(ক)
করোটি হলো মাথার খুলির সেই অংশ যা মুখমণ্ডলীয় অস্থি এবং করোটিকা (cranium) নিয়ে গঠিত এবং যা মস্তিষ্ককে সুরক্ষা প্রদান করে।
(খ)
মানবদেহের মেরুদণ্ড শৈশবাবস্থায় ৩৩টি পৃথক কশেরুকা নিয়ে গঠিত হলেও পূর্ণবয়স্ক অবস্থায় এদের সংখ্যা ২৬টিতে নেমে আসে। এর কারণ হলো মেরুদণ্ডের নিচের দিকের কশেরুকাগুলোর সংযুক্তি। স্যাক্রাল অঞ্চলে ৫টি কশেরুকা পরস্পর যুক্ত হয়ে একটি অখণ্ড অস্থি বা স্যাক্রাম গঠন করে এবং কক্কিজিয়াল অঞ্চলে ৪টি কশেরুকা যুক্ত হয়ে একটি অখণ্ড অস্থি বা কক্কিক্স গঠন করে। ফলে ৩৩টি কশেরুকা থেকে ৫টি ও ৪টি করে অস্থি কমে গিয়ে মোট অস্থি সংখ্যা হয় ২৬টি।
(গ)
বক্ষদেশীয় কশেরুকাকে আদর্শ কশেরুকা বলা হয় কারণ এতে একটি আদর্শ কশেরুকার সকল বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এর প্রধান অংশগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. সেন্ট্রাম: এটি কশেরুকার সামনের দিকে অবস্থিত একটি স্থূল, শক্ত ও স্পঞ্জি অস্থি নির্মিত অংশ।
২. আর্চ: এটি সেন্ট্রামের পৃষ্ঠতলে অবস্থিত একটি রিং বা বলয়াকার গঠন যা স্নায়ুরজ্জুকে সুরক্ষা দেয়। এর অংশগুলো হলো:
- পেডিকল: সেন্ট্রামের উভয় পাশ থেকে পেছনের দিকে বর্ধিত দুটি খাটো ও শক্ত অস্থি।
- ল্যামিনা: পেডিকলের শেষ প্রান্ত থেকে উৎপন্ন দুটি চ্যাপ্টা প্লেটের মতো অংশ যা পেছনে মিলিত হয়ে স্পাইনাস প্রসেস গঠন করে।
- ট্রান্সভার্স প্রসেস: পেডিকল ও ল্যামিনার সংযোগস্থল থেকে দুই পাশে নির্গত দুটি পার্শ্বীয় প্রবর্ধন।
- আর্টিকুলার প্রসেস: ল্যামিনা ও পেডিকলের সংযোগস্থল থেকে উদগত সুপিরিয়র ও ইনফিরিয়র আর্টিকুলার প্রসেস, যা পাশের কশেরুকার সাথে সংযোগ স্থাপন করে।
- স্পাইনাস প্রসেস: দুই ল্যামিনার সংযোগস্থলে অবস্থিত একটি মধ্যবর্তী প্রবর্ধন।
(ঘ)
মানবদেহের সঞ্চালন প্রক্রিয়া মূলত কঙ্কালতন্ত্র এবং পেশিতন্ত্রের সমন্বিত কার্যক্রমের ফসল। তবে এই সঞ্চালনে পেশিই মুখ্য ভূমিকা পালন করে। কঙ্কালতন্ত্র দেহের কাঠামো প্রদান করে এবং লিভার হিসেবে কাজ করে, কিন্তু এই লিভারকে সচল করার জন্য প্রয়োজনীয় বল বা শক্তি সরবরাহ করে পেশি।
উদাহরণস্বরূপ, হাতের সঞ্চালনের কথা বিবেচনা করা যাক। এখানে হিউমেরাস, রেডিয়াস ও আলনা অস্থি মিলে একটি তৃতীয় শ্রেণির লিভার তৈরি করে। কনুইয়ের অস্থিসন্ধি পিভট হিসেবে কাজ করে এবং বাইসেপস ও ট্রাইসেপস পেশি বল বাহু হিসেবে কাজ করে। যখন আমরা হাত বাঁকাই, তখন বাইসেপস পেশি সংকুচিত হয়ে প্রয়োজনীয় বল প্রদান করে। আবার হাত প্রসারিত করার সময় ট্রাইসেপস পেশি ক্রিয়াশীল হয়। এই পেশিগুলো ঐচ্ছিক প্রকৃতির হওয়ায় কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের নির্দেশে আমরা আমাদের ইচ্ছামতো অঙ্গ সঞ্চালন করতে পারি। সুতরাং, অস্থি কেবল কাঠামো হিসেবে থাকলেও পেশির সংকোচন ও প্রসারণই অঙ্গ সঞ্চালনের মূল চালিকাশক্তি।