Facebook Pixel

মানবদেহকে সুস্থ-সবল রাখতে বিভিন্ন শ্রেণির অ্যান্টিবডি গুরুদায়িত্ব পালন করে। প্লাজমা B-কোষ প্রতি সেকেন্ডে হাজার হাজার অ্যান্টিবডি সৃষ্টি করে। একটি মানুষের সমগ্র জীবনে এটি প্রায় ১০০ মিলিয়ন ধরনের উৎপন্ন হয়। ক. ইন্টারফেরন কী? ১ খ. স্মৃতিকোষ বলতে কী বোঝ? ২ গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রোটিনের গঠন বর্ণনা করো। ৩ ঘ. উদ্দীপকে উল্লেখিত রাসায়নিক পদার্থ যে রক্ষণাত্মক ভূমিকা পালন করে তা ব্যাখ্যা করো। ৪

বিষয়: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-১০ঃ মানবদেহের প্রতিরক্ষা (ইমিউনিটি)

উৎস: অনুশীলনীর প্রশ্ন আজমল স্যার

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) ইন্টারফেরন হলো ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত কোষ থেকে নিঃসৃত এক ধরনের গ্লাইকোপ্রোটিন, যা পার্শ্ববর্তী সুস্থ কোষকে ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। (খ) স্মৃতিকোষ বা মেমোরি কোষ হলো লিম্ফোসাইটের একটি বিশেষায়িত রূপ, যা কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনের সংস্পর্শে আসার পর দীর্ঘ সময় দেহে টিকে থাকে। যখন একই অ্যান্টিজেন পুনরায় দেহে প্রবেশ করে, তখন এই কোষগুলো দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিবডি তৈরি করে রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। এগুলো অনেক বছর এমনকি সারা জীবনও দেহে বেঁচে থাকতে পারে। (গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রোটিনটি হলো অ্যান্টিবডি বা ইমিউনোগ্লোবিউলিন। B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপন্ন প্লাজমা কোষ এই অ্যান্টিবডি তৈরি করে। অ্যান্টিবডির গঠন নিচে বর্ণনা করা হলো: ১. পলিপেপটাইড শৃঙ্খল: প্রতিটি অ্যান্টিবডি অণু চারটি পলিপেপটাইড শৃঙ্খল নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে দুটি বড় বা ভারী (Heavy chain) এবং দুটি ছোট বা হালকা (Light chain) শৃঙ্খল থাকে। ২. ডাইসালফাইড বন্ড: শৃঙ্খলগুলো একে অপরের সাথে ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে যুক্ত থাকে। সাধারণত Y আকৃতির অ্যান্টিবডির ভারী শৃঙ্খল দুটির মাঝে এবং ভারী ও হালকা শৃঙ্খলের সংযোগস্থলে এই বন্ডগুলো থাকে। ৩. অঞ্চলসমূহ: অ্যান্টিবডির Y আকৃতির দুই বাহুর প্রান্তীয় অংশটি পরিবর্তনশীল (Variable region), যা নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনকে শনাক্ত ও আবদ্ধ করতে সাহায্য করে। এই অংশটিকে প্যারাটপ বলা হয়। অন্যদিকে, দীর্ঘ দণ্ডাকৃতির অংশটি স্থায়ী (Constant region) প্রকৃতির হয়। (ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত রাসায়নিক পদার্থটি হলো অ্যান্টিবডি। মানবদেহের রোগ প্রতিরোধে অ্যান্টিবডি প্রধানত তিনটি পদ্ধতিতে রক্ষণাত্মক ভূমিকা পালন করে: ১. প্রত্যক্ষ আক্রমণ: অ্যান্টিবডি সরাসরি রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুর অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে তাদের স্তূপীকরণ (Agglutination) ঘটায় এবং অধঃক্ষিপ্ত করে। এছাড়া জীবাণুর বিষাক্ত অংশকে আবৃত করে (Neutralization) এবং কোষঝিল্লি ধ্বংস করে জীবাণুকে অকার্যকর করে ফেলে, যা পরবর্তীতে ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় ভক্ষণ করা হয়। ২. কমপ্লিমেন্ট সিস্টেম সক্রিয়করণ: অ্যান্টিবডি কমপ্লিমেন্ট প্রোটিনকে সক্রিয় করার মাধ্যমে অপসোনাইজেশন (Opsonization) ঘটায়, যা জীবাণুকে ফ্যাগোসাইটোসিসের জন্য সহজতর করে তোলে। এছাড়া এটি ভাইরাসের প্রশমন এবং মাস্টকোষ ও বেসোফিল কোষকে সক্রিয় করে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করে। ৩. সংক্রমণ বিস্তার রোধ: অ্যান্টিবডি প্রদাহজনিত সাড়াকে ত্বরান্বিত করে। প্রদাহের ফলে আক্রান্ত স্থানে রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি পায় এবং রক্তকণিকাগুলো জীবাণু ধ্বংস করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে, ফলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে না। এভাবে অ্যান্টিবডি বিভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানবদেহকে রোগমুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenঅনুশীলনীর প্রশ্ন - আজমল স্যার

মানবদেহকে সুস্থ-সবল রাখতে বিভিন্ন শ্রেণির অ্যান্টিবডি গুরুদায়িত্ব পালন করে। প্লাজমা B-কোষ প্রতি সেকেন্ডে হাজার হাজার অ্যান্টিবডি সৃষ্টি করে। একটি মানুষের সমগ্র জীবনে এটি প্রায় ১০০ মিলিয়ন ধরনের উৎপন্ন হয়।

ক. ইন্টারফেরন কী? ১

খ. স্মৃতিকোষ বলতে কী বোঝ? ২

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রোটিনের গঠন বর্ণনা করো। ৩

ঘ. উদ্দীপকে উল্লেখিত রাসায়নিক পদার্থ যে রক্ষণাত্মক ভূমিকা পালন করে তা ব্যাখ্যা করো। ৪

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।