixel

মানব শিশু জন্মের সাথে সাথে কিছু অধিকার লাভ করে। অধিকার প্রকৃতিগত এবং সমাজেই এর বিকাশ। অধিকার ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ ঘটায়। অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষ আদালতের আশ্রয় নিতে পারে। সমাজে সুষ্ঠুভাবে এবং শান্তিপূর্ণভাবে বাস করার জন্য আমাদেরকে কিছু কর্তব্য পালন করতে হয়। এ জন্য বলা হয় "অধিকারের মধ্যে কর্তব্য নিহিত।" ক. অধিকার কী? খ. মানবাধিকারের ধারণা ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকে কোন অধিকারের ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকের শেষোক্তির সাথে তুমি কি একমত? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ নাগরিক অধিকার, কর্তব্য ও মানবাধিকার

উৎস: Board Exam Question DiB 2023

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) অধিকার হলো নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কিছু কল্যাণকর সুযোগ-সুবিধা। (খ) বিশ্বের সকল মানুষ জন্মগতভাবে যে সকল অধিকার ভোগ করে, তাকে মানবাধিকার বলে। মানবাধিকার হলো অধিকারেরই একটি বিস্তৃত রূপ, যা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এই অধিকারগুলো কোনো নির্দিষ্ট দেশ, জাতি, ধর্ম বা কালের সীমানায় আবদ্ধ নয়; বরং পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ কেবল মানুষ হিসেবেই এই অধিকারগুলো দাবি করতে পারে। ব্যক্তির জীবন রক্ষা এবং ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশের জন্য মানবাধিকার অপরিহার্য। (গ) উদ্দীপকে মানবাধিকারের ইঙ্গিত রয়েছে। মানবাধিকার হলো মানুষের জন্মগত ও স্বাভাবিক অধিকার, যা ব্যক্তিত্বের বিকাশের জন্য অপরিহার্য। ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অনুমোদিত 'সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র' দ্বারা মানুষের বিভিন্ন ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এই ঘোষণাপত্রের ৮নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কারও মৌলিক অধিকার খর্ব করা হলে উক্ত ব্যক্তি আদালতের মাধ্যমে যথাযথ বিচার লাভের অধিকারী। উদ্দীপকে দেখা যায়, মানব শিশু জন্মের সাথে সাথে কিছু অধিকার লাভ করে, যা ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ ঘটায়। এছাড়া অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষ আদালতের আশ্রয় নিতে পারে। উদ্দীপকের এই বর্ণনাগুলো মানবাধিকারের বৈশিষ্ট্যের সাথে সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ। সুতরাং, বলা যায় যে উদ্দীপকটিতে মানবাধিকারের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। (ঘ) হ্যাঁ, উদ্দীপকের শেষোক্তি "অধিকারের মধ্যে কর্তব্য নিহিত"-এর সাথে আমি একমত। অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্রকর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে। আর অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিককে রাষ্ট্রের প্রতি যে সকল দায়িত্ব পালন করতে হয়, তাকে বলা হয় কর্তব্য। অধিকার ও কর্তব্য শব্দ দুটি আপাতদৃষ্টিতে বিপরীতমুখী মনে হলেও এদের পারস্পরিক সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। অধিকার ও কর্তব্যের সম্পর্ক এমন যে, একজনের অধিকার অন্যজনের কর্তব্য। যেমন, আমার বেঁচে থাকার অধিকার আছে, তেমনি আমার কর্তব্য হলো অন্যের জীবননাশের চেষ্টা না করা। অর্থাৎ, আমি যখন আমার অধিকার ভোগ করি, তখন পরোক্ষভাবে অন্যের কর্তব্য পালন করি এবং অন্যের অধিকার রক্ষার জন্য আমার কর্তব্য পালন করতে হয়। রাষ্ট্র নাগরিকের অধিকার রক্ষা করে, আর নাগরিকগণ রাষ্ট্রের প্রতি কর্তব্য পালন করে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ও সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখে। নাগরিকের যা অধিকার, রাষ্ট্রের তা কর্তব্য; আবার রাষ্ট্রের যা অধিকার, নাগরিকের তা কর্তব্য। একটি ছাড়া অন্যটি অর্থহীন এবং একটি অপরটির ওপর নির্ভরশীল ও পরিপূরক। উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, অধিকার ও কর্তব্য একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। তাই অধিকারের মধ্যেই কর্তব্য নিহিত থাকে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDinajpur Board (2023)

মানব শিশু জন্মের সাথে সাথে কিছু অধিকার লাভ করে। অধিকার প্রকৃতিগত এবং সমাজেই এর বিকাশ। অধিকার ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ ঘটায়। অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষ আদালতের আশ্রয় নিতে পারে। সমাজে সুষ্ঠুভাবে এবং শান্তিপূর্ণভাবে বাস করার জন্য আমাদেরকে কিছু কর্তব্য পালন করতে হয়। এ জন্য বলা হয় "অধিকারের মধ্যে কর্তব্য নিহিত।"

ক. অধিকার কী?

খ. মানবাধিকারের ধারণা ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকে কোন অধিকারের ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকের শেষোক্তির সাথে তুমি কি একমত? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।