Facebook Pixel

মানবদেহের কিছু গ্রন্থি মধ্যচ্ছদার নিচে অবস্থান করে। এর মধ্যে একটি বহিঃক্ষরা গ্রন্থি এবং অপরটি মিত্রগ্রন্থি। এই দুইটি গ্রন্থি দেহের সমস্ত বিপাক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। ক. পেরিস্টালসিস কী? খ. হৃৎপিণ্ডের চারটি কপাটিকার নাম ও কাজ লিখ। গ. উদ্দীপকের প্রথম গ্রন্থিটির গঠন বর্ণনা কর। ঘ. উদ্দীপকের ২য় গ্রন্থিটি একটি মিশ্রগ্রন্থি"-যুক্তি দিয়ে বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ মানব শারীরতত্ত্বঃ পরিপাক ও শোষণ

উৎস: Test Exam Question VNSC 2020

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) পেরিস্টালসিস হলো পৌষ্টিকনালির প্রাচীরের পেশির ছন্দবদ্ধ সংকোচন ও প্রসারণের ফলে সৃষ্ট ঢেউয়ের মতো গতি, যা খাদ্যকে মুখগহ্বর থেকে পায়ুপথ পর্যন্ত এগিয়ে নিতে সাহায্য করে। (খ) হৃৎপিণ্ডের চারটি কপাটিকার নাম ও কাজ নিচে দেওয়া হলো: ১. ট্রাইকাসপিড কপাটিকা: এটি ডান অ্যাট্রিয়াম ও ডান ভেন্ট্রিকলের সংযোগস্থলে থাকে। এটি রক্তকে ডান অ্যাট্রিয়াম থেকে ডান ভেন্ট্রিকলে যেতে দেয় কিন্তু বিপরীত দিকে ফিরে আসতে বাধা দেয়। ২. বাইকাসপিড বা মাইট্রাল কপাটিকা: এটি বাম অ্যাট্রিয়াম ও বাম ভেন্ট্রিকলের সংযোগস্থলে থাকে। এটি রক্তকে বাম অ্যাট্রিয়াম থেকে বাম ভেন্ট্রিকলে যেতে দেয় কিন্তু বিপরীত দিকে ফিরে আসতে বাধা দেয়। ৩. পালমোনারি কপাটিকা: এটি ডান ভেন্ট্রিকল ও পালমোনারি ধমনির সংযোগস্থলে থাকে। এটি রক্তকে ডান ভেন্ট্রিকল থেকে পালমোনারি ধমনিতে যেতে দেয় কিন্তু বিপরীত দিকে ফিরে আসতে বাধা দেয়। ৪. অ্যাওর্টিক কপাটিকা: এটি বাম ভেন্ট্রিকল ও অ্যাওর্টার সংযোগস্থলে থাকে। এটি রক্তকে বাম ভেন্ট্রিকল থেকে অ্যাওর্টায় যেতে দেয় কিন্তু বিপরীত দিকে ফিরে আসতে বাধা দেয়। (গ) উদ্দীপকের প্রথম গ্রন্থিটি হলো যকৃত। যকৃতের গঠন নিচে বর্ণনা করা হলো: যকৃত উদর গহ্বরের উপরিভাগের ডানদিকে ডায়াফ্রামের ঠিক নিচে অবস্থিত মানবদেহের বৃহত্তম গ্রন্থি। এটি লালচে বাদামি রঙের এবং প্রধানত দুটি বড় লোব (ডান ও বাম) নিয়ে গঠিত। যকৃতের প্রতিটি লোব অসংখ্য ক্ষুদ্র ষড়ভুজাকার লোবিউল দ্বারা গঠিত। প্রতিটি লোবিউল গ্লিসনস ক্যাপসুল নামক যোজক কলার আবরণে আবৃত থাকে। লোবিউলের কেন্দ্রে একটি কেন্দ্রীয় শিরা থাকে এবং পরিধিতে হেপাটিক ধমনি, হেপাটিক পোর্টাল শিরা ও পিত্তনালির শাখা বিদ্যমান। যকৃতের ডান লোবের নিচে পিত্তথলি অবস্থিত। যকৃত থেকে নিঃসৃত পিত্তরস পিত্তনালির মাধ্যমে ডিওডেনামে উন্মুক্ত হয়। (ঘ) উদ্দীপকের দ্বিতীয় গ্রন্থিটি হলো অগ্ন্যাশয়। অগ্ন্যাশয়কে মিশ্রগ্রন্থি বলার কারণ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: যেসব গ্রন্থি একই সাথে বহিঃক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা উভয় ধরনের কাজ সম্পন্ন করে, তাদের মিশ্রগ্রন্থি বলে। অগ্ন্যাশয় এই দুই ধরনের কাজই করে: ১. বহিঃক্ষরা কাজ: অগ্ন্যাশয়ের অধিকাংশ কোষ (অ্যাসিনাস) বহিঃক্ষরা হিসেবে কাজ করে। এগুলো অগ্ন্যাশয় রস নিঃসরণ করে, যাতে ট্রিপসিন, অ্যামাইলেজ ও লাইপেজের মতো এনজাইম থাকে। এই এনজাইমগুলো নালির মাধ্যমে ডিওডেনামে পৌঁছে শর্করা, আমিষ ও স্নেহ জাতীয় খাদ্যের পরিপাকে অংশ নেয়। ২. অন্তঃক্ষরা কাজ: অগ্ন্যাশয়ের অভ্যন্তরে আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যানস নামক বিশেষ কোষগুচ্ছ থাকে। এই কোষগুলো নালিবহির্ভূতভাবে সরাসরি রক্তে ইনসুলিন ও গ্লুকাগন হরমোন নিঃসরণ করে, যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। যেহেতু অগ্ন্যাশয় এনজাইম নিঃসরণের মাধ্যমে বহিঃক্ষরা এবং হরমোন নিঃসরণের মাধ্যমে অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে, তাই একে মিশ্রগ্রন্থি বলা হয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - Viqarunnisa Noon School & College, Dhaka (2020)

মানবদেহের কিছু গ্রন্থি মধ্যচ্ছদার নিচে অবস্থান করে। এর মধ্যে একটি বহিঃক্ষরা গ্রন্থি এবং অপরটি মিত্রগ্রন্থি। এই দুইটি গ্রন্থি দেহের সমস্ত বিপাক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।

ক. পেরিস্টালসিস কী?

খ. হৃৎপিণ্ডের চারটি কপাটিকার নাম ও কাজ লিখ।

গ. উদ্দীপকের প্রথম গ্রন্থিটির গঠন বর্ণনা কর।

ঘ. উদ্দীপকের ২য় গ্রন্থিটি একটি মিশ্রগ্রন্থি"-যুক্তি দিয়ে বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।