(ক)
অ্যান্টিবডি হলো রক্তরসে বা সিরামে উপস্থিত এক ধরনের বিশেষ গ্লাইকোপ্রোটিন, যা দেহে প্রবেশকারী কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেন বা বহিরাগত ক্ষতিকর বস্তুকে শনাক্ত করে এবং তা নিষ্ক্রিয় বা ধ্বংস করার মাধ্যমে দেহকে রক্ষা করে।
(খ)
জন্মের পর কোনো নির্দিষ্ট জীবাণু বা অ্যান্টিজেনের সংস্পর্শে আসার ফলে কিংবা কৃত্রিমভাবে টিকা বা ভ্যাক্সিন গ্রহণের মাধ্যমে মানবদেহে যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে ওঠে, তাকে অর্জিত অনাক্রম্যতা বা অর্জিত প্রতিরক্ষা বলে। এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং এটি স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন, অর্থাৎ একবার কোনো জীবাণুর বিরুদ্ধে সাড়া দিলে পরবর্তীতে একই জীবাণু পুনরায় আক্রমণ করলে দেহ দ্রুত ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা গড়ে তুলতে পারে।
(গ)
উদ্দীপকে উল্লিখিত জৈব রাসায়নিক পদার্থটি হলো বৃদ্ধি হরমোন বা সোমাটোট্রপিক হরমোন (STH)। মানবদেহের বৃদ্ধি ও বিকাশে এই হরমোনের কার্যপদ্ধতি নিচে আলোচনা করা হলো:
১. প্রোটিন সংশ্লেষণ: এই হরমোন কোষে অ্যামিনো অ্যাসিডের প্রবেশ ও গ্রহণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, যা প্রোটিন সংশ্লেষণকে ত্বরান্বিত করে এবং পেশির বৃদ্ধি ঘটায়।
২. বিপাক নিয়ন্ত্রণ: এটি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং লিপিড বা ফ্যাটি অ্যাসিডের ভাঙন বাড়িয়ে শক্তি উৎপাদনে ভূমিকা রাখে।
৩. অস্থির বৃদ্ধি: সোমাটোট্রপিক হরমোন অস্টিওব্লাস্ট কোষের সক্রিয়তা বাড়িয়ে অস্থির দৈর্ঘ্য ও ঘনত্ব বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, ফলে দেহের কাঠামো বড় হয়।
৪. ক্যালসিয়াম শোষণ: এটি পরিপাকনালি থেকে ক্যালসিয়ামের শোষণ এবং বৃক্কের মাধ্যমে ক্যালসিয়ামের পুনঃশোষণ বাড়িয়ে হাড়ের গঠন মজবুত করে।
এছাড়া থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত থাইরক্সিন হরমোনও দৈহিক বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি পিটুইটারি গ্রন্থিকে বৃদ্ধি হরমোন ক্ষরণে উদ্দীপিত করে এবং দেহের বিপাক হার বাড়িয়ে কোষের বিভেদন ও পরিপক্বতায় সহায়তা করে।
(ঘ)
উদ্দীপকে উল্লিখিত জৈব রাসায়নিক পদার্থ বা হরমোনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার মানবদেহের স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় ভারসাম্য নষ্ট করে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এর প্রভাবগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. শারীরিক বিকৃতি: হরমোনের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে হাড়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটে, যা অ্যাক্রোমেগালি (Acromegaly) নামক রোগের সৃষ্টি করে। এতে মুখমণ্ডল ও দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অস্বাভাবিক বড় হয়ে যায়।
২. বিপাকীয় সমস্যা: এটি রক্তে কোলেস্টেরলের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ভালো কোলেস্টেরল (HDL) কমে যায় এবং খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) বৃদ্ধি পায়, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
৩. প্রজননতন্ত্রের ক্ষতি: হরমোনের ভারসাম্যহীনতায় শুক্রাণু উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পায়, যা বন্ধ্যাত্বের কারণ হতে পারে। এছাড়া পুরুষদের ক্ষেত্রে গাইনেকোমাস্টিয়া (স্তন অস্বাভাবিক বড় হওয়া) এবং প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।
৪. মানসিক ও আচরণগত পরিবর্তন: হরমোনের অপব্যবহারের ফলে মেজাজের পরিবর্তন, উগ্রতা, অসহিষ্ণুতা এবং মানসিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
৫. অঙ্গের অকার্যকারিতা: দীর্ঘমেয়াদী অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে লিভার টিউমার, বৃক্কের সমস্যা এবং পেশির দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।
পরিশেষে বলা যায়, হরমোন দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় হলেও এর কৃত্রিম বা অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার শরীরের অভ্যন্তরীণ জৈবিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে দীর্ঘস্থায়ী ও ভয়াবহ শারীরিক জটিলতা সৃষ্টি করে।