Facebook Pixel

মানবদেহের কিছু গ্রন্থি নিঃসৃত জৈব রাসায়নিক পদার্থ “রাসায়নিক দূত” হিসেবে বিভিন্ন দৈহিক ও শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। দেহকে সচল ও কর্মক্ষম রাখতে এসব জৈব রাসায়নিক পদার্থের অতি অল্প মাত্রায় ক্ষরণ প্রয়োজন এবং এর অনিয়ন্ত্রিত ক্ষরণ বা ব্যবহার মানবদেহে নানা জটিল অবস্থার সৃষ্টি করে। ক. অর্গান অব কর্টি কী? খ. উপযোজন বলতে কী বুঝ? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ’’জৈব রাসায়নিক পদার্থ" ক্ষরণকারী তিনটি উৎস ও তাদের ক্ষরিত রসের নাম লিখ। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত “জৈব রাসায়নিক পদার্থ”-এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলাফল বর্ণনা কর।

বিষয়: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৮ঃ মানব শারীরতত্ত্বঃ সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ

উৎস: Test Exam Question GAHC 2020

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) অর্গান অব কর্টি হলো অন্তঃকর্ণের ককলিয়ার ভেতরে অবস্থিত শ্রবণ অঙ্গের একটি বিশেষ অংশ। বেসিলার ঝিল্লির ওপর অবস্থিত কিছু রূপান্তরিত এপিথেলিয়াল কোষ নিয়ে এটি গঠিত, যা শব্দতরঙ্গকে স্নায়বিক উদ্দীপনায় রূপান্তর করে। (খ) কোনো স্তন্যপায়ী প্রাণী দর্শনীয় বস্তু ও চোখের মধ্যবর্তী দূরত্ব অপরিবর্তিত রেখে বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থিত বস্তুকে স্পষ্টভাবে দেখার জন্য চোখের লেন্সের বক্রতা পরিবর্তন এবং পিউপিলের সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমে যে বিশেষ ধরনের পরিবর্তন ঘটায়, তাকে উপযোজন বলে। মানুষ দু'চোখকে একই বস্তুতে কেন্দ্রীভূত করে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। (গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত জৈব রাসায়নিক পদার্থ বলতে হরমোনকে বোঝানো হয়েছে। হরমোন অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। নিচে তিনটি গ্রন্থি ও তাদের নিঃসৃত হরমোনের নাম দেওয়া হলো: ১. পিটুইটারি গ্রন্থি: গ্রোথ হরমোন (GH)। ২. থাইরয়েড গ্রন্থি: থাইরক্সিন হরমোন। ৩. অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি: এপিনেফ্রিন হরমোন। (ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত জৈব রাসায়নিক পদার্থ বা হরমোনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার মানবদেহে মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলাফল নিচে বর্ণনা করা হলো: বৃদ্ধি হরমোন: এর অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে লিপিডের আধিক্য, ডায়াবেটিস, হূৎপিণ্ড বড় হয়ে যাওয়া (কার্ডিওমেগালি) এবং হাড়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটে। থাইরক্সিন হরমোন: এর অতিরিক্ত ক্ষরণ বা ব্যবহারে দ্রুত হৃদস্পন্দন, উদ্বেগ, খিটখিটে মেজাজ, ওজন কমে যাওয়া এবং ছদ্ম গলগণ্ড দেখা দিতে পারে। এপিনেফ্রিন হরমোন: এটি অতিমাত্রায় ব্যবহৃত হলে উচ্চ রক্তচাপ, মাথাব্যথা, ঝাপসা দৃষ্টি, বুকব্যথা এবং হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা সৃষ্টি হয়। টেস্টোস্টেরন: এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে দুর্বলতা, নিদ্রালুভাব, মনোযোগহীনতা, শুক্রাশয়ে ব্যথা এবং মূত্রতন্ত্রের জটিলতা দেখা দিতে পারে। এস্ট্রোজেন: নারীদের ক্ষেত্রে এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে স্তন দৃঢ় হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত রক্তস্রাব, মাথাব্যথা, বমিভাব এবং মানসিক অস্থিরতা দেখা দেয়। ইনসুলিন: ইনসুলিনের অতিরিক্ত ব্যবহার অবসাদ, মাথাব্যথা, ক্ষুধা বৃদ্ধি, স্নায়বিক দুর্বলতা, দ্রুত হৃদস্পন্দন এবং খিঁচুনির মতো জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। পরিশেষে বলা যায়, হরমোন শরীরের শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার মানবদেহের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করে নানা রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - Govt. Azizul Haque College, Bogura (2020)

মানবদেহের কিছু গ্রন্থি নিঃসৃত জৈব রাসায়নিক পদার্থ “রাসায়নিক দূত” হিসেবে বিভিন্ন দৈহিক ও শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। দেহকে সচল ও কর্মক্ষম রাখতে এসব জৈব রাসায়নিক পদার্থের অতি অল্প মাত্রায় ক্ষরণ প্রয়োজন এবং এর অনিয়ন্ত্রিত ক্ষরণ বা ব্যবহার মানবদেহে নানা জটিল অবস্থার সৃষ্টি করে।

ক. অর্গান অব কর্টি কী?

খ. উপযোজন বলতে কী বুঝ?

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ’’জৈব রাসায়নিক পদার্থ" ক্ষরণকারী তিনটি উৎস ও তাদের ক্ষরিত রসের নাম লিখ।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত “জৈব রাসায়নিক পদার্থ”-এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলাফল বর্ণনা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।